২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাত

  • সাবেক অধ্যক্ষসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

মিজানুর রহমান, সাতক্ষীরা থেকে ॥ সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে পরস্পরের যোগসাজশে ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও পরিচালক ডা. এস জেড আতিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব আব্দুল মালেকসহ সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি ডা. রুহুল কুদ্দুস, কনসালটেন্ট অর্থো-সার্জারি ডা. একেএম জাহাঙ্গীর আলমসহ ১২ জনের নামে দ-বিধির ৪০৯/ ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দূর্নীতি প্রতিরোধ ২নং আইনের ৫(২) ধারায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুদক। মামলা নং ৫৩ ও ৫৪।

দুটি মামলায় অন্যান্য আসামিরা হলেন- সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট নারায়ণ প্রসাদ সান্যাল, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মারুফ হাসান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট রহিমা খাতুন, মহাখালী ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইন্টেন্যান্স ওয়ার্কশপ এ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের এ্যাসিসট্যান্ট রিপায়ার হাবিবুর রহমান, সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদফতরের সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম সোহরাব হাসান, গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১ এর ইপ প্রকৌশলী হারুন-অর-রশীদ এবং সেগুনবাগিচা মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রোপ্রাইটার আবদুস সাত্তার। এর আগে বুধবার দুদকের সভায় সংশ্লিষ্টদের নামে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়া হয়।

মামলার এজাহারের সঙ্গে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের পরিশোধিত মূল্যের সঙ্গে বর্তমান বাজার দরের তুলনামূলক দর এবং প্রতিটি যন্ত্র ক্রয়ে আত্মসাতের টাকার পরিমাণ দেখানো হয়েছে। পরিশোধিত বিল অনুযায়ী আত্মসাতের বিবরণের চিত্রের তথ্যে দেখা যায়, জার্মানির তৈরি একটি অটোমেটেড সাইড স্টানারের বর্তমান বাজার মূল্য ১৫ লাখ টাকা হলেও ক্রয় মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে ৯৫ লাখ টাকা। জার্মানির তৈরি ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি অটোমেটিক মাইক্রোটোমিটিক মেশিন ক্রয় দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ টাকায়। জার্মানির তৈরি ৫লাখ ৯৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি এনালাইজার ব্লাড গ্যাস ক্রয় দেখানো হয়েছে ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকায়। ইউকের তৈরি ১৩ লাখ টাকার একটি সেল সেপারেটর রিফ্রেজারেটর ক্রয় দেখানো হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। জার্মানির তৈরি ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি এলিশা মেশিন ক্রয় দেখানো হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা। দুটি মামলাতেই পৃথক পৃথক ক্রয়মূল্য, বাজারদর ও আত্মসাত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

একটি মামলায় দাখিল করা তথ্যে মেসার্স বেঙ্গল সাইন্টিফিক সার্জিক্যাল কোম্পানির সরবরাহ করা ৩টি বিলের ৩৩টি আইটেমে মোট ৬ কোটি ১৯ লাখ, ৭৬ হাজার ২৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অপর একটি মামলায় মেসার্স মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সরবরাহ করা ৩টি বিলের বিপরীতে ৪১ প্রকার মালামালে মোট ৭ কোটি ৫১ লাখ, ২১ হাজার ৫শ’ ১টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জন্য ভারি যন্ত্রপাতি, ইডিসিএল বহির্ভূত ওষুধপত্র, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, গজ ব্যান্ডেজ, কেমিক্যাল সামগ্রী, কিচেন সামগ্রী ও আসবাবপত্র ক্রয়ের লক্ষ্যে উল্লিখিত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বা অবৈধভাবে লাভবান হয়ে বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে মূল্যতালিকা তৈরি করেন। সে অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি অবৈধভাবে লাভবান হয়ে বাজার দর যাচাই না করেই ঠিকাদার মেসার্স মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। পরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিলও উত্তোলন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। এবং সেখানেও অবৈধভাবে লাভবান হন সংশ্লিষ্টরা। এই দুর্নীতির মাধ্যমে ৭ কোটি ৫১ লাখ ২১ হাজার ৫০১ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি পরবর্তীতে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে। একই প্রক্রিয়ায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভারি মেশিনারিজ সরবরাহের ক্ষেত্রে উল্লিখিত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে ৬ কোটি ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ২৪ টাকা আত্মসাত করেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করে দুদক। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ শেখ, মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জনকণ্ঠকে বলেন, শুক্রবার মামলাগুলো আদালতে পাঠানো হয়েছে।