১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুড়িগ্রামে ধরলা সেতুর টোল ॥ সাধারণ মানুষ বলছে জুলুম

  • ব্রিজ হয়য়া হামরা খুশি হইছিলোং

রাজু মোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম ॥ স্বপ্নের ধরলা সেতু দিয়ে চলাচল করতে প্রতিবার ৫ টাকা হারে টোল দিতে হবে ভাবেননি ধরলা পাড়ের ভেলাকোপা গ্রামের ঠেলাগাড়ি চালক মকবুল হোসেন। মকবুল বলেন, ‘ব্রিজ হয়য়া হামরা খুব খুশি হইছিলোং। হামরা গরীব মানুষ। দিনে এক-দুইশ’ টাকা কামাই করি কোন মতে জীবন বাঁচাই। হামার উপরা এই জুলুম করা উচিৎ হইল না’। প্রতিদিন কলেজ ও কোচিং করতে ১০ কিলোমিটার দূরের ভিতরবন্ধ থেকে শহরে আসেন কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের ছাত্র শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সাইকেলের ওপর টোল ধার্য করার কারণে যে বাড়তি অর্থ গুণতে হবেÑ তার দরিদ্র পরিবারের জন্য তা এক ধরনের চাপ। তাদের মতো উত্তর ধরলার হাজার হাজার মানুষ ধরলা সেতুর টোল নিয়ে ক্ষুব্ধ। শহরে যাতায়াতের একমাত্র পথ ধরলা সেতুতে প্রতিবার যেতে সাইকেল, রিক্সা, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়ি এমনকি গরুরগাড়ি ও ঘোড়ারগাড়িকেও পাঁচ টাকা হারে গুণতে হবে। বুধবার থেকে এই নিয়ম কার্যকর করেছে লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান। আর শুরুর দিন থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ। সরকারী দলের নেতারাও এ নিয়ে বিব্রত। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ম-ল জানান, ধরলা সেতু নির্মাণ হয়েছে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। তাদের ওপর টোল আদায় কোনভাবেই কাম্য নয়। তাই তারা প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বুধবার থেকে নতুন নিয়মে টোল আদায়ের পর থেকে বসচা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। টোল প্রত্যাহারের দাবিতে দুদিন ধরে বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে। বাইসাইকেল, রিক্সা, অটো, ঘোড়ারগাড়ি, গরুর গাড়ি, ভ্যান, ঠেলাগাড়িকে এ টোলের আওতায় আনায় উত্তর ধরলার হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ।

‘কুড়িগ্রাম সচেতন ছাত্রজনতার ব্যানারে জিরো পয়েন্টে রাস্তা অবরোধ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজিউল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়াহেদুন্নবী সাগর, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শাকিব প্রমুখ। ২ ঘণ্টা অবরোধ শেষে বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিলিত হয়। পরে ক্ষুদ্র যানবাহনের ওপর আরোপিত টোল প্রত্যাহরের দাবিতে স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার ও অনুরূপ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গাপীড়িত জনপদ কুড়িগ্রামের মানুষের শতাব্দিকালের দাবি ছিল ধরলা সেতু।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে এই এলাকার অথনৈতিক চিত্র বদলে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে ধরলার নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন এবং ২০০০ সালে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬৪৮ মিটার দীর্ঘ ধরলা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রথম কয়েক বছর টোল আদায় করা হলেও ২০০৮ সাল থেকে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে টোল। ধরলা ব্রিজের লিজ গ্রহীতা লুৎফর রহমান বকসী জানান, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে অংশগ্রহণ করে এক কোটি ৬৩ লাখ টাকায় এক বছরের জন্য লিজ নেয়া হয় ধরলা সেতু।

গতবছর ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এবার ভারি যানবাহনের টোলের অঙ্ক কমিয়ে ছোট যানবাহনের ওপর বসানো হয়েছে টোল। বাসের টোল ছিল ১২০ টাকা এখন করা হয়েছে ৭০ টাকা। মাইক্রোবাস ও কার প্রতি ছিল ৫৫টাকা এখন টোলের হার ৩০টাকা। তবে এবার মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি, রিক্সা, ভ্যানসহ অন্য ছোট ছোট যানবাহনের জন্য নতুন করে ৫ টাকা হারে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। অটোরিক্সার জন্য ১০ টাকা।