১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি

শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

সুধীর বরন মাঝি, শিক্ষক

ডক্টর মালিকা কলেজ ,৭/এ, ধানমন্ডি,

ঢাকা-১২০৯, মোবাইল- ০১৯১২-২৯৫০৮৫

..............................................................

প্রস্তুতি ৫ম অধ্যায়

১। কী কী কারণে হ্যান্ডবল খেলায় ফ্রি থ্রো দেওয়া হয় ?

ভূমিকা ঃ হ্যান্ডবল একটি খুবই জনপ্রিয় খেলা। হ্যান্ডবল খেলারই নিজ্বস কিছু আইন রয়েছে। যার মাধ্যমে খেলাটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়। খেলা চলাকালীন সময়ে নিয়মবর্হিভুত কোন কাজ করলে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হয়।

যে কারণে ফ্রি থ্রো দেওয়া হয় ঃ১। গোলরক্ষক নিয়ম ভঙ্গ করলে। ২। ত্রুটিপূর্ণভাবে খেলোয়াড় বদল করলে। ৩। মাঠের খেলোয়াড় গোলসীমা আইন ভঙ্গ করলে। ৪। প্রতিপক্ষের প্রতি অবৈধ আচরণ করলে। ৫। ত্রুটিপূর্ণ থ্রো-ইন করলে। ৬। যে কোন থ্রো করতে ভুল করলে। ৭। ত্রুটিপূর্ণ থ্রো-অব করলে। ৮। অখেলোয়াড়োচিত আচরণ করলে। ৯। গোলরক্ষক গোলসীমার বাইরের বল নিয়ে গোলসীমায় প্রবেশ করলে। ১০। গোলসীমায় গোলরকক্ষকের কাছে ব্যাকপাস করলে।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি একজন খেলোয়াড়ের জন্য আইনগুলো জানা খুবই জরুরী।এর মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়দের কৌশলগত দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

২। হকি খেলায় স্কুপের কৌশল ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

ভূমিকা ঃ হকি খেলার বেশকিছু মৌলিক কলাকৌশল রয়েছে। যা আয়ত্ব করার মধ্য খেলোয়াড়ের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। স্কুপ তার মধ্যে একটি। স্কুপের কৌশল ঃ খেলোয়াড়দের মাথার উপর দিয়ে আইন সিদ্ধভাবে বল হাওয়ায় ভাসিয়ে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোকে স্কুপ বলে। একটি স্থির বা গতিহীন বলের খানিকটা নিচে স্টিক রেখে উপরেরদিকে চালনার সাহায্যে বল শূন্যে উঠাতে হয়।

স্কুপের প্রয়োজনীয়তা ঃ হকি খেলায় স্কুপের প্রয়োজনীয়তা বিশাল।যেমন; ১।পেনাল্টি স্ট্রোকের সময় স্কুপ করা। ২। বলকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য। ৩। বিপরিত দল থেকে বলকে নিরাপদ রাখার জন্য। ৪। স্কুপের সাহায্যে সহজেই এবং ইচ্ছেমত বল গোল পোস্টে পুশ করা যায়। ৫। বল দূরে পাস করা যায়।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে হকি খেলার ক্ষেত্রে স্কুপের কৌশল ও প্রয়োজনীয়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে যার দক্ষতা বা পারর্দিশতা যতবেশি খেলায় তার পারফরমেন্সও তত ভালো।

৩। সাঁতার কত প্রকার ? সাঁতার অনুশীলনের কী কী সর্তকতা অবলম্বন করতে হয় ?

ভূমিকা ঃ পানিতে জীবন রক্ষা,ক্রীড়া ও আনন্দলাভের জন্য পানির উপর ভেসে থাকাকে সাঁতার বলে। সাঁতারকে বলা হয় সর্বোৎকৃষ্টব্যায়াম। মানুষের জীবন রক্ষার তাগিদ থেকেই সাঁতারের উদ্ভব। সাতাঁরের প্রকারভেদ ঃ প্রতিযোগীতামূলক সাঁতারকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন;

১।মুক্ত সাঁতার ২। চিৎ সাঁতার ৩। বুক সাঁতার ৪। প্রজাপতি সাঁতার।

সাঁতার অনুশীলনের সময় সর্তকতা ঃ সাঁতার অনুশীলনের সময় অনেক সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়।তা না হলে যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। সর্তকতাসমূহ ঃ ১। আর্বজনা ও বিপজ্জনক দ্রব্য মুক্ত করে সাঁতারের জায়গা নিরাপদ করা। ২। অল্প পানি বা অগভীর জায়গা বেছে নেওয়া। ৩। কেউ ডুবে গেলে তুলে আনতে পারে, এমন অভিজ্ঞ সাঁতারুকে কাছে রাখা।

৪। ভাসমান বস্তু কাছে রাখা। ৫। আহার বা খাবারের দেড় ঘন্টার মধ্যে বা খালি পেটে সাঁতার অনুশীলন না করা। ৬। সম্ভব হলে লাইফ বোট বা লাইফ জ্যাকেট কাছে রাখা। ৭। লম্বা,মোটা ও শক্ত দড়ি বা বাঁশ কাছে রাখা। ৮। পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ ও বাথরুম ঠিক আছে কিনা তা দেখে নেওয়া। ৯। কফ,থুথু বাহিরে ফেলার ব্যবস্থা রাখা। ১০। নতুন অবস্থায় একা একা সাঁতার অনুশীলনে না যাওয়া

পরিশেষে আমরা বলতে পারি অসর্তকতার কারনে যে কোন বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে । তাই সাঁতার শেখার ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করেেবা।

৪। প্রতিযোগিতামূলক সাঁতার কত প্রকার ও কী কী ? মুক্ত সাঁতারের নিয়মাবলি লিখ ।

ভূমিকা ঃ জীবন রক্ষার তাগিদ থেকেই সাঁতারের উৎপত্তি । শুরুর দিকে সাঁতারে কোন প্রতিযোগিতা না থাকলেও সভ্যতার বিকাশ ও কালের পরিবর্তনে সাঁতার খেলাধুলায় এবং প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়।

সাতাঁরের প্রকারভেদ ঃ প্রতিযোগীতামূলক সাঁতারকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন;

১। মুক্ত সাঁতার ২। চিৎ সাঁতার ৩। বুক সাঁতার ৪। প্রজাপতি সাঁতার।

মুক্ত সাঁতারের নিয়মাবলি ঃ মুক্ত সাঁতারের কিছু নিয়মাবলি রয়েছে। যেমন ১। মুক্ত সাঁতার আরম্ভ ব্লকে উঠে শুরু করতে হয়। ২। মুক্ত সাতাঁর উপুর হয়ে সাঁতার কাটতে হয়। ৩। পা পানির নিচে সাধারণত ১২-১৮ ইঞ্চি পরিমাণে যায়। ৪। অন্য প্রতিযোগির লেনে গিয়ে বাধাঁর সৃষ্টি করতে পারবে না। ৫। পানির নিচে দিয়ে সাঁতার কাটা যাবে না । ৬। টার্নিংয়ের সময় শরীরে যে কোন অংশ দিয়ে টার্নিং করা যাবে। ৭। সমাপ্তি যে কোন অবস্থায় করা যাবে। ৮। হাতের কাজ পানির নিচে ঝ এর মতো হবে।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি মুক্ত সাঁতারের ক্ষেত্রে উপরোক্ত নিয়মগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতার সময় এই নিয়মগুলো না মানলে প্রতিযোগিকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

৫। ডলফিন কিক কাকে বলে ? প্রজাপতি সাঁতারের কৌশল বর্ণনা কর।

ডলফিন কিক ঃ ডলফিন কিক প্রজাপতি সাঁতারে ব্যবহার করা হয়। প্রজাপতি সাঁতারে পা দুটো একত্রে সোজা রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পায়ের পাতা বাহিরের দিকে

রেখে ডলফিনের মত পা দ্বারা ধাক্কা মারাকে ডলফিন কিক বলে।

প্রজাপতি সাঁতারের কৌশল ঃ এই সাঁতার দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মত দেখায় বলে একে প্রজাপতি সাঁতার বলে। প্রজাপতি সাঁতারের কৌশল নিন্মরূপ : দেহের অবস্থান ঃ ১। এই সাঁতারে শরীর খুব দ্রুত ওঠানামা করে। ২। পা দ্বারা যখন নিচের দিকে লাথি মারা হয় কোমর থেকে তখন ওপরের দিকে উঠে আসে। ৩।পুনরায় পানি টানার জন্য হাতকে যখন প্রস্তুত করা হয়,তখন মাথা ও ঘাড় পানির নিচে চলে যায় ৪। আবার যখন হাত দ্বারা পানি পুল করা হয় , তখন ঘাড় ও মাথা পানির ওপর দিকে জেগে ওঠে। ৫। দুই পা জোড়া করে একই সাথে হাতকে প্রসারিত করা হয়। ৬। মাথা উপরে থাকা অবস্থায় শ্বাস নিতে হয়।

হাতের কাজ ঃ ১। প্রজাপতি সাঁতারে হাতের কাজ হবে একসাথে। পানির ওপরে হোক আর নিচে হোক,হাতকে আগে পরে করা যাবে না। ২। হাতের কুনইকে বাঁকা এবং উঁচু করে এবং বাহিরমুখি করে পানিতে চাপ দিতে হবে। ৩। হাত মাথা বরাবর সোজা রাখেেত হবে। ৪। বুকের দুই পাশ থেকে শরীর ঘুরিয়ে বুকের নিচে হাতকে নিয়ে আসতে হবে।

৫। পানির নিচে হাতকে কোমর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।

পায়ের কাজ ঃ ১। প্রজাপতি সাঁতারে পায়ের কাজ হবে ডলফিন কিকের মত। দুই পা কোন অবস্থাতেই আগে পরে হলে চলবে না, পা একসাথে ওঠানামা করতে হবে। ২। শরীর শোয়ানো অবস্থায় পা দুটো একত্রে সোজা করে রাখতে হবে। ৩। সাঁতারুকে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় কাঁধের ওপর ভর করে ঢেউ খেলানোর পা সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস ঃ১। প্রজাপতি সাঁতারে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের কাজে সামনে ও পাশে ফিরে উভয় দিকে করা গেলেও বিশ্বখ্যাত সাঁতারুরা সামনের দিকেই শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে থাকে। ২। মাথাকে ওপরে তোলা অবস্থায় মুখ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে হবে।

৩। শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের সময় ঘাড় নমনীয় থাকবে।

৬। কী কী কারণে ব্যাডমিন্টন খেলায় সার্ভিস ফল্ট হয় ?

ভূমিকা ঃ ১৮৭৩ সালের কাছাকাছি সময়ে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে ব্যাডমিন্টন কøাব প্রতিষ্ঠিত হয়ে খেলা শুরু হলেও তৎপূর্বে ১৮৭০ সালে ভারতের পুনায় ব্যাডমিন্টন খেলার প্রচলন হয়।

সার্ভিস ঃ একজন খেলোয়াড় নিয়ম-কানুন মেনে খেলার শুরুতে এবং প্রতি পয়েন্টের শুরুতে প্রতিপক্ষের কোর্টে শাটল কর্ক পাঠানোকে সার্ভিস বলে।

সার্ভিস ফল্ট ঃ ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু হয় সার্ভিসের মাধ্যমে। সার্ভিস ফল্ট হলে পয়েন্ট লস হয়। যেসব কারণে সার্ভিস ফল্ট হয় । ১। শাটলটি যদি কোনাকুনি না পড়ে। ২। সার্ভিসের সময় যে কোন পা শূন্যে উঠে গেলে। ৩। শাটলটি শট সার্ভিস এরিয়ায় পড়লে ৪। শাটলটি কোর্টের বাহিরে পড়লে। ৫। শাটলটি হাত থেকে ছেড়ে সার্ভিস না করলে। ৬। শাটলটি কোমরের উপর তুলে সার্ভিস করলে। ৭। শাটলটি যদি নেটে আটকে যায় । ৮। সার্ভিস করার সময় কোর্টের দাগ স্পর্শ করলে। ৯। সার্ভিসকারী ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিপক্ষকে ধোকা দিলে। ১০। সার্ভিস করার সময় যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করে। ১১। দ্বৈত খেলায় শাটলটি লং সার্ভিস এরিয়ায় পড়লে । ১২। শার্টলের তলায় আঘাত না লাগলে।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি সার্ভিস ব্যাডমিন্টন খেলার একটি কৌশল। খেলায় জয়পরাজয়ের ক্ষেত্রে সার্ভিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৭। ব্যাডমিন্টন খেলায় র‌্যাকেটধরাসহ সার্ভিস করার কৌশল বর্ণনা কর।

ভূমিকা ঃ আধুনিক বিশ্বে ব্যাডমিন্টন একটি অতি জনপ্রিয় খেলা । ১৮৭০ সালে ভারতের পুনায় প্রথম ব্যাডমিন্টন খেলার প্রচলন হয়।

ব্যাডমিন্টন মূলত ইনডোর গেমস। আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং অর্থনৈতিক বিবেচনায় ব্যাডমিন্টন খেলা মৌসুম ভিত্তিক (শীত কালীন) খেলা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।

র‌্যাকেটধরা ঃ ব্যাডমিন্টন খেলার কৌশলগুলোর মধ্যে র‌্যাকেটধরা অন্যতম। সঠিকভাবে র‌্যাকেটধরার মধ্যেই খেলা অনেকটা নির্ভর করে। র‌্যাকেটটি এমনভাবে ধরতে হবে যেন র‌্যাকেটটির মাথা মাটি বরাবর থাকে। ডান বা বাম হাতের তালু উপুর করে গ্রিপের শেষপ্রান্তে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী সামনের দিকে প্রসারিত করে ঠ অক্ষরের মত গ্রিপ করতে হবে। ভালো ধরতে পারলে ভালো খেলা যাবে। গ্রিপটা হলো র‌্যাকেটের হাতল।

সার্ভিসের কৌশল ঃ খেলার শুরুতে এবং প্রতি পয়েন্টের শুরুতে প্রতিপক্ষের কোর্টে শার্টল কর্ক পাঠানোকে সার্ভিস বলে । সার্ভিস দুই প্রকার । যথা ; ১। শর্ট সার্ভিস ২। লং সার্ভিস। সার্ভিসের কিছু কৌশল রয়েছে। যেমন ; ১। সার্ভিস করার সময় পা দুটো ফাঁক করে বাম পা ডান পায়ের সামনে নিয়ে সামান্য ব্যান্ড হয়ে দাঁড়াতে হবে। ২। সার্ভিসটি এমন জায়গায় পাঠাতে হবে যেন বিপক্ষ খেলোয়াড়ের তা ফেরত পাঠানো কঠিন হয়। ৩। শরীরের ওজন পিছনের পায়ের ওপর থাকবে। ৪। সার্ভিসের সময় অবশ্যই দুই পা মাটি স্পর্শ করে থাকবে। ৫। শাটলটি ছেড়ে দিয়ে কোমরের নিচ থেকে আঘাত করে বিপক্ষ কোর্টে পাঠাতে হবে।

যবানিকা ঃ উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি ভালো খেলার ক্ষেত্রে র‌্যাকেটধরা ও সার্ভিসের কৌশল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই র‌্যাকেটধরা ও সার্ভিসের কৌশল ভালোভাবে আয়ত্ব করতে হবে।

৮।অ্যাথলেটিক্সের ইভেন্টসমূহকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়? এর ইভেন্টগুলো ধারাবাহিকভাবে লিখ।

ভূমিকা ঃ পৃথিবীতে যত প্রকার খেলাধুলা আছে , তার মধ্যে দৌড়, লাফ-ঝাঁপ ও নিক্ষেপই সবচেয়ে প্রাচীন। আদিমযুগে মানুষ নিজেকে বাঁচানোর দৌড় দিত, বাঁধা অত্রিক্রম করতে লাফ দিত, শিকার বা শত্রু ঘায়েল করতে নিক্ষেপের সাহায্য নিত। পরবর্তীতে মানবসভ্যতার ক্রমবির্তনে এই দৌড় , লাফ-ঝাঁপ ও নিক্ষেপ ক্রীড়ায় রূপান্তরীত হয়েছে। আর একই সাথে আবদ্ব হয়েছে নিয়মের বেড়াজালে। আর সেই দৌড়,ঝাঁপ ও নিক্ষেপই এখন অ্যাথলেটিক্স নামে পরিচিত।

অ্যাথলেটিক্সের ইভেন্টসমূহ ঃ অ্যাথলেটিক্সের ইভেন্টসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন; ১। ট্র্যাক ইভেন্ট । ২। ফিল্ড ইভেন্ট।

অ্যাথলেটিক্সের ইভেন্টসমূহের ধারাবাহিকতা ঃ ১। ট্র্যাক ইভেন্ট: সকল প্রকার দৌড় ও হাঁটাসমূহ ট্র্যাক ইভেন্টের অর্ন্তগত । যেমন, (র) স্বল্প দূরত্বের দৌড় ঃ ১০০, ২০০ ও ৪০০মিটার স্প্রিন্ট,১০০মিটার হার্ডেল (মহিলা), ১১০মিটার হার্ডেল (পুরুষ), ৪ দ্ধ ১০০মিটার রিলে,৪০০মিটার হার্ডেল।

(রর) মধ্যম দূরত্বের দৌড় ঃ ৮০০মিটার দৌড়, ১৫০০মিটার দৌড়, ৪ দ্ধ ৪০০মিটার রিলে।

(ররর) দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় ঃ ৩০০০মিটার স্টিপল চেজ( পুরুষ) ,৫০০০মিটার দৌড়, ১০০০০মিটার দৌড়,ম্যারাথন দৌড়, ২০কিলোমিটার হাঁটা, ৫০কিলোমিটার হাঁটা (পুরুষ)। ফিল্ড ইভেন্ট ঃ সকল প্রকার লাফ ও নিক্ষেপসমূহ ফিল্ড ইভেন্টের অর্ন্তগত। যেমন,(র) লাফসমূহ ঃ দীর্ঘ লাফ ,উচ্চ লাফ ও ত্রি- লাফ (ট্রিপল জাম্প) (রর) নিক্ষেপসমূহ ঃ গোলক নিক্ষেপ , বর্শা নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ ও হাতুরি নিক্ষেপ।

যবানিকা ঃ পরিশেষে আমরা বলতে পারি মানবসভ্যতার ক্রমবির্তনে দৌড় , লাফ-ঝাঁপ ও নিক্ষেপ এখন অ্যাথলেটিক্স নামে পরিচিত। যা আজকের দিনে সুস্থ জীবন, বিনোদন, সন্মান অর্থ উপার্জনের একটি স্বীকৃত মাধ্যম।

৯। বাস্কেটবল খেলায় ফাউল এবং ভায়োলেশন কি ? এই খেলার ৫টি ভায়োলেশন ব্যাখ্যা কর ।

ভূমিকা ঃ বাস্কেটবল খেলার প্রথম প্রচলসন শুরু হয় ১৮৮১ সালে আমেরিকায় । এই খেলার জনক হলেন আমেরিকার স্প্রিংফিল্ডে ওয়াই.এম.সি.এ কলেজের শারীরিক শিক্ষার পরিচালক জেমস নেইসমিথ। ১৯৩২ সালে র্জামানিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ( ঋওইঅ) গঠিত হয়।

ফাউল এবং ভায়োলেশন ঃ যদি একজন খেলোয়াড়ের সাথে বিপক্ষ একজন খেলোয়াড়ের ইচ্ছাকৃত সংঘর্ষ হয় তাহলে সেটা ফাউল আর ভায়োলেশন হচ্ছে আইন অমান্য করা অর্থাৎ খেলার বিবিধ নিয়ম ভঙ্গ করাকেই ভায়োলেশন বলে। ভায়োলেশনের ব্যাখ্যা ঃ (১) ৩ সেকেন্ড ঃ খেলা চলাকালীন সময়ে যে দলের নিয়ন্ত্রণে বল থাকবে সে দলের কোন খেলোয়াড় বলসহ বা বলছড়া বিপক্ষ দলের নিষিদ্ধ এলাকায় ৩ সেকেন্ডের বেশী সময় থাকলে ৩ সেকেন্ড ভায়োলেশন হয়। (২) ৫ সেকেন্ড ঃ খেলা চলাকালীন সময়ে ৫সেকেন্ড ভায়োলেশন হবে যদি-

(ক) ৫সেকেন্ডের বেশী সময় বল পাস বা ড্রিবলিং না করে বল ধরে রাখে। (খ) ৫ সেকেন্ডের বেশী বল ধরে স্কোরের উদ্দেশ্যে বল থ্রো না করে। (গ) খেলা পুনরায় শুরু করতে রেফরীর বল স্পর্শের পর থ্রো করতে ৫সেকেন্ডের বেশী সময় নিলে। (৩) ৮ সেকেন্ড ঃ খেলা চলাকালীন সময়ে যে দলের নিয়ন্ত্রণে বল থাকবে সে দলকে অবশ্যই ৮ সেকেন্ডের মধ্যে বিপক্ষ দলের সীমানায় বলসহ প্রবেশ করতে হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে বিপক্ষ দলের সীমানায় ঢুকতে না পারলে ভায়োলেশন হবে। (৪) ২৪সেকেন্ড ঃ খেলা চলাকালীন অবস্থায় একটি দল ২৪ সেকেন্ডের বেশী বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বল রাখলে ২৪ সেকেন্ড ভায়োলেশন হবে। (৫) কেরিং ঃ বিনা ড্রিবলিং এ বল নিয়ে দুই স্টেপের বেশী হাঁটলে বা দৌড়ালে ভায়োলেশন হবে। (৬) ডবল ড্রিবলিং ঃ দুই হাত দিয়ে বল ড্রিবলিং করলে ভায়োলেশন হবে।

শাস্তি ঃ ভায়োলেশনের শাস্তি হলো বিপক্ষ দল বলের দখল পাবে,পার্শ্ব বা প্রান্ত রেখা থেকে থ্রো ইনের মাধ্যমে খেলা শুরু করবে।

সুধীর বরন মাঝি, শিক্ষক, ডক্টর মালিকা কলেজ ,৭/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯, মোবাইল- ০১৯১২-২৯৫০৮৫