২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সম্পাদক সমীপে

  • মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আমাদের দেশে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক তর্ক-বিতর্ক লক্ষ্য করা যায়। যা অনেক সময় বাগাড়ম্বরের পর্যায় পড়ে। মনমানসিকতা ও ধ্যান-ধারণা নির্বিশেষে প্রায় সকলেই এমনকি স্বীকৃত রাজাকারদেরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাফাই গাইতে দেখা যায়। মনে রাখা দরকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোন বায়বীয় বিষয় নয়। একটি ঈড়হপৎরঃ রূপ অনুধাবনের বিষয়। স্বাধীনতা ও মুক্তির অভিপ্রায়ে যে সব আদর্শ এবং মূল্যবোধ ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। কি সেই আদর্শ ও মূল্যবোধ। সাতচল্লিশ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে পাকিস্তানী শাসন-শোষণ, নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে মুক্তির আকাক্সক্ষায় বাঙালী জাতি মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের বিপরীত আদর্শই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ। পাকিস্তানের আদর্শ মুসলমানদের পৃথক আবাসভূমি হিসেবে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা কায়েম, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের রাষ্ট্রে ও সমাজে অধস্তন রেখে আশ্রিত ও আমানত হিসেবে গণ্য করা এবং এরই ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে বহিষ্কার ও বিতাড়ন করা। সাতচল্লিশ থেকে শুরু করে পুরো পাকিস্তানী আমলে সংখ্যালঘুদের হিন্দু ও অন্যান্য ক্রমাগত জনসংখ্যা হ্রাস তার উজ্জ্বল নিদর্শন।

পাকিস্তানী এই আদর্শের বিপরীতে বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আকাক্সক্ষাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের জন্য একক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠিত হবে। সকলে সমানভাবে বিকাশের সুযোগ পাবে। এতো গেল চেতনার আদর্শগত দিক। রূঢ় বাস্তবতার একাধিক উদাহরণ এক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হার্মাদ সৈনিক এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকাররা ১০ বছর বয়সের কোন বালক বা ৮০ বছর বয়সে। কোন জড়াগ্রস্ত বৃদ্ধকে ধরে এনে যখন মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করত (কৈ হ্যায় মুক্তিযোদ্ধা?) এবং পাকিস্তান জিন্দাবাদ সেøাগান দিতে বলত তখন ওই বালক বা বৃদ্ধ নিঃশঙ্কচিত্তে স্বোল্লাসে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ সেøাগান দিত এবং পরিণতিতে বুলেট বা বেয়নেটের আঘাতে মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ত। সেটাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বর্জন করা এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার সমর্থন করাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিরূপে যে সংবিধান তার অধীনস্থ সকল সাংবিধানিক পদে রাজাকার, শান্তি কমিটির মেম্বার কোন ব্যক্তির অধিষ্ঠানের বিরোধিতা করাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। রাজাকারদের ভোট না দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। অন্যায়ের কাছে মাথানত না করা এবং অন্যায়কে প্রতিরোধ করাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। দুর্নীতি অনিয়ম, লুটেরা সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, স্বাধীন মতামত প্রকাশ ও মুক্তচিন্তার স্বাধীনতা, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের অধিকার, আইনের শাসন ও বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তাসহ সকল প্রকার শোষণ-বৈষম্য নিরসনের অধিকারবোধই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বাংলা ও বাঙালীর জয় হোক তথা ‘জয় বাংলাই’ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

রাখাল চন্দ্র মিত্র

বরিশাল

কোন্ দেশে বাস করছি আমরা?

জঙ্গী সংগঠনে অর্থায়নে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সম্প্রতি তিন আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনকে রক্ষা করার পবিত্র দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন যারা সেই তারাই যদি দেশকে অশান্ত ও অকার্যকর করতে জঙ্গীদের সঙ্গে হাত মেলান তবে তা রীতিমতো দুঃখজনক। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিন আইনজীবী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আইনজীবীরা সরকারবিরোধী আন্দোলনে মদদ যোগাতে জঙ্গীদের সহযোগিতা করছে।

জঙ্গী সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’-এর সমন্বয়ক মনিরুজ্জামান ডনের এ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবী। এখন প্রশ্ন, গ্রেফতারকৃত এই আইনজীবীরা দেশবাসীর সামনে কী বলবেন? দেশের মানুষ মনে করে, যারা আইন দিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার ও দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব নিয়ে শপথ নিয়েছেন তারা কী করে এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকা-ে জড়িত থাকেন? বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

ডাঃ পরিতোষ কর

মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ

হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকি

গ্রামপ্রধান দেশ বাংলাদেশ। বিভিন্ন প্রাচীন ঐতিহ্যের মিশেলে আমাদের গ্রাম বাংলা। গ্রামীণ জীবনের পরতে পরতে মিশে আছে বিভিন্ন শিল্প সংস্কৃতির ঐতিহ্য গাথা। এমন শিল্পের মাঝে একটি প্রাচীন শিল্প হলো ঢেঁকি। গ্রাম আর ঢেঁকি এক সূত্রে গাঁথা। গ্রামে প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে ছিল ঢেঁকি শাল (ঘর)। ধান ভানার একমাত্র উপায় ছিল ঢেঁকি। এমন এক সময় ছিল গ্রামে এক শ্রেণীর লোক ছিল যারা ঢেঁকির ওপর নির্ভর। তারা বড় বড় গৃহস্থ বাড়ি থেকে ধান এনে ঢেঁকিতে ধান ভানত। এ থেকে তারা পারিশ্রমিক পেত। অঞ্চলভেদে তাদের ‘বাড়ানি’, ‘কুইনী’ বলা হতো। সেই কাক ডাকা ভোর থেকে গ্রামে গ্রামে শোনা যেত ধান ভানার ধুপ, ধাপ, ক্যাৎ ক্যাৎ শব্দ। গ্রামে বউÑঝিরা মণকে মণ ধান ভানত ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে। এছাড়া চিড়াকুটা, গুঁড়িকুটাসহ বিভিন্ন কাজে ঢেঁকির প্রচলন ছিল। ঢেঁকিতে ধান ভানার সঙ্গে সঙ্গে তালে তালে গান গাওয়া হতো এমনÑ ‘কইন্যা ধান ভানেরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া। ধানে বানে হেলিয়া দুলিয়া।’ ঢেঁকি নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রবাদ, যেমনÑ আমড়া কাঠের ঢেঁকি, বুদ্ধির ঢেঁকি। বর্তমান যুগ যান্ত্রিক যুগ। এ যুগে এসে সব যন্ত্রনির্ভর হয়ে গেছে। ধান ভানতে এসেছে যন্ত্রচালিত ধান ভানার কল। গ্রামে গ্রামে বিদ্যুত পৌঁছে গেছেÑ ঢেঁকির স্থলে দখল করেছে যান্ত্রিক কল।

শ্যামল চৌধুরী

মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা

সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির ভাগ্য

২০০৯ সাল থেকে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ থাকার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশ মোতাবেক গত ২০১৪ সালের মে মাসে সারা বাংলাদেশে গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করে সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ৬৫% হারে জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক শিক্ষকদের কাছে থেকে ৫ বছরের গোপনী প্রতিবেদনসহ (এসিআর) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ব-স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের মাধ্যমে মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু প্রায় দেড় বছর হতে চলল এখন পর্যন্ত পদোন্নতি প্রদান করা হয়নি। ফলে এ সকল শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় লেখাপড়ায় বিঘœ ঘটছে এবং প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যাহত হচ্ছে। গত ৫ আগস্ট প্রথম আলো পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের হাতে নিয়োগ দিতে পারে এই মর্মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন মতামত পাওয়া যায়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতির ওপর সারা বাংলাদেশের সহকারী শিক্ষকদের ভাগ্য নির্ভর করছে।

আবদুল মান্নান মিয়া

সহকারী শিক্ষক, কাদিরদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফরিদপুর

আপ্যায়নে কার্পণ্য

মেহমানদারির নিয়ম বুঝি উঠেই যাচ্ছে। মেহমানদের কদরও যেন লোপ পাচ্ছে। জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধিতে অধিকাংশ পরিবার, বন্ধু, নিকটজন আপ্যায়ন খরচ হ্রাস করে মৃদু হাসিমুখে সালাম-আদাব বিনিময়ের মাধ্যমে বিদায় করছেন সবাইকে। বাড়িওয়ালা ও মেহমান উভয়পক্ষ বুঝতে পারলেও আসা-যাওয়া এখনও চালু রেখেছেন নানা কারণে। এক সময়ের সিকি আনার একটি পানের খিলি এখন কিনতে হচ্ছে তিন থেকে দশ টাকায়। দশ টাকার এক বিড়া পানের দাম এখন তিন শ’ টাকা। ষাট টাকা কেজির সুপারি এখন পাঁচ শ’ টাকা, খয়ের ও চুনের খরচ বাদই দিলাম। চিনি, চা পাতা ও দুধের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মেহমানকে ইচ্ছে থাকলেও চা পরিবেশনে বিরত থাকছেন। এতে করে চাপাগল মানুষ বিপাকে পড়েছেন। এই তো সেদিনের কথাÑ বাসায় বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন এলে প্রথমে সেমাই, চা ও পান দিয়ে সেবা করার পরে মোরগ-মুরগির মাংস ও পোলাউ দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। সম্পর্কের ব্যবধান বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামগঞ্জে এখন বর্ষা মৌসুমে ছাপ্পরওয়ালা কেরাই নৌকায় আম, কাঁঠাল, আনারস ও সোনালি ইলিশ নিয়ে দু’চার দিনের জন্য আত্মীয়স্বজন বেড়াতে আসে না ভালবাসা হ্রাস পাওয়ার কারণে।

মেছের আলী

শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ

ওরা উদ্বিগ্ন নাগরিক!

আজকের উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজের মতোই শিক্ষিত সম্প্রদায়ের একদল শোধিত মস্তিষ্ক বাঙালী ছিল যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেই শুধু নিবৃত্ত হয়নি। ওরা দুর্বৃত্ত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সহযোগিতা করেছিল। তারাও তাদের স্বপ্নের পাকিস্তান হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ছিল। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যেসব বাংলাদেশবিরোধী সমাজ ও রাজনীতিতে পুনর্প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে তারা এখনও স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে না। এখনও তারা ঘোষণা করেনি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য। কিন্তু উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ তাদের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করতে চায়। এমনটা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আমি তো বলি জগতে শয়তানের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা আর ভূতের ভয় করা ঠিক একই কথা। এতে ফল হয় এই যে, রোগের সত্যিকার চিকিৎসায় প্রবৃত্তি হয় না। যেমন মিথ্যা ভয় তেমনি মিথ্যা ওঝা দুয়ে মিলেই আমাদের মারতে থাকে এবং আর চারদিকে হীনতার আকর্ষণ থেকে আসা লোক কখনই নিজেকে বইপড়া বিদ্যার দ্বারা বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। উদ্বিগ্ন নাগরিকরাও সংবিধান সম্পর্কে কম জ্ঞান নিয়ে বেশিদূর যেতে পারেন না।

আরিফ আহমদ

দৌলতপুর, কুষ্টিয়া

ধৎরভধযসবফ@মসধরষ.পড়স

উন্নয়ন চাই

কোন দেশের মানুষকে সচল রাখতে চাইলে প্রথমেই যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে সে দেশের মানুষও ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়বে। আগে দেশের প্রতিটি নৌপথ সচল ছিল বিধায় দেশের মানুষ নৌপথে এক এলাকা থেকে আরেক অঞ্চলে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারত। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

দিপু প্রামাণিক

ঢাকা

পথের পাঁচালী

আজও চির নতুন

পথের পাঁচালীÑ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যাদয়ের অমর সৃষ্টি। বাঙালী পাঠকের পছন্দের তালিকায় এই উপন্যাস তার নিজ বৈশিষ্ট্যে স্থান করে নিয়েছে। তবে বইয়ের পাতা থেকে এই উপন্যাসকে মানুষের কাছে নিয়ে এসেছিলেন বিখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়। তিনি নিজেও লেখকÑ শিশু-কিশোরদের জন্য তার রয়েছে অসাধারণ রচনা।

আবহমান গ্রামবাংলার চিরচেনা প্রকৃতি, মানুষ আর তার আশপাশের বিচিত্র আখ্যানভাগ উঠে এসেছে পথের পাঁচালীতে। মূলত পথের পাঁচালী চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্ববাসী প্রথম প্রত্যক্ষ করল বাংলার জীবন, বাংলার গ্রাম। দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও যে জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে ভালবাসা, মমতা জড়িয়ে আছে তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ এই চলচ্চিত্র। ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর সত্যজিৎ রায় এই ছবির শূটিং শুরু করেন। ১৯৫৫ সালের ২৬ আগস্ট ছবিটি মুক্তি পায়। সত্যজিতের নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে পথের পাঁচালী অন্যতমÑ চলচ্চিত্র বোদ্ধরা এরকম অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

বিশ্ব চলচ্চিত্রে পথের পাঁচালী আজ মাইলফলক। চলচ্চিত্রটির ষাট বছর উদ্যাপন আমাদের নতুন করে মনে করিয়ে দেয় বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরব গাথা। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় পথের পাঁচালী তার নির্মাণশৈলীর জন্য আজও চির নতুন।

রোকেয়া আক্তার

শুক্রাবাদ, ঢাকা