২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঝুঁকিতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক

  • মাদারীপুরে নদী ভাঙ্গন

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর, ২৮ আগস্ট ॥ উজান থেকে বন্যার পানি নেমে আসায় জেলার নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। গত ৪ দিনে আড়িয়াল খাঁ নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক রক্ষা বাঁধের শিবচর অংশের ১শ’ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের বিশাল অংশ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বহেরাতলায় নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। জানা গেছে, গত ৪ দিনে আড়িয়াল খাঁ, কুমার ও পালরদী নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির তোড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক রক্ষা বাঁধের শিবচরের দত্তপাড়া অংশের ১শ’ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন এলাকা থেকে মহাসড়ক মাত্র ১৫০ মিটার দূরত্বে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধের ১শ’ মিটার ছাড়াও সংলগ্ন বেশকিছু ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা অনেক বেশি হওয়ায় ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অপরদিকে শিবচর উপজেলার ৭টি গ্রামে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গনে ২শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। শিবচরের চরজানাজাত, নিলখী, দক্ষিণ বহেরাতলা, উত্তর বহেরাতলা, শিরুয়াইল, দত্তপাড়া ও সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের ২ শতাধিক পরিবারের প্রায় ৩শ’ একর ফসলি জমিসহ ভিটেবাড়ি, গাছপালা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে চলে গেছে। নদী ভাঙ্গনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নিলখী ইউনিয়নের চরকামার কান্দি, শিকদার কান্দি, দত্তপাড়া ইউনিয়নের বাহেরচর, সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের পূর্ব সন্ন্যাসীরচর, বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ছোট টেকেরহাট ও উত্তর বহেরাতলার সেনেরবাট গ্রামের মানুষ। নিলখী ইউনিয়নের চরকামারকান্দি গ্রামের নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আনোয়ার চৌকিদার বলেন, ‘আমার সাজানো-গোছানো ভিটে বাড়ি ও ৬ বিঘা ফসলি জমি আড়িয়াল খাঁ গ্রাস করেছে। আমি এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সর্বস্বান্ত। মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহাদাত হুসাইন চৌধুরী বলেন, ‘মহাসড়ক সংলগ্ন বাঁধের ভাঙ্গন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে এখানে কাজ শুরু করা দরকার। তা না হলে মহাসড়ক ঝুঁকিতে পড়বে’। এদিকে নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।