১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঠাকুরগাঁওয়ে বাবার ষড়যন্ত্র ফাঁস করলেন মেয়ে

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও॥ নিজের মেয়েকে ঢাকায় লুকিয়ে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে দুই ব্যক্তির নামে মানবপাচার মামলা করে নিজেই ফেঁসে গেছেন বাবা অলিয়ার রহমান।

শুক্রবার সকালে মেয়ে আমেনাকে (২২) ঠাকুরগাঁও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের সামনে হাজির করো হলে সে বাবা অলিয়ার রহমানের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেয়।

এর আগে ঢাকা মুন্সিগঞ্জ জেলার খালিস্ট মোড় থেকে আমেনাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও পৌঁছে সদর থানার পুলিশ।

এদিকে মানবপাচার মামলার আসামি হয়ে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ঢাকায় বসবাসকারী নুরে আলম ও পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম।

শুক্রবার সকালে আমেনাকে ঠাকুরগাঁও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ৬৪ ধারায় জবাববন্দিতে সে জানায়, তার বাবা অলিয়ার রহমান তাকে ঢাকায় নূরে আলম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ দেয়। কয়েক মাস কাজ করার পর তার পরিবারের লোকজন তাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বোদায় নিয়ে এসে বিয়ে দেয়। বিয়ের কিছু দিন পরেই তার সংসার ভেঙে যায়। তার বাবা তাকে আবার ঢাকায় নূরে আলমের বাড়িতে নিয়ে কাজ করতে দেয়।

কাজে যাওয়ার আগে তার বাবা তাকে বলেছিল কিছুদিন পর বাসায় যখন কেউ না থাকবে না তখন যেন সে বাসা থেকে বের হয়ে আসে। ঠিক সে মোতাবেক একদিন বাসা থেকে বের হয়ে আসে বাবাকে মোবাইল ফোনে জানায়। তার বাবা তাকে ঢাকা মুন্সিগঞ্জ খালিস্ট মোড় এলাকায় এক বাসায় যেতে বলে। এর পর আমেনার বাবা অলিয়ার রহমান আগের বাসার মালিক নূরে আলম ও তাদেও গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশি জাহাঙ্গীর আলমের নামে একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করেন। পরর্তীতে ওই দু’জনের কাছে আমার বাবা ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। আসলে কেউ তাকে অপহরণ বা পাচার করেনি। আমেনার বাবাই এই ঘটনাটি সাজিয়েছে বলে উল্লেখ করে।

মামলার বাদী অলিয়ার রহমান ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। এ বিয়ষে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, মামলার আসামিদের তথ্যানুসারে পুলিশ মুন্সিগঞ্জ খালিস্ট মোড় এলাকা থেকে ওই মেয়েকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর মেয়েটি জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।