২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোলায় মহাসড়ক ভেঙ্গে ঢুকছে পানি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা, ২৭ আগস্ট ॥ অবশেষে ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কে পানি উন্নয়ন বোর্ড রক্ষা করতে না পারায় রাস্তা ভেঙ্গে লোকালয়ে মেঘনার পানি প্রবেশ করেছে। এতে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে জোয়ারের পানিতে ইলিশা রাজাপুর চডার মাথা এলাকায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে মেঘনার স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় ভোলার ইলিশার কয়েক হাজার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অসহায় মানুষ অর্থ ও শ্রমিকের অভাবে ভাঙ্গনের মুখ থেকে ঘরবাড়ি, গাছপালা, আসবাব সরানোর আগেই মেঘনায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে মালামাল পানির দরে বিক্রি করছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভোলার ইলিশা মুরাদসফুল্লা-কালুপুর থেকে দক্ষিণ রাজাপুরের ঢালিরখাল পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা সমানহারে ভাঙছে। মাত্র তিন দিনে দুই বর্গকিলোমিটার এলাকা ভেঙ্গে মেঘনা লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। গত এক মাসে বিলীন হয়েছে ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার সম্পূর্ণ অংশ, ইলিশা ফেরিঘাট, চডারমাথা বাজার, মসজিদ ও ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কয়েক শ’ একর ফসলি জমি। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আমির হোসেন জানান, ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের চডারমাথা এলাকার রাস্তা ভেঙ্গে বৃহস্পতিবার লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে যায়। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

গাইবান্ধায় অবনতি

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা থেকে জানান, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি ও সদর উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়ার পানি ১০ সে. মি. বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ৩৪ সে. মি. এবং ব্রহ্মপুত্র ১ সে. মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।

করাতোয়া নদীর পানি অব্যাহত থাকায় গোবিন্দগঞ্জের পৌর এলাকার চক গোবিন্দ, খলসির চাঁদপুর, সাহাপাড়া, খলসি, আরজি খলসি, কাইয়াগঞ্জ, কুটিবাড়ি, বোয়ালিয়া, কালিকাডোবা, তরফমনু, রহিমাপুর, তালুকসহ মহিমাগঞ্জ, দরবস্ত, তালুককানুপুর, ফুলবাড়ি, শালমারা, রাখালবুরুজ, হরিরামপুর ও সাপমারা ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা এখন বন্যাকবলিত।

এদিকে বন্যার পানির তোড়ে মহিমাগঞ্জের বোচাদহ গ্রামসংলগ্ন বালুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় শিবপুর কোচাশহর ও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা নতুন করে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে এবং ফসল তলিয়ে গেছে।

এয়াড়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সাব রেজিস্ট্রার অফিস চত্বর, মহিলা কলেজ এবং উপজেলা পরিষদ ভবনসংলগ্ন কুটিবাড়িও এখন বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, জেলার ৬ উপজেলায় বন্যাকবলিত হওয়ায় ৩ হাজার ৫শ’ ৪৯ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ও আমন ধান এবং সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬টি উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়নের ২১৩ গ্রামের ১ লাখ ৩৫ হাজার ১০২ জন মানুষ এখন পানিবন্দী। এ পর্যন্ত বন্যা দুর্গত এলাকায় বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ১শ’ ৩০ মে. টন চাল ও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।