২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে বাড়ছে অনাচার

প্রেমের উৎস মনের গভীরে। দেহ নয়, মন থেকেই প্রেমের সৃষ্টি। এতে কোন অপবিত্রতা বা নোংরামি নেই। শুধু মন থেকে উৎসারিত শ্রদ্ধা আর ভালবাসাই প্রেম। প্রতিটি মানুষের জীবনে অন্তত একবার হলেও প্রেম আসে। কখনও তা অব্যক্ত থেকে যায়। প্রকৃত অর্থে প্রেম বা ভালবাসায় কোন কারসাজি-লুকোচুরি নেই। প্রেম অবিনশ্বর, স্থায়ী, শাশ্বত। প্রেম কি শুধু নারী-পুরুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? না। মানুষের সঙ্গে মানুষের, স্রষ্টার সঙ্গে মানুষের, পিতা-মাতার সঙ্গে সন্তানের, ভাই-বোনসহ জগতের সকল মানুষের সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

সৃষ্টির আদিকাল থেকে প্রেম ছিল, এখনও আছে, পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রেম চলতেই থাকবে। ইদানীং আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের প্রেমে নোংরামি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত প্রেম হচ্ছে স্বপ্নের বস্তুকে পবিত্রতার সঙ্গে লালন-পালন করা। স্রষ্টার সঙ্গে প্রেম হলো স্রষ্টার সকল আদেশ-নির্দেশ একাগ্রতার সঙ্গে পালন করা, শ্রদ্ধা-ভক্তি করা। মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রেম হলো তার সকল আদর্শিক কাজকে লালন করে প্রেরণা যোগানো। নারী-পুরুষের প্রেম হলো শ্রদ্ধা আর ভালবাসার। কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় প্রেম উপস্থাপন হচ্ছে বিকৃতভাবে। নারী-পুরুষের অবাধ যৌনাচারের কারণে প্রেমের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য হারিয়ে যাচ্ছে। আশির দশকেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে কোথাও তরুণ-তরুণীকে একসঙ্গে প্রেমে মশগুল থাকতে দেখা যায়নি।

পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক গ-ির কারণেই তা করতে পারেনি তখনকার প্রেমিক জুটি। কিন্তু বদলে যাচ্ছে সেই পরিস্থিতি। এখন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শিশুপার্ক ও পাহাড়ী টিলা টেংকের নিরিবিলি স্থানসহ বিভিন্ন স্থানে ঝাঁকে ঝাঁকে প্রেমিক জুটির উপস্থিতি চোখে পড়ে, যা দৃষ্টিকটু। প্রেম করে বিয়ে করেছেন এমন এক দম্পতির সঙ্গে কথা হলো। চৌধুরী দম্পতি জানায়, ১৯৯৫ সালে তাদের প্রেম করে বিয়ে হয়। আন্তরিকতা ছিল তখন। ২০ বছর ধরে সুখেই চলছে তাদের সংসার। এখন পর্যন্ত সংসারে কোন ঝামেলা হয়নি। তাদের দু’টি সন্তান রয়েছে।

শহরের লোকনাথ টেংকের পাড়ের এক বাসিন্দা বলেন, ২০০৪ সালে প্রথম তাদের প্রেম। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়েছেন। তারপর বিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই দম্পতি বলেন, এই শতকের প্রথমভাগেও প্রেমের মধ্যে পবিত্রতা, শ্রদ্ধাবোধ ছিল। এখন তা উবে গেছে। বর্তমানে কোন কোন ক্ষেত্রে নিখাদ প্রেম লক্ষ্য করা গেলেও বেশিরভাগই অনাচারে ভরা। ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে মোবাইল প্রেমের কারণে সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে। ভেঙ্গে যাচ্ছে সুখের সংসার। কিছুদিন প্রেমের আবেদন আর নিবেদনের পর জড়িয়ে পড়ে অপকর্মে। তারপর প্রেম আর প্রেম থাকে না। প্রেমের নামে অনাচার প্রাধান্য পাচ্ছে।

Ñরিয়াজউদ্দিন জামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে