২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অগত্যা

  • হাজেরা নজরুল

মিসেস হাসিনা রহমানকে চেনেন না এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুব কম। একজন সমাজসেবিকা হিসেবে তার সুখ্যাতি বেশ সুপরিচিত। এহেন, হাসিনা রহমান ‘বেশ কিছুদিন’ যাবত তার বাধাধরা সকল প্রকার সমাজকর্ম হতে ছুটি নিয়ে শয্যাশায়ী। তার দুটি সন্তান ‘যারা’ কদাচিৎ ডুমুরের ফুলের মতো মাকে ঘরে উদিত হতে দেখেছে তারাও মায়ের এহেন অসামাজিক আচরণে উদ্বিগ্ন- ব্যথিত কিন্তু সাহস নেই। পিতৃহীন সন্তান দুটি ঝি-চাকরের তত্ত্বাবধানেই মানুষ। মাকে ছোট হতে ভয় পাওয়া ছাড়া তারা মায়ের অন্যরূপ জানে না। মা একজন সমাজসেবিকা। তাদের মা সাধারণ মায়ের মতো শুধু হাঁড়ি ঠেলতে জন্মাননি। এটা তারা জানে। অবশেষে অনেক সাহস করে ঝি জুলেখায় মার কাছে এসে সেদিন প্রশ্ন রাখল- আম্মা আপনের কি শরীর খারাপ? ডাক্তার ডাকুম।

না। শঙ্কিত প্রশ্নের এমন শীতল জবাবে জুলেখার মা কেমন যেন থতমতিয়ে গেল। দ্বিতীয় প্রশ্নের সাহস হলো না। কয়েকদিন পর বেগম সকিনা বেড়াতে ্এলেন। তিনি মিসেস হাসিনা রহমানের একজন ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। মাঝখানে কিছুদিন জাপান ট্যুরে গিয়েছিলেন। এসে নিরুদ্দিষ্ট বান্ধবীর খোঁজখবর করতে ছুটে এলেন। বব কাট, খাটো ব্লাউজ পরিহিতা ব্যস্ত সকিনা হাসিনার চাইতে কয়েকগুণ বেশি প্রগতিশীল। হাসিনার স্থির নিরাসক্ত চোখের তারায় বান্ধবী দর্শনে কিঞ্চিত কাঁপান নাচল। বান্ধবী প্রশ্ন করে কেমন আছিস হাসি। কোথাও যাচ্ছিস না- কি ব্যাপার! কি হয়েছে? কোন অনুষ্ঠানেই যাচ্ছিস না আজাকাল?

‘কিছু না।’

‘নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে লুকাস না। আমাকে বল-’

হাসিনা চাপতে চেষ্টা করেন তারপর তার স্বভাবের ব্যতিক্রম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

কি হযেছে হাসিনা মন খারাপ শারীরিক...।

‘না। ও সব কিছু নয়।’

‘তবে...’

‘আমি...আমি না জেনে মিষ্টি খেয়ে ফেলেছি।’

‘বোকা নাকি। মিষ্টি তুই তো আগাগোড়াইই পছন্দ করিস। মিষ্টি খেয়েছিস তো কি হয়েছে... তোর কি ডায়াবেটিস হয়ে গেছে এর মধ্যে?

না ডায়াবেটিস হয়নি।

তবে মিষ্টি খেয়ে এত মন খারাপের কি হয়েছে। বোকা নাকি?

তুই বোকা নাকি? আমি গত এক মাস ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মিষ্টি খেয়েছি। তেজস্ক্রিয় দুধের মিষ্টি।

তেজস্ক্রিয় দুধ! সেটা আবার কি?

ওঃ তাইতো তুই তো দেশে ছিলি না। জানবি কোত্থেকে?

চিটাগাং বন্দর হতে অনেক তেজস্ক্রিয় দুধ গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এবং এটা কয়েকদিন আগের ঘটনা নয় কয়েক মাসের ঘটনা। এবং ইতোমধ্যে তুইতো জাসিস এ সময়েই সোস্যাল কনফারেন্স ইত্যাদি বেশি অনুষ্ঠিত হয়েছে আর কোন অনুষ্ঠানে মিষ্টি নেই? এবার সন্দেহ হয়নি। বরঞ্চ আনন্দ পেয়েছি যে ওরা খাচ্ছে না বলে আমার ভাগ্যে দুটো মিষ্টি বেশি পড়ছে। এইমাত্র সাতদিন আগে একজন এক হাঁড়ি দই আনল। আমি প্রায় সব নিজেই শেষ করেছি। ওদের দিয়েছি একটু একটুÑ পরদিন ভোরে গেলাম চিনু খালার বাসায় একটা প্রয়োজনে। দেখি খালা খুব যতœ করে প্লেট ভরে ভরে চাকরদের মিষ্টি বিলাচ্ছেন। তুই তো জানিস চিনু খালা কি। মিষ্টি দূরের কথা এক চামচ চিনি পর্যন্ত দিতে যার প্রাণ সয় না। সে কিনা প্লেট ভরে মিষ্টি বিলাচ্ছে! আমি বললাম খালা কাল কি মিলাদ ছিল? অথবা কোন সুখবর, কি হয়েছেÑ খালুর প্রমোশন, মিন্টুর পরীক্ষার ফল... খালা চোখ টিপলেন। অন্য ঘরে যেয়ে বসতে বললেনÑ কিছু পরে এসে পাশে বসে ফিস ফিস করে বললেন, আস্তে কথা বল।

আমি বিস্মিত হয়ে বল্লামÑ তা আমাকে মিষ্টি দেবে না?

খালা মুখ যদি দেখতি। আতঙ্কিত বিস্ফারিত দৃষ্টিতে বললেনÑ তোর কি মাথা খারাপ? এদিনে কেউ মিষ্টি খায়? আমিও জানতাম না। গত দুদিন ধরে তোর খালুর একটি প্রমোশন সুবাদে অনেক মিষ্টি এসেছে। প্রথম দিনে তো সবই খেয়েছি গত পরশু পেপারে সব জানলাম। এসব মিষ্টি তেজস্ক্রিয় দুধে তৈরি। তাতে কি মামী? তেজস্ক্রিয় দুধে কি ক্ষতি হবে? আমার প্রশ্ন। তোর জ্ঞান এত কম? মানুষ কি মানুষ থাকবে? সব বিকৃত হয়ে যাবে না? আমার নির্বুদ্ধিতা দেখে মামী প্রায় ধমকে উঠলেন আমাকে। যদি তাই হয় খালা তবে সে মিষ্টি কেন ঝি চাকরদের দিচ্ছেন? ওদের কি বিকৃতি হবে না?

এবার খালা সোফায় হাত ছড়ালেনÑ নাঃ। ওদের হজমশক্তি অসম্ভব। ওদরে কিছু হবে না দেখিস। আমি কি মানুষ না ইচ্ছে করে ওদের ক্ষতি করব। যত ভয় আমাদের। সেনসিটিভ বডি। খাওয়া পরা সব কিছুতেই দেখিস না পচা ডোবার পানি পচা খাবার ওদের কিছু হয় না। কিন্তু আমাদের একটু ফোটানো পানি না খেলেই কোমন ফুড পয়জনিং হয় আবার খালার যন্ত্রণা হোলÑ কিন্তু আমি যে মিষ্টি খেয়েছি তার জের যে কখন শুরু হবে? আল্লাহ মাফ কর। মনে কর একবার নাগাসাকি ও হিরোশিমার কথাÑ এখনও জের টানছে। খালার মুখে আবার হিরোশিমার ভীত ছায়া কেঁপে উঠল। খালার ওখান হতে ফিরে আমি গবেষণায় লাগাব। দেখি মিষ্টির দোকানে বিরাট শূন্যতা। মিষ্টি নেই। পরীক্ষা করার জন্য দোকানিকে প্রশ্ন করলাম- মিষ্টি কোথায়?

দুঃখিত দোকানদার জানাল- একমাস মিষ্টি বিক্রি বন্ধ। তাদের খুব খারাপ সময় যাচ্ছে। ব্যবসা-পাতি নেই।

-কেন গুরুর দুধ?

-গরুর দুধ দিয়ে তৈরি করেও মিষ্টি ফেলে দিচ্ছি, কাস্টমাররা বিশ্বাস করে না। বলে তেজস্ক্রিয় দুধ।

-তবে শিশুরা খাচ্ছে কি? খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি সব মজার মজার খবর। মায়েরা কেউ বুকের দুধ দিতে শুরু করেছে। কেউ চেনা দুধওয়ালা হতে চারগুণ দামে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দুধ নিচ্ছেন। কেউ বার্লি সাগু গুলে খাওয়াচ্ছেন। কেউ ছাগল গরু নিকছে। কেউ টিনের দুধ কিনছে না। দোকানে টিনের দুধ বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কোকানিদের নানা বিবৃতি ছাপা হচ্ছে। দুধকে নির্দিষ্ট ঘোষণা করা হোক এই তাদের দাবি। এসব দেখে আমি বুঝলাম সবাই বহু আগেই সচেতন হয়েছে। সামাজিক সেবা করতে গিয়ে আমিই বেখেয়াল হয়েছি। এখন পেটে তেজস্ক্রিয়তা শুরু হয়েছে। দেখ হাত পা কেমন টস্কে গেছেÑ চামড়া কেমন কুচকে গেছে আমি আর বাঁচব না সাকিনা। হাসিনা রহমান কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। নিজের বিকৃত চেহারা কল্পনা করেই বোধ হয় চেহারা আরও বিকৃত হয়ে উঠে।

বেগম সাকিনা এবার কিছটা দ্বিধান্বিত। তুই চিন্তা করিস না খামোখা। আমি তবে বাড়ি যাই। দেখি আমার ঘরে কি অবস্থা। এছাড়া আমাদের তো জাতীয় পর্যায়ে কিছু করতে হবে। চুপ করে বসে থাকলে তো চলবে না। দুধ ছাড়া দেশ অচল হবে যে! বাসায় যেয়ে বেগম সাকিনা দেখলেন তার বাড়িতে দুধ ঠিক আছে। সাকিনা চেঁচিয়ে উঠলেন... দুধ... কোন... জানো না তোমার মেয়ে কলেজে পড়েÑ বল্ল-চিন্তা করো না মা। মায়ের বিচলিত চেহারা সে অবিচল রইল স্থির কণ্ঠে। এই সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত দুধ। ডেনমার্কের নয়Ñ অস্ট্রেলিয়ার দুধ।

-হলো- অতো ভুগোল শেখাসনে। অস্ট্রেলিয়া আর ডেনমার্কে কি তফাৎ। বিদেশের দুধ বিদেশী। যাই মতিন দুধওয়ালাকে আজ রোজ করব। হাসালো মেয়েÑ মাÑ ওসব খোয়াব ছেড়ে দাও। মতিনের ভিজিট পাবি না। তার দুধ এখন বাঘের দুধের ছেয়েও দামী। আমি আর আব্বু কম কোসেস করিনি? দুধ উধাও। গরুওয়ালাদের এখন পোয়াবারো।

টিনওয়ালাদের এখন ভীষণ দুর্ভিক্ষ যাচ্ছে না। সাকিনার স্বামী সোবহান সায়েব রসিক লোক। বল্লেন-

‘ঘাবরাচ্ছ কেন গিন্নি- তুমি ভয় পাও কেন? ঐ তেজস্ক্রিয় দুধ তোমার কি করতে পারে? তুমি তো যেমন তেজস্ত্রিুয় ও দুধ অপমাণিত হয়ে হয়ে ঠা-া হয়ে তোমার শরীরে হজমই হয়ে যাবে।

‘রাখো ঠাট্টা। হাসিনা তো শয্যশায়ী। বোধহয় ওর রিএ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। কি যে হবে? আমার যে কিছু হয়নি। তাই বা কি করে বলি? কাল হতে মাথা যেন কেমন ঝিম ঝিম করছে-

সেদিন বিকেলে হাসিনার খালার ছেলে-বৌ দেখতে যাবার কথা। হাসিনাও দলে ছিলেন। যাবার পথে মিষ্টি কিনতে থামতে হাসিনা চেঁচামেচি শুরু করলেন। হাসিনার খালু কম কথার মানুষ হেসে বল্লেন- ভাববে না- মিষ্টি নিচ্ছি না। ঝাল নিচ্ছি। ওরা কিছু মনে করবে না। পাত্রী দেখে পছন্দ হলো। নাস্তা এলো মিষ্টি মুখ করানোর জন্য পাত্রীপক্ষ মিষ্টি এনেছেন। সবাই আতকে উঠলোÑ নাছোড় বান্দা- মেয়ের মা বল্ল- আপনারা ভাববেন না। সব দুধহীন মিষ্টি। বোম্বাই মিষ্টি। সবাই খেল। খেল না শুধু হাসিনা। মেয়ের কক্ষে দেখলেন- একটি দোকানে সাইনবোর্ড- এখানে সাভার ডেইরির মিষ্টি। হাসিনার মিষ্টির লোভ প্রচুর। গাড়ি থামাতে বল্লেন। বোনাই বল্ল- ও মিষ্টি খাবে না শুধু সাভারের দুধে যে ঐ দুধগুলো দেয়নি তার নিশ্চয়তা কি?

বিকেলে বেড়াতে এলেন একজন বন্ধু। চিকিৎসক। তিনি বিনা পয়সায় হাসিনার চেকআপ করলেন। পরে বল্লেন- আপনার এখনও কিছু ধরা যাচ্ছে না। তবে এ ঘটনায় আমি খুব খুশি হয়েছি। দুধ যদি এবার বন্ধ হয় তবে দেশে ছ’কোটি টাকা বাঁচবে?

হাসিনা বল্লেন সব মানুষ দুধের অভাবে পুষ্টিহীন হচ্ছে- শিশু কাঁদছে- আপনি হাসছেন?

-কেন প্রকৃতির দুধ খাক শিশুরা। মায়ের দুধ আর আপনাদের জন্য তো সয়াবিন দুধ রয়েছে।

-সয়াবিন দুধ!

কেন সয়াবিন দুধের নাম শুনেননি? এ পুষ্টিমান কত বেশি। ডাক্তাররা শিশুদের এই দুধ খাওয়াতে বলছেন। সয়াবিন হতে দই, বিস্কুট, মিষ্টি, ডাল, সেমাই, মাখন ইত্যাদি প্রস্তুত হয়েছে। এটা তো এদেশেই পাওয়া যাচ্ছে। এর গুণ কত জানো? একসের সয়াবিন বীজ হতে ৯ সের দুধ। সয়াবিনের পুষ্টিমান গরুর দুধের সমান। চীন দেশে সয়াবিনকে চিনের গাভী বলা হয়। বুঝলে গিন্নি ঘবপপংংরপঃু সধশবংং ঃযব ধিু ড়ঁঃ

দুপুরে যেতে সাকিনা স্বামীকে বল্লেন-কিন্তু এত দুধ কী হবে এখন? পেপারে বিভিন্ন দুধের আকর্ষণের বিদেশী বিজ্ঞাপন দেখেছ।

-চিন্তা করো না। চেরনোবিলের দুধ সব চলন বিলে ফেলে দেয়া হচ্ছে।

-চলন বিলের মাছগুলো তেজস্ক্রিয় হবে না আব্বু? সেই মাছ কি খাওয়া যাবে? সেই একই তো ব্যাপার হবে?

-সত্যি তো মামনি- তুমি ঠিক বলেছ- এখন তো মাছ-মাংস বুঝে খেতে হবে। পুকুরের মাছ খাবো।

-মাছ তো না হয় চলন বিলের দুধ গোলা পানিতে তেজস্ক্রিয় হবেÑ মাংস কি হবে। সাকিনার জিজ্ঞাসা।

-কেন- কেউ কেউ একই দুধ কি গুলে গুলে গরু-বাছুরকে খাওয়াচ্ছে না? দুধওয়ালা দুধ বাড়ানোর জন্য কচুরিপানা খাওয়ায় জানো না।

মোটা শরীর সাকিনা খুব খাদ্যবিলাসী। এসব কথা শুনে তার মুখে শোকের ছায়া ফুটে উঠে।

দুধ নেই- শিষ্ট নেই- মাছ-মাংসও খাওয়া যাবে না?

হাসিনার বর যেন... আরে ঘাবড়াচ্ছো কেন এখনও তো চলন বিলে ফেলেনি। না হয় বলবো সব দুধ পুড়িয়ে ফেলতে। তাহলে তো তোমারে মাছ-মাংস খেতে আপত্তি হবে না? কি বল সাকিনার বর শ্যালিকাকে বললেন, চল দুজনা একসঙ্গে অমৃত রস পান করি। তুমি হবে বায়োনিক উমেন, আমি সিক্স মিলিয়ন ম্যান। তারপর চল সুদূর নক্ষত্রে দু’জনা বাস করিÑ

-সেটি হচ্ছে না দুলা ভাই- আপনি নক্ষত্রে যেতে পারেন আমি এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে... সেখানে তেজস্ক্রিয়তা নেই! আমি কোন নক্ষত্রে যেতে রাজি নই। বুবু যেতে পারে।

-ওর তো কোন বিক্রিয়া হবে না। নিজেই যে তেজস্ক্রিয়।

সাকিনার এসব ভালো লাগে না। স্বামীকে প্রশ্ন করেনÑ

‘আহা-বল না- ঈদে কি রান্না করব। সেমাই পায়েস এসব ছাড়া কি ঈদ হয়? দুধ ছাড়া এসব রাধবো কি দিয়ে?

‘হবে হবে। শেখো গিন্নি- দরকার হয় রান্না ক্লাসে ভর্তি হয়ে যাও।

রান্না ক্লাসে?

‘হ্যাগো রান্না ক্লাসে। কাল একটা সাইন বোর্ড দেখেছি দুগ্ধবিহীন মিষ্ট প্রস্তুতি, নারকেল দুধের পায়েস ইত্যাদির রান্না ক্লাস। যিনি সাইন বোর্ডটি টাঙ্গিয়েছে এ তোষণে তিনি প্রচুর শিক্ষার্থী পেয়েছেন। ঈদের দামী শাড়িটা তারই ভাগ্যে রয়েছে। সাকিনা ফিস ফিস করেন- আমিও একটা টাঙ্গাবো নাকি।

ছোট বোন হেসে ফেলে এবার বুবু, সবাই মওকায় টুপাইস কামিয়ে নেয়। কিন্তু টোপ সময় মতো ফেলতে হয়। এখন তেমন টোপ কেউ গেলবেন।

হাসিনা ঘুম হতে উঠেই এখন পেপার পড়েন। এবং প্রধান আকর্ষণ দুধের গতি কোনদিকে। কে কে এই দুধের তেজস্ক্রিয়তা দুষ্ট হয়েছে ইত্যাদি। সেদিনও পড়লেন- আট বছর পর রিএ্যাকশন দেখা দেবে, পড়ে হাসিনা একটু নিশ্চিন্ত হলেন- আট বছর বাঁচলেন তো! একটা বছর তো নিশ্চিন্ত। অনেক-দিন পর হাসিনার মুখে হাসি ফুটলো। তার ধারণা ছিল- দু’একদিনের মধ্যে হয়তো বিক্রিয়া দেখা কি দেবে।

এখন আট বছর তো পার হোক। তারপর দেখা যাবে অনেকদিন পর সেজেগুজে হাসিনা বেগম সমাজসেবায় বেরুলেন। ঘরে বসে মৃত্যু চিন্তা করতে করতে তার স্বাস্থ্য একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। সমাজসেবা না করলে শরীরটা চাঙ্গা হবে না।