২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চার কোটি টাকার চাল ॥ ৮ কোটির ভাউচার

  • টিআর প্রকল্প

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ২৭ আগস্ট ॥ জেলার ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের শেষে বরাদ্দ পাওয়া এক হাজার ৩৮৪টি টিআর প্রকল্পে দুই হাজার ৭শ’ ১৮ টন চাল বাজার মূল্যের দিগুণেরও বেশি ভাউচার করা হয়েছে। অর্থাৎ এটিআর প্রকল্পের চাল চার কোটি ৪৩ লাখ টাকায় বিক্রি করা হলেও আট কোটি ৭০ লাখ টাকার ভাউচার দাখিল করেছেন প্রকল্প কমিটির সদস্যরা। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারী কোন নিয়ম-নীতিই মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাবনা জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত ২০১৪Ñ২০১৫ অর্থবছরের শেষে জেলার নয়টি উপজেলার ৭৩টি ইউনিয়ন ও নয়টি পৌরসভা এলাকায় এক হাজার ৩৮৪টি টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পে দুই হাজার ৭শ’ ১৮ মেট্রিক টন চাল-গম বরাদ্দ দেয়া হয়। অভিযোগে জানা যায়, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেয়া টেস্ট রিলিফের দুই হাজার ৭শ’ ৮১ টন চাল কথিত চাল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে চার কোটি ৪৩ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। কিন্তু সরকারী নিয়ম মানতে গিয়ে প্রায় আট কোটি ৭০ লাখ টাকার ভাউচার দাখিল করা হয়েছে।

গত অর্থবছরের জুনের শেষ দিন পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া চালের হিসাব মিলাতে গিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা স্ব স্ব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ওই ভুয়া ভাউচার দাখিল করেন।

প্রকল্প কমিটিতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া প্রতি টন চাল কথিত চাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছে বিক্রি করতে হয়। চালের মূল্য নির্ধারণ করে দেয় সিন্ডিকেট সদস্যরা। সরকার প্রতিটন যে চাল ৩২ হাজার টাকায় ক্রয় করে, সেই চালই টিআর কাবিখা প্রকল্পের ডিও বিক্রিতে প্রতি টনের দাম দেয়া হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। প্রতি টনে সরকারী হিসেবে ১৭ হাজার টাকা করে কম দেয়া হচ্ছে।

এভাবেই সিন্ডিকেট সদস্যরা ডিও কেনা-বেচায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেড়া উপজেলার রূপপুর, ঢালারচর, চাকলা, হাটুরিয়া-নাকালিয়া ও সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা, গৌরিগ্রাম, ধুলাউড়ি ইউনিয়নের টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের সভাপতিরা নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৎপর রয়েছে। তাদের বেঁধে দেয়া দামে প্রকল্প কমিটিকে ডিওর চাল বিক্রি করতে। অন্যথ্যায় হয়রানির শিকার হতে হয়। ফলে এক টন চাল ১৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে সরকারী নিয়ম মানতে গিয়ে অনৈতিকভাবে ৩২ হাজার টাকার ভুয়া ভাউচার দাখিল করতে হয়েছে।

এ বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। কিন্তু প্রশাসন থেকে এই সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না। সাঁথিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিদুল ফারুক জানিয়েছেন, শুধু সরকারী নিয়ম মানতে গিয়ে প্রকল্প কমিটিগুলোকে প্রাপ্ত অর্থের দ্বিগুণের বেশি টাকার ভাউচার দাখিল করতে হয়েছে। পাবনা জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, সরকারী নিয়ম মেনেই প্রকল্প কমিটিগুলোকে কাজ করতে হয়।