২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হেলমান্দে তালেবান হটাতে ন্যাটো-আফগান অভিযান

  • দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ম্লান

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের সৈন্যরা আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে তালেবানের অগ্রগতি থামাতে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে। হেলমান্দে রণাঙ্গনের সাফল্য কয়েক বছরের মধ্যে তাদের বৃহত্তম প্রতীকী বিজয় এনে দিয়েছে এবং শান্তি আলোচনার কথাবার্তাকে সুদূরপরাহত করে তুলেছে। ২০০১-এর ৯/১১ হামলার পর ইসলামপন্থী সরকারকে উৎখাতকারী মার্কিন হামলার প্রায় ১৪ বছর পরেও তালেবানরা অপরাজিত থেকে গেছে এবং গতবছর অধিকাংশ বিদেশী বাহিনীর চলে যাওয়ার পর সাফল্য অর্জন করছে তবে তারা এখনও কাবুল পুনর্দখলের লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে আছে। খবর ইয়াহু নিউজের।

আফগান সৈনাবাহিনীর নেতৃত্বে হেলমান্দের মুসা কালা জেলায় প্রচ- পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। ২০০৭-এর পর বুধবার তালেবানের কাছে প্রথমবার ওই অঞ্চলের পতন ঘটে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জে. দওলত ওয়াজিরি বলেন, ‘উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঠিক এ সময় হেলমান্দে আছেন এবং জেলাটি পুনর্দখলে পূর্ণোদ্যমে অভিযান চলছে।’ ন্যাটো রেজল্যুট সাপোর্ট কোয়ালিশন বলেছে মার্কিন বিমান শুক্রবারের পূর্ববতী ২৪ ঘণ্টায় ৯ বার মুসা কালায় বোমাবর্ষণ করেছে এবং বিদেশী সৈন্যরা ভূমিতেও আফগান বাহিনীকে সাহায্য করছে। মুখপাত্র কর্নেল ব্রায়ান ট্রাইবাস বলেন, রেজল্যুট সাপোর্ট সার্ভিসের সদস্যরা মুসা কালায় তৎপর আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজনকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহায়তা করছে।

তালেবান নেতা মোল্লা ওমর দু’বছর আগে মারা গেছেন। এ কথা ঘোষণা করার পর গতমাসে প্রাথমিক আলোচনা ভেঙ্গে যায়। ঘোষণার পরপরই কাবুলে একের পর এক মারাত্মক হামলা চালানো হয়। নিজের অবস্থান সংহত করার দিকে মন দিয়ে মোল্লা ওমরের উত্তরাধিকারী মোল্লা মনসুর আলোচনা চালাতে অস্বীকার করেন এবং রণক্ষেত্রের কমান্ডাররা দেশজুড়ে হঠাৎ করে হামলা বৃদ্ধি করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি পরিকল্পিত দ্বিতীয় দফা আলোচনা পুনরুজীবিত করার আশা ফিকে হয়ে আসে এবং আফগানিস্তানের সরকারী সূত্র থেকে বলা হয়, তারা পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে দিতে এবং তালেবানের হামলার মুখে আলোচনায় আগ্রহী নয়। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের এক প্রবীণ আফগান বিশ্লেষক গ্রায়েম স্মিথ বলেন, ‘যদি আপনার শত্রু দিন দিন নিজেদের শক্তিশালী ভাবতে থাকে, তবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা কঠিন। সরকার যদি তাদের আলোচনার টেবিলে আনতে চায়, তবে তাদের (তালেবান) শহর দখল ঠেকাতে হবে।’ পার্শ¦বর্র্তী জেলা নওজাদ দখলের কিছু পরেই তালেবানের কাছে মুসা কালার পতন ঘটে। উত্তরের তৃতীয় আরেকটি জেলাকে সংযুক্ত করে তালেবানরা এখন হেলমান্দের একটি বড় অংশ দখল করে আছে।

তারা সেখানে লাভজনক আফিম উৎপাদন এবং ইউরোপে হেরোইন চোরাচালানে ব্যবহৃত ইরান ও পাকিস্তান অভিমুখের প্রধান পথগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে।

প্রদেশটিতে তালেবানকে হারানোর প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ বাহিনী ৪ শতাধিক সদস্যকে হারিয়েছে এবং প্রায় ৩৫০ জন মার্কিন মেরিন সেনাও সেখানে নিহত হয়েছে। তাদের এই অর্জনকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী শক্তিশালী প্রচারণা হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। একসঙ্গে তারা স্বঘোষিত আইএস জঙ্গীদের সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত রয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ