১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অগ্রাধিকার প্রকল্পে ব্যয় হবে গ্যাস-বিদ্যুতের বাড়তি অর্থ

  • বছরে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হবে ৪ হাজার ১২১ কোটি টাকা

রশিদ মামুন ॥ গ্যাস এবং বিদ্যুতের বর্ধিত লাভের টাকায় জ্বালানি এবং বিদ্যুতখাতে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির পূর্ণাঙ্গ আদেশে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ সংক্রান্ত দিক নির্দেশনা দেবে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার সংস্থান হবে এখান থেকে।

বৃহস্পতিবার একই সঙ্গে বিদ্যুত এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। খুচরা গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিটে বেড়েছে ১৮ পয়সা আর পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ইউনিট প্রতি ২৩ পয়সা। শুধু খুচরা এবং পাইকারি নয় বলেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জয়পুরহাট জেলা শাখার সভাপতি মোজাহার আলী প্রধানকে কারাফটক থেকে আটকের নিন্দা জানিয়ে খালেদা জিয়া এ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করা যাবে না। সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ তাদের ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন করে তুলছে। বর্তমান বিনা ভোটের সরকার তাদের অনৈতিক ক্ষমতাকে সংহত করতে সারাদেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর যে অত্যাচারের স্টিমরোলার চালাচ্ছে তা বর্ণনাতীত উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বিএনপি প্রধান হিংসা-বিদ্বেষের পথ ছেড়ে আসুন একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য পূর্বের মতো একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও আস্থা আছে। আপনাদের ভয় কিসের? হিংসাশ্রয়ী রাজনীতি দেশের মৃতপ্রায় গণতন্ত্রকে কফিনে পুরে ফেলবে একদিন। সরকার কাজকর্মে মনে হচ্ছে যেন সেই কাজ করতেই বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আমরা এ জন্য দেশ স্বাধীন করিনি। এখন যে নীতিতে সরকার দেশ চালাচ্ছে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বেইমানী ছাড়া কিছু নয়।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া আর বলেন, সরকার বিরোধী নেতাকর্মীদের জেলে পুরে, নিত্য-নতুন মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলের সাংগঠনিক কর্মকা-কে বাধাগ্রস্ত করে নিজেদের অগণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করছে। সরকার এমনিতেই ভয়াবহ ইমেজ সঙ্কটে নিপতিত। তার ওপর ফ্যাসিবাদী আচরণ তাদের ক্রমেই আরও জনবিচ্ছিন্ন করে তুলছে।

সরকার দেশের আইনকানুন ও বিচারিক রায়কে পর্যন্ত অশ্রদ্ধা করছে অভিযোগ করে বলেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনেক রাজনৈতিক বন্দীকে সময়মতো মুক্তি না দিয়ে নানা টালবাহানায় তাদের আটকে রাখা হচ্ছে। এরপরও কেউ জামিন নিয়ে মুক্তিলাভ করলেও কারাফটক থেকে নিত্যনতুন সাজানো মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুনরায় আটক করে তাদের জেলে পুরছে। সরকারের এ ধরনের আচরণ মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

খালেদা জিয়া বলেন, আমরা যখন সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত রাজনৈতিক কর্মসূচীগুলো পালনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং দলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে পুনর্গঠনের মতো সাংগঠনিক কর্মসূচী নিয়ে আগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তখন সরকার বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিভিন্ন মামলায় আটক করছে, পুরনো মামলায় চার্জশীট প্রদান করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিরোধী দলকে কোনভাবেই সাংগঠনিক কাজ করতে না দেয়া।

সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা দেশের আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ধরনের বেআইনী কর্মকা- থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকার যে ভয়াবহ ইমেজ সঙ্কটে নিপতিত তাতে সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ তাদের ক্রমেই আরও জনবিচ্ছিন্ন করে তুলছে। সরকার এ সত্য যত দ্রুত অনুধাবন করতে সক্ষম হবে এবং সে অনুযায়ী সকল দলের অংশগ্রহণে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে এবং তা অবশ্যই সবার দাবি অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, তাতেই তাদের মঙ্গল।