১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকার উৎখাতের চক্রান্ত মান্নার সঙ্গে ফোনালাপ ॥ রিমান্ড শেষে মামুন কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে বহুল আলোচিত ফোনালাপকারী মশিউর রহমান মামুনকে রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠিয়েছে ঢাকার সিএমএম আদালত।

বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী টানা অবরোধ-হরতালের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে গদিচ্যুত করতে মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে মশিউর রহমান মামুনের ফোনালাপের বিষয়টি টক অব দি কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছিল। এ ব্যাপারে দায়েরকৃত মামলায় গত ২৪ আগস্ট মামুনকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মামুনকে ঢাকা সিএমএম আদালতে সোর্পদ করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মামুনকে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু মামুন রিমান্ডে টেলিফোন আলাপের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে টেলিফোন আলাপের কণ্ঠ নিজের নয় বলে দাবি করেছেন মশিউর রহমান। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মশিউর রহমান মামুন মূলত প্রতারক শ্রেণীর লোক। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে তার সঙ্গে অনেক রাজনীতিবিদের পরিচয় হয়। সেসব রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকাও কামিয়ে নেন। পরিচয়ের সূত্র ধরেই যোগাযোগ হয় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে।

সম্প্রতি বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী টানা অবরোধ হরতালে ক্ষমতাসীন সরকার আওয়ামী লীগ সরকারকে গদিচ্যুত করতে মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। কিভাবে ক্ষমতাসীন সরকারকে গদিচ্যুত করা যায়, সেসব বিষয় নিয়ে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে টেলিফোনে আলাপ হয় মশিউর রহমান মামুনের সঙ্গে। ফোনালাপে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা হয়। পরবর্তীতে সেই ফোনালাপ প্রকাশ পেলে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায়। এ ব্যাপারে দায়েরকৃত মামলায় মাহমুদুর রহমান মান্না গ্রেফতার হন।

মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র আরও বলছে, মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে মশিউর রহমান মামুনের আলাপ হয় বলে তারা জানতে পারেন। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি টেলিফোন ভাইভারে মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে মশিউর রহমানের আলাপ হয়। আলাপকালে মশিউর রহমান ধানম-িতে অবস্থান করছিলেন। এর সপ্তাহখানেক আগে মশিউর রহমান লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসেন। যদিও লন্ডনে থাকা অবস্থায়ও মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে মশিউর রহমানের আলাপ হয়েছে। মামুন নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে থাকেন। যদিও আদৌ তার কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব মেলেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে মশিউর রহমান বাংলাদেশে আসেন। এরপর থেকেই তার উপর নজরদারি করা হচ্ছিল। টেলিফোন আলাপের বিষয়ে তথ্য প্রমাণাদির ভিত্তিতেই মশিউর রহমানকে গ্রেফতার করা হন।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহফুজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই মশিউর রহমানকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যদিও মশিউর রহমান ফোনালাপের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে টেলিফোনে তার আলাপ হয়নি। মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে কথোপকথনের অপর প্রান্তের কণ্ঠ তার নয় বলে দাবি করেছেন মশিউর রহমান মামুন। এ ব্যাপারে আরও গভীর তদন্ত চলছে।