২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুদ্ধাপরাধী বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ॥ ডাঃ ইমরান

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার। তিনি বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় কার্যকর করতে হবে। আপনারা দেখেছেন বিচার প্রক্রিয়ার পদে পদে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধী ও মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদেরের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত গণঅবস্থান কর্মসূচীতে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে অন্যন্যের মধ্যে ভাস্কর রাসা, জীবনানন্দ জয়ন্ত, আকরামুল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশের পর একটি মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চ। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসের টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় তিনি আরও বলেন, গত ১৬ জুন আপীলবিভাগ আলবদর কমান্ডার মুজাহিদের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে, এর পর প্রায় আড়াই মাস এবং সাকা চৌধুরীর চূড়ান্ত রায়ের প্রায় একমাস হতে চললো, অথচ এখনো পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশিত হয়নি। এরপর রিভিউয়ের নাম করে রায় কার্যকরকে আর কতটা বিলম্বিত করা হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমাদের আশঙ্কার জায়গাটি হলো, এই বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে একদিকে যেমন গোলাম আযমের মতো যুদ্ধাপরাধীরা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণের সুযোগ পাবে অন্যদিকে, এই অপরাধীচক্র তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত করার সুযোগ পাবে। আমরা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করেছি এইসব কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের পরিবার এবং বিভিন্ন সংগঠন নানারকম অরাজকতা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে দেশকে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। এই বিচার প্রক্রিয়া যত দীর্ঘায়িত হবে, দেশবিরোধী এই অপশক্তি তত শক্তিসঞ্চয় করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এই বিচারকার্য নিয়ে সরকার কতটা আন্তরিক সে বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। যে গতিতে বিচারিক কর্মকা- এগুচ্ছে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা এই বিচার প্রক্রিয়াটিকে প্রলম্বিত করে ১০০ বছর কাটিয়ে দিতে চান। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে রাজনীতির কোন সুযোগ নেই।

রাজীব হায়দারের বাবা ডাক্তার নাজিমউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের কাঁধের ওপর অনেক বিচারের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার শেষ করে এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইতে গিয়ে আমাদের যেসব সন্তানকে নির্মমভাবে খুন হতে হয়েছে, তাদের খুনীদের বিচারও করতে হবে।