২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তালতলীতে বাজার উন্নয়নের নামে হতদরিদ্রদের টাকা লুট

 তালতলীতে বাজার উন্নয়নের নামে হতদরিদ্রদের টাকা লুট

নিজস্ব সংবাদদাতা,আমতলী (বরগুনা)॥ বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়ীয়া বাজার উন্নয়ন (এলসিএস) প্রকল্পের কাজের টাকা লুটপাট করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা। অভিযোগ প্রকল্প কাজের সাথে সংশ্লি¬ষ্ট হতদরিদ্র গরীব শ্রমিকদের।

জানাগেছে, ২০১৪- ১৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্ববোধানে তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়ীয়া বাজার উন্নয়ন এলসিএস ১ ও ২ প্রকল্পের অধিনে রাস্তা, ওপেনসেট, ডাষ্টবিন, টয়লেট নির্মাণ ও গভীর নলকুপ বসানোর জন্য ২৪ লাখ ৫০ হাজার ৮শত ২৬ টাকা বরাদ্দ হয়। বিধিমালা অনুসারে দু’গ্র“পে ২৮ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়। এ শ্রমিকদের দৈনিক খোরাকি হিসেবে ১২৫ টাকা বরাদ্দ হয়। এলসিএস গ্র“প-১ প্রকল্পের কাজের মধ্যে এক কিলোমিটার কাচাঁরাস্তাসহ পাকাকরণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১৪ লাখ ২২ হাজার ২শত ১০ টাকা। এলসিএস গ্র“প-২ প্রকল্পের কাজের মধ্যে একটি ওপেন সেট, ১টি ডাষ্টবিন, নলকুপ ১টি, ৫টি পাবলিক টয়েলেট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১০ লাখ ২৮ হাজার ৬ শত ১৬ টাকা। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয় গত বছর ডিসেম্বর মাসে। কাজ শেষে লভাংশ শ্রমিকদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হবে। এলসিএস প্রকল্পের সমস্ত অর্থ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেনের বিধান রয়েছে। এ বিধিমালা অনুসারে তালতলী অগ্রনী ব্যাংক শাখায় দু’গ্র“পের নামে চলতি হিসাব খোলা হয়। এ হিসাব পরিচালনার দায়িত্ব ওই এলসিএস দু’গ্র“পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের। দু’টি প্রকল্পের ২৪ লাখ ৫০ হাজার ৮শত ২৬ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা অভিযোগ করেন বিধিমালা তোয়াক্কা না করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগের তালতলী অফিসের প্রকল্পের তদারকি দাযিত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকৌশলী এসএম তৈয়বুর রহমান ও মাঠ সুপাভাইজার জসীম উদ্দিন প্রকল্পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ভুল বুঝিয়ে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে সমুদয় টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। শুধুই শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী ১২৫ টাকার স্থলে ৫০/৬০ টাকা করে দিয়েছে। তারা ১৮৯ দিন কাজ করেছে। প্রকল্পের কাজের মালামাল শ্রমিকদের ক্রয় করার কথা থাকলেও কর্মকর্তারা নিজেরাই ক্রয় করেছে। তারা যে হিসাব দিয়েছেন ওই হিসাব সম্পর্ক শ্রমিকরা অবগত নয়। এ প্রকল্পের কাজ শেষে হয় গত বছর ডিসেম্বর মাসে। আট মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও শ্রমিকরা টাকা পায়নি। এ টাকার জন্য তালতলী এলজিইডি অফিসে ধরনা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। ওই অফিসের কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করছে।

তালতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী এসএম তৈয়বুর রহমান বলেন, মন্ত্রনালয় থেকে সব অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী উপকারভোগীদের মধ্যে তাদের প্রদত্ত টাকা ভাগ করে দিতে পারছেনা। টাকা আসলেই দেয়া হবে।