২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্ড খাতে যে দুর্নীতি ঘটে তা দিয়ে দুটো পদ্মা সেতু করা সম্ভব ॥ নজিবুর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শুধু বন্ড খাতে যে দুর্নীতি ঘটে, সে টাকায় দিয়ে দুটো পদ্মা সেতু করা সম্ভব। সে টাকা যদি জাতীয় রাজস্ব খাতে জমা হতো-তাহলে দেশের চেহারা পাল্টে যেত।

এমনই তথ্য প্রকাশ করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। বৃহস্পতিবার আইডিইবি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কার্যালয় উদ্বোধন ও বার্ষিক প্রকাশনা ‘গোয়েন্দা চোখ’-এর মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে ক্রাইম রিপোর্টারদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের আগে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বার্ষিক প্রকাশনা মোড়ক উন্মোচন করেন এবং বোর্ড মিটিং করেন।

অর্থপ্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এনবিআর আইন সংস্কার করা হচ্ছে শুল্ক বিভাগকে জোরদার করার জন্য। সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর ডিজি ড. মইনুল খান ও রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেল মহাপরিচালক বেলাল উদ্দিন, সদস্য (শুল্কনীতি) ফরিদউদ্দিন, সদস্য (রফতানি ও বন্ড) হোসাইন আহমদ, সদস্য (ভ্যাট) এনায়েত হোসেনসহ অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাইভাবে যে সকল অসৎ ব্যবসায়ী মালামাল আমদানি করছে তাদের তালিকা করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের নজর অসৎ ব্যবসায়ীদের দিকে। তাদের সাবধান হওয়া উচিত।

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, অসৎ ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ জন্য আলাদা একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমাদের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনায় এ কমিটি অপারেশনও চালিয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ছাড় পাবে না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বর্ণ চোরাচালান যে রুটেই হোক না কেন সব স্থানেই গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। আমরা চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ জন্য আমাদের একটি আইনও রয়েছে। যেটি ১৯৬৯ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে।

সোনা চোরাচালান মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নজরদারি ঠিক মতো করা হচ্ছে কিনা জনকণ্ঠের এমন এক প্রশ্নের জবাবে নজিবুর রহমান বলেন, শুধু মামলা নয়, চোরাচালান সংক্রান্ত যে কোন বিষয় বা ঘটনা রাজস্ব বোর্ডের নজরদারিতে রয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ‘চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে ঢাকায় যেভাবে আমাদের গোয়েন্দারা তৎপর, তেমনি চট্টপ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, রংপুর, রাজশাহীসহ সারাদেশেই আমাদের গোয়েন্দারা তৎপর রয়েছে। আমরা বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। চোরাচালানকারীরা যতই পথ পরিবর্তন করুক না কেন গোয়েন্দাদের কঠোর নজরে পড়বেই।

চোরাচালানকারীদের রুট বদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শাহজালাল ও শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে যে সব চোরাচালান হতো সেটা এখন আর তেমন নেই। কারণ শুল্ক গোয়েন্দার অভিযানে ফলে চোরাচালানকারীরা হয় পালিয়ে গেছে, না হয় রুট ভেঙ্গে গেছে।