২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুরুষদের কেন বেশি গরম লাগে

কর্মস্থলের তাপমাত্রা অর্থাৎ গরম লাগা বা ঠা-া লাগার অনুভূতি পুরুষদের থেকে নারীদের ভিন্ন রকম। ঘরের এক ধরনের তাপমাত্রায় নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, আবার তা থেকে ভিন্ন তাপমাত্রায় পুরুষরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে কেন? তাপমাত্রায় আরামবোধ করার ক্ষেত্রে এই যে পার্থক্য বা তারতম্য এর কি কোন ব্যাখ্যা আছে।

এর উত্তর খুঁজে বের করার জন্য হল্যা-ের দুই বিজ্ঞানী এক গবেষণা চালান। তাতে দেখা যায়, মেয়েরা খুব জলদি ঠা-া বোধ করে। তারা পুরুষের তুলনায় আড়াই ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বেশি তাপমাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ২৪ থেকে ২৫ ডিগ্রীতেই তারা আরাম পায় তাই দেখা যায় একই তাপমাত্রায় পুরুষরা অফিসরুমে ঢুকেই এসি ছাড়ার জন্য হাত বাড়ায় আর মেয়েদের কেউ কেউ কার্ডিগান গায়ে দেয়। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো, নারী ও পুরুষের বিপাক ক্রিয়ার গড় হার ও শরীরের তাপ উৎপাদনের মধ্যে তারতম্য আছে। সে জন্যই পরিবেশের তাপমাত্রায় নারী ও পুরুষের আরামবোধ করার ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখা দেয়। শরীরের বিপাকক্রিয়া দৈহিক বৃদ্ধি এবং তাপসহ শক্তি উৎপাদনের জন্য দায়ী। আমরা যখন বিশ্রামে থাকি সে সময়কার বিপাকক্রিয়ার যে হার থাকে, সেটি হলো প্রতি ইউনিট সময়ে শক্তি বা এনার্জি ব্যয় হওয়ার ন্যূনতম হার। সমীকরণের একটা মানসম্মত সেট দিয়ে এটা হিসেব করা হয়। সেই হিসেবে দেখা যায়, মেয়েদের বিপাকক্রিয়ার হার পুরুষদের তুলনায় কম। এটা অবশ্য গড়পড়তা হিসেব।

ব্রিটিশ অধ্যাপক পল থর্নালি বলেন, বিশ্রামে থাকাকালে বিপাকক্রিয়ার হার নির্ণয়ের একটা বড় নির্দেশক হলো মানুষের শরীরের মেদমুক্ত ‘বডি ম্যাস’। বিশ্রামরত অবস্থায় নারী ও পুরুষের বিপাকক্রিয়ার হারের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ শতাংশ পার্থক্য এর দ্বারাই নির্ধারিত হয়। যেহেতু মেদমুক্ত ‘বডি ম্যাস’ নারীর তুলনায় পুরুষের বেশি থাকে, তাই বিশ্রামরত অবস্থায় তাদের বিপাকক্রিয়ার হার বেশি। মেদমুক্ত বড়ি ম্যাস বলতে মেদ বাদে ত্বক, হাড়গোড় ও মাংশপেশীসহ শরীরের সকল অংশকে বোঝায়। যকৃত, মস্তিষ্ক বৃক্ক, হৃৎপি-ও এর অন্তর্গত। দেহের এই প্রধান প্রধান অঙ্গেই সর্বাধিক পরিমাণ এনার্জি বা শক্তি ব্যয়িত হয়।

থর্নালি বলেন, মানুষের শরীরে দু’ধরনের চর্বি বা মেদ আছেÑ শ্বেত চর্বি ও বাদামি চর্বি। শ্বেত চর্বিতে শরীরের বাড়তি ক্যালরি মজুদ থাকে। আর বাদামি চর্বি তাপ উৎপাদন করে। বিশ্রামরত অবস্থায় তাপ উৎপাদনের কাজটা এই বাদামি চর্বিতেই ঘটে। এই তাপ উৎপাদন যে প্রক্রিয়ায় ঘটে, তাকে বলা হয় থার্মোজেনেসিস। এটা থাইরয়েড হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং বিশেষ করে পুরুষের ক্ষেত্রে বিশ্রামরত অবস্থায় বিপাকক্রিয়ার হারের অধিকতর তারতম্যের কারণ ঘটাতে পারে। সোজা কথায়, বডি ম্যাস থেকে তাপ উৎপন্ন হয় এবং বডি ম্যাস যত বেশি হবে তাপ উৎপন্নও তত বেশি হবে। সেই কারণে অধিকতর বড়ি ম্যাসের অধিকারী হওয়ায় পুরুষদের শরীরে অপেক্ষাকৃত বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। তাই দেখা যায়, গড়পড়তা হিসেবে পুরুষরা নারীদের মতো সহজে ঠা-া অনুভব করে না। আবার অন্যদিকে গরমের মাসগুলোতে তাদের গরম সহ্য করার ক্ষমতা কমে যায়। কারণ তাদের শরীরে তখন বিশ্রামরত অবস্থায় বিপাকক্রিয়ার হারে অধিকতর তাপ উৎপন্ন হয়। সে কারণে তারা তাড়াতাড়ি উষ্ণতা বোধ করে। তাবে থর্নালি এও বলেছেন যে, সবার ক্ষেত্রে যে একই ব্যাপার হবে তা নয়। কিছু কিছু পুরুষের বিপাকক্রিয়ার হার কিন্তু মহিলার চেয়ে কম থাকে।

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক