১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইতালীয় ফ্যাশনের প্রতি রাশিয়ানদের আগ্রহ

পশ্চিমা ফ্যাশন এবং বুটিকের প্রতি গোড়ার দিকে সাধারণ রাশিয়ান এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর ছিল অহেতুক ঘৃণা এবং সন্দেহপ্রবণতা। ইউরোপের প্রতি এমন ঘৃণা এবং তাচ্ছিল্য থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন এক নায়কতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ইতালীয় কাপড় ও ফ্যাশনের প্রতি তৎকালীন সম্ভ্রান্ত পরিবার এবং জারদের ছিল প্রচ- আগ্রহ। রাশিয়ান কোর্ট কিংবা চার্চের বিভিন্ন এর উদাহরণ অহরহ। রাশিয়ার সেন্টপিটার্সবার্গ এবং মিউজিয়ামগুলোয় সেটি পাঁচ হাজারের বেশি ইতালীয় বস্ত্র, পোশাক কিংবা অন্যান্য কাপড়ের বিশাল সংগ্রহশালা রয়েছে। সম্প্রতি ১৪ শতক থেকে ১৮ শতক পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা শাসকদের পোশাক নিয়ে এক নিরীক্ষায় এই তথ্য জানা যায়। ইতালীয় পোশাকের প্রতি জারদের যে আকর্ষণ তার প্রমাণ পাওয়া যায় নানা প্রদর্শনীতে। এসব প্রদর্শনীতে ইতালীয় সিল্ক, পেইন্টেড ডিজাইনসহ অন্যান্য উপকরণ স্থান পায়। প্রদর্শনীর প্রথমে উন্মোচন করা হয় অসাধারণ আভিজাত্যপূর্ণ ইতালীয় সিল্ক কাপড়ের। ইতালির তৎকালীন সমৃদ্ধ শহর ভেনাস, ফ্লোরেন্স এবং লুকায় এই ধরনের সিল্ক কাপড়ের কারখানা গড়ে ওঠে। বিখ্যাত সব চিত্রকরের ডিজাইন করা এই পোশাকসমূহের খ্যাতি তখন ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় ভাগে ইতালীয় কাপড়ের ইতিহাস প্রকাশ করা হয়। ১৪৭৫ সালের আগে যখন অটোমানরা ক্রিমিয়া আক্রমণ করে তখন রাশিয়ানরা পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলে। সেই থেকে রাশিয়ানদের সিল্কের প্রতি ছিল অন্যরকম আগ্রহ। সেই সময়টাতে রাশিয়ায় কোন বস্ত্র কারখানা স্থাপিত হয়নি। তাই অভিজাত শ্রেণীর মানুষদের একমাত্র ভরসা ছিল ইতালীয় কাপড়ের ওপর।

মখমলের পোশাক, বুটিদার রেশমি কাপড়, উচ্চমার্গের অন্তর্বাস যেখানে ইউরোপিয়ান লজ্জা এবং কারুকার্য পরিপূর্ণ মূলত সেই সব পোশাক প্রদর্শনীতে স্থান পায়। এ ছাড়া ১৬ শতক থেকে ১৮ শতকের বিভিন্ন চিত্রকলাও এই প্রদর্শনীতে প্রদর্শন করা হয়। পশ্চিমা পোশাকের প্রতি রাশিয়ানদের আকর্ষণ নেই বললেই চলে, তবে ইতালীয় সিল্ক ফেব্রিক্স পায়ের গোড়ালি অবধি বুটিদার রেশমি কাপড়ের প্রতি তাদের ছিল অসম্ভব আগ্রহ। রাশিয়ানরা উজ্জ্বল রং বেশি পছন্দ করত। সুন্দর এবং জীবন্ত কারুকার্যপূর্ণ সাদা-কালো এইসব পোশাকের প্রতি তাদের আকর্ষণ সত্যিই বিস্ময়কর। স্বর্ণ কিংবা হীরার পাথর স্থাপন করা হতো এই জমকালো পোশাকে। ১৫ এবং ১৬ শতাংশ ইউরোপের অভিজাত শ্রেণীর পোশাক হিসেবে গণ্য করা হতো এইসব পোশাক।

ইতালীয় পোশাকের এই গ্রহণযোগ্যতা এবং ব্যাপ্তি সত্ত্বেও ১৭ শতকের আগ পর্যন্ত রাশিয়ান কোর্ট ইতালিয়ান সিল্ক ব্যবহার করা হতো না। পিটার দি গ্রেট প্রথম জার যিনি প্রথম পশ্চিমা পোশাকের প্রতি আকৃষ্ট হন। তবে জার ফিওডরের আগ্রহ ছিল ইউরোপিয়ান পোশাকের প্রতি। রাশিয়ার তৎকালীন সামন্ততান্ত্রিক সমাজের সকলেই নিজেদের আভিজাত্য প্রকাশের জন্য এমন পোশাককে বেছে নিত। এইসব পোশাক সাধারণ রুশ থেকে তাদের আলাদা রুচিবোধের পরিচয় বহন করত।

ফ্যাশন ডেস্ক