২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৃত্যুশয্যায় বঙ্গবন্ধুভক্ত পার্বতীপুরের হাশেম

নিজস্ব সংবাদদাতা, পার্বতীপুর, ২৭ আগস্ট ॥ হকার্স লীগের হাশেম নামে পার্বতীপুর শহরের সবাই তাকে চেনে। তার পুরো নাম হাশেম আলী। ধোবীপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। প্রগতিশীল চেতনার ত্যাগী এ মানুষটির শেষ জীবনে ঘটেছে চরম বিপর্যয়, করুণ পরিণতি। স্ত্রী, পুত্র-কন্যাদের হারিয়ে নিঃসঙ্গ। আর্থিক সঙ্কট ও রোগে-শোকে গুরুতর অসুস্থ। পাশে কেউ নেই। বৃহস্পতিবার সকালে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ং স্টার ক্লাবের পরিচালক আমজাদ হোসেন হঠাৎ পার্বতীপুর রেলস্টেশনে পায়খানা-প্রস্রাবের মধ্যে বাকশক্তি রহিত অবস্থায় হাশেমকে পড়ে থাকতে দেখে হতভম্ভ হয়ে যান। নড়াচড়ার শক্তি নেই।

শরীরে পায়খানা-প্রস্রাব। এগুলো পরিষ্কার করে কাপড়-চোপড় পরিবর্তন করে প্রথমে রেল হাসপাতাল ও পরে ল্যাম্ব হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

মিয়ানমার থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা ৬৮ দালালের নাম বলেছে

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ মিয়ানমার থেকে পঞ্চম দফায় ফেরত আনা এক শ’ বাংলাদেশীকে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এর আগে রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে ২৫ কিশোরকে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার থেকে ফিরিয়ে আনা ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে ১৪ জেলার ৬৮ দালালের নাম বলেছেন। একজন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এসব দালালের বিরুদ্ধে ১৪টি জেলায় মামলা দায়ের করা হবে। মঙ্গলবার মিয়ানমারের ঢেকিবনিয়ায় পতাকা বৈঠক শেষে এসব ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনে বিজিবি। এ পর্যন্ত মিয়ানমারের জলসীমায় উদ্ধার হওয়া ৬২৬ বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে আনা হলো। ওইসব অভিবাসী প্রত্যাশীকে ফিরিয়ে আনার খবর পেয়ে স্বজনহারাদের অনেকে ভিড় করেছে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। তারা খবর নিচ্ছে আগত ১২৫ জনের মধ্যে তাদের নিখোঁজ সন্তানের দেখা মেলে কি না। কাক্সিক্ষত স্বজনের খোঁজ না পেয়ে নিরাশ হয়ে তারা ঘরে ফিরে যাচ্ছে। গত শুক্রবার থাইল্যান্ড সীমান্তের মালয়েশিয়া পাহাড়ে ফের গণকবরের সন্ধান লাভের খবর ছড়িয়ে পড়ায় কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বজনহারা পরিবারগুলোতে এখন শুধু কান্নার রোল। অনেকে উপার্জনকারী সন্তান, অসহায় বোন ভাইকে, স্ত্রী তার স্বামী এবং রেখে যাওয়া অবুঝ সন্তানরা তাদের বাবাকে হারিয়ে এখন নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মালয়েশিয়াগামী ও পরবর্তীতে নিখোঁজ যুবকদের সংখ্যা নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও জেলার ৮টি উপজেলার এমন কোন গ্রাম নেই, যেখানে দালালের প্রলোভনে পড়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া রওনা দেয়নি। বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে একাধিক দালাল নিয়োজিত রেখে মানবপাচারকারী গডফাদারগণ লোক সংগ্রহ করে মালয়েশিয়া পাচার করেছে ঢালাওভাবে। দালাল চক্রের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে বেশি উপার্জনের আশায় মালয়েশিয়া যাত্রা করে এদের মধ্যে এ পর্যন্তও অনেকের সন্ধান মিলছে না।

ওইসব স্বজনহারা অভিভাবক না পারছে পুত্র শোক সইতে, না পারছে দালালদের হাতে তুলে দেয়া টাকার দেনা শোধ করতে। আবার ওইসব গডফাদার ও তাদের নিয়োজিত সন্ত্রাসীর হুমকির মুখে নালিশ বা মামলা দিতেও পারছে না প্রশাসনের কাছে। এক বুক জ্বালা নিয়ে নীরবে-নিভৃতে দিন কাটাচ্ছে স্বজনহারা বহু পরিবার। পুত্র, ভাই ও স্বামীর সন্ধানে অনেকে এখনও ছুটে আসছে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। থাই সীমান্তে ফের গণকবরের সন্ধান ও সেখানে উদ্ধার হওয়া ২৪ জনের লাশে বাংলাদেশীদের মধ্যেও কেউ থাকতে পারে ধারণায় স্বজনহারা পরিবারগুলোর কান্নার রোল বয়ে চলছে। ছেলে হারানো মাদের অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ছে বার বার। কক্সবাজারের প্রশাসন গত তিন মাসে অভিযান চালিয়ে শরিফ হোছন সর হোছন নামে এক গডফাদারসহ অর্ধ শতাধিক দালালকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারীরা অনেকে এলাকায় ফিরতে শুরু করছে। বিভিন্ন এলাকার বহু যুবক-কিশোরের সন্ধান না পেয়ে তাদের বাড়িঘরে মা-বোনদের বিলাপ না থামলেও দালাল চক্রের অনেকে মুক্তিপণের টাকায় কোটিপতি বনে সুদিনে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সাবেক মেম্বার জানান, বার্মাইয়া হাছু দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় আদম পাচার করছে। উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজারে তার বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। ওই সিন্ডিকেট মালয়েশিয়া লোক পাচার করে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া