২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হবিগঞ্জে পাষণ্ড স্বামীর কাণ্ড ॥ ঝলসানো স্ত্রী মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিগঞ্জ, ২৮ আগস্ট ॥ যৌতুকের জন্য অহরহ নির্যাতন। প্রাণ বাঁচাতে অতঃপর বাবার বাড়ি। তবু মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করে স্বামীকে আবারও আপন করে নিতে চেয়েছিল এক সন্তানের জননী রোমেনা বেগম। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। পাষ- স্বামীর ঢেলে দেয়া পেট্রোলে অগ্নি দগ্ধ হয়ে রোমেনা এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এই নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের নির্ভত উপজেলা নবীগঞ্জের পল্লী ছিট ফরিদপুরে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় দু’বছর আগে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলাধীন কালনীচর গ্রামের বাসিন্দা ছালেক মিয়ার পুত্র নানু মিয়া ভালবেসে বিয়ে করে হবিগঞ্জের ওই গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে রোমেনা বেগম (২৩) কে। বর্তমানে তাদের তাছলিমা নামে এক বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। এরই মধ্যে সময়ে অসময়ে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে রোমেনার ওপর মানসিক চাপ ও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে নানু। এই চাপ সইতে না পেরে সম্প্রতি বাবার বাড়ি চলে যায় রোমেনা। এদিকে গত বুধবার নানু শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে এমন ভুল আর করবে না মর্মে রোমেনাকে ফিরিয়ে নিতে সকলকে অনুরোধ করে। রোমেনাও স্বামীকে বিশ্বাস করে রাজি হন। ফলে একই রাতে রোমেনা তার স্বামীকে ঘরে শুতে বলে নিজেও ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে পাষ- স্বামী নানু ঘুমন্ত রোমেনার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় রোমেনার চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে নানু পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোমেনাকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রোমেনার অবস্থার অবনতি ঘটলে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।