১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচকের বৃদ্ধি অব্যাহত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর চাহিদা বাড়ার দিনে বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেড়েছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতিবারে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪২১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ কোটি ১৬ লাখ টাকা কম। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৪৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩১৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬০টির, কমেছে ১০৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টির শেয়ার দর।

সকালে ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরুর পরে ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্য সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৮১২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ১৮৬ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৪০ পয়েন্টে।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা দশ কোম্পানি হলোÑ স্কয়ার ফার্মা সিটিক্যালস লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, গ্রামীণফোন, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

ডিএসইর দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, সুহৃদ ইন্ড্রাস্টিজ, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, দ্বিতীয় আইসিবি, এ্যামবে ফার্মা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, মুন্নু স্টাফলারস, মুন্নু সিরামিক, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড এবং ন্যাশনাল ফিড মিলস।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো : কে এ্যান্ড কিউ, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস, নদার্ন জুটস, এ্যাপেক্স ফুডস, অলটেক্স, ন্যাশনাল টি, ইবনে সিনা, এশিয়া প্যাসিফিক, এ্যাপেক্স ট্যানারি ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড।

এদিকে ঢাকার মতো দেশের অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জেও সব ধরনের সূচকই বেড়েছে। সেখানে আগের দিনের তুলনায় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জে ২৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এদিন সিএসই সার্বিক সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭২৫ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৯টির, কমেছে ১০৬টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টির।

চিক টেক্সটাইলের মামলার রায় ৩১ আগস্ট

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারিতে কৃত্রিমভাবে চিক টেক্সটাইলের শেয়ারের দর বাড়ানো মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ৩১ আগস্ট। পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুমায়ুন কবীর রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক শেষ করার পর রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন তিনি।

বৃহস্পতিবারও চিক টেক্সটাইলের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা খান।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সিনিয়র আইনজীবী নিয়োগ না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারক। বিএসইসিকে জানানোর পরও নিয়োগ না দেয়ায় এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, বৃহস্পতিবার চিক টেক্সটাইলের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সব কিছুই উঠে এসেছে। আশা করছি আসামিরা সর্বোচ্চ সাজা পাবে।

চিক টেক্সটাইলের শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার আসামিরা হলেন- কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাকসুদুর রসূল ও পরিচালক ইফতেখার মোহাম্মদ। এছাড়া মামলায় চিক টেক্সটাইল কোম্পানিকেও আসামি করা হয়। বিশেষ আদালতে মামলা শুরু হলেও আসামিদের কেউই আদালতে হাজির ছিলেন না, কিংবা তাদের পক্ষে কোন আইনজীবীও আদালতে ছিলেন না।

১৯৯৬ সালে চিক টেক্সটাইলের শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর অভিযোগে আসামি দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। পরবর্তী সময়ে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। কিন্তু বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ শুরু হওয়ার পর আদালতে হাজিরা না দেয়ায় গত ২৮ জুন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।