১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কবিতা

একটি চুম্বন

শেখ আতাউর রহমান

মনে নেই আজ কতগুলো চুমু খেয়েছি আমি তোমাকে বহুদিন ধরে

একশ? দেড়শ? আড়াইশ? নাকি তারচেয়েও বেশি-

আজ তার কিস্-সু মনে নেই-সব মুছে গেছে জীবনের নানাবিধ সুনামির তোড়ে।

সেই চুম্বনগুলি ছিলো গ্রেগরিপেগ, মার্লেন ব্রান্ডো, শন কনারির সুনিপুণ শিল্পীর কারুকাজ

মনে পড়ে আজ-

প্রবল পিপাসা আর বুনো আবেগের ভূমিকম্প-

আজ তার কিস্-সু মনে নেই, আমি যেন নপুংসক

আমাকে নাড়া দেয় না সেইসব সুখস্মৃতি-গোপন লীলাখেলা

এভাবে কেটে গেছে আমার অনেক অনেক দিন মাস সারাবেলা।

কিন্তু একদিন-শুধু একদিন প্রবল আবেগে আমাকে বুকে টেনেনিয়েছিলে তুমি

আমার ক্ষুধাঠোঁটে একটি প্রলম্বিত ফিরতি চুম্বন এঁকে দিয়েছিলে

তখন লোনাজলে ভিজেছিলো মরুভূমি।

আজো মুহুর্মুহু আলোড়িত করে সেই ভালোলাগা-সেই অনুভূতি-আর প্রতিশ্রুতি

কাঁপিয়ে দেয় আমার স্মৃতিহীন সত্তার ভিত- মুহূর্তে হারিয়ে ফেলি সম্বিত

এডিসনের মরাব্যাঙের মতো লাফিয়ে উঠি, উল্লম্ফে মাতি,

বুঝি তীক্ষ্ম হারপুন এক আমার অতলান্তে বিঁধে আছে, হ্যাঁ, হৃদয়ের খুব কাছে,

তাই হায়দারাবাদের নিজাম যেমন করে তার দুর্লভ হীরকখ-

লুকিয়ে রেখেছিলেন প্রাসাদের গোপন কুঠুরিতে,

তেমনি লুকিয়ে রেখেছি তোমার সেই আঠাআঠা প্রতিচুম্বন

আমার বুকের সুগোপন সিন্দুকে, এতটুকু তার হয়নিকো ফিকে- সংরক্ষিত আছে।

সেই মহার্ঘমণি খুব একটা করি না নাড়াচাড়া

ভয় হয় যদি অতি ব্যবহারে সেই সুখ সেই রোমাঞ্চ হারাই পাছে।

শান্তা, স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে থেকো

এ কবিতা পড়ে পেয়োনাকো ভয়, বলবো না

আমাকে মনে রেখো ॥

পুড়িবার দিন

গোলাম কিবরিয়া পিনু

জিহ্বা দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে।

দরোজাও বন্ধ করতে হচ্ছে দুই খিল দিয়ে

একভাঁজে থাকে না কপট!

মূর্তমূর্তি প্রতিমূর্তি হয়ে যায়

উলটা দিকে কেউ কেউ দৌড়ে যায়

পরিপাটি পরিচ্ছদ পরিহিত লোকও

মৃত মায়ের শিশুসন্তানকে ঠকায়!

চেয়ার ও আসন না থাকলেও

কেউ কেউ তক্তা সংগ্রহ করে সিংহাসন বানিয়ে ফেলে-

নীল ও গোলাপী মানুষেরাও ঘুঘুর বাসায় এক হয়ে যায়!

পুড়িবার দিন এলো-বুকে জুড়িবার দিন নেই!

ভাগ্যের বিড়ম্বনা

মুশফিকুর রহমান মোহন

হঠাৎ নাটকীয়ভাবে তুমি এলে

তুমি এলে আমার জীবনে যেন কালবৈশাখীর

ঝড়ো হাওয়ার মতন করে শর্তহীনভাবে

আমার ছন্নছাড়া এলোমেলো জীবনে।

বৈশাখীর বেশে যার আগমন উল্কার চেয়েও তীব্র তার প্রস্থান!

তোমার প্রেম! সে যেন মর্মর পাথরের চেয়েও সুন্দর

বদলে দিয়েছিলো আমায় এক অতি শৃঙ্খলিত জীবন।

চলে গিয়েছ তুমি, হয়তো চলে যাবো আমি,

হয়তো তুমি এসেছিলে জীবনে মোর ক্ষণিকা হয়ে

তাইতো তোমারি ব্যথা আমি নীরবে যাবো সয়ে,

কেউতো জানবে না-

শুধুই বলবো এতটুকু, তোমার তো ছিল না কোনো দোষ!

এ ছিল শুধুই ‘আমার ভাগ্যের বিড়ম্বনা’।

পিতা

দুলাল সরকার

গুলির আঘাতে তুমি মুখ থুবড়ে

যখনি পড়লে নুইয়ে

প্রাণহীন কিছুদূর গড়িয়ে গিয়ে থমকে দাঁড়ালে

ডান হাতে ধরা তার সেই প্রিয় পাইপ

তখন কি বুঝেছিলে পিতা

এ কাহার পাপ? কার পাপে, কোন পাপে

নিহত হয়েছ? মন বলে এ তোমার বাঙালিকে

ভালোবাসার শেষ ঋণ শোধ;

এ তোমার ভালোবাসার শস্যে ভরা সেই উপবন

হিংস্র দস্যুর হাতে হয়ে খান খান

সিঁড়িতে গড়িয়ে পড়ে হঠাৎ থমকে যাওয়া

পদ্মার আগল... স্রোতস্বিনী নদীর কল্লোল;

এ তোমার ভালোবাসার শেষ ঋণ শোধ;

নিজের জীবন দিয়ে রচিত যে অসমাপ্ত গান

কালে কালে জীবনের নবীন উত্থান...

বাংলার নাড়ি ছেঁড়া শেকড়ের টান

বিপ্লবের হিরন্ময় রাখাল সন্তান

দেখ চেয়ে নতজানু বাংলার শ্রাবণ... পলিজ বদ্বীপ।