২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত এড়াতে মমতার বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন

মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত এড়াতে মমতার বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক ॥ কখনও হাতি ঢুকে লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে শস্য, ঘরদোর। কোথাও মানুষ বিষ-মেশানো খাবার দিয়ে হাতি মারছে, খুঁচিয়ে মারছে চিতাবাঘ। লোকালয়ে ঢুকে পড়া হরিণ, বাইসনের মাংস নিয়ে ভোজও হচ্ছে। এই সঙ্কট এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা ঠিক করতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি কমিটির সুপারিশ মেনে পদক্ষেপ করা হবে।’’

সরকারি সূত্রের খবর, সম্প্রতি দার্জিলিং সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কী করণীয়, তা ঠিক করতে মুখ্য সচিব সঞ্জয় মিত্র ও স্বরাষ্ট্র সচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে হাতি বিশেষজ্ঞ ধৃতিকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী, পার্বতী বড়ুয়ার মতো বিশিষ্টজনদের কমিটিতে রাখার কথা ভাবা হয়েছে। বিদেশের বিশেষজ্ঞদেরও সাহায্য নিতে চাইছে রাজ্য সরকার। কিন্তু রাজ্যে তো বন্যপ্রাণ বিষয়ক উপদেষ্টা পর্ষদ রয়েছে। যার চেয়ারপার্সন হলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ফের একটা কমিটি কেন?

সরকারি সূত্রেই জানা গিয়েছে, উপদেষ্টা পর্ষদের সভায় কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে তা চাপিয়ে দিতে চান না মুখ্যমন্ত্রী। কারণ, সংঘাত ঠেকানোর ব্যাপারে নানা পরস্পরবিরোধী মত মিলছে। হাতি টানা তাণ্ডব চালালে কেউ সেটিকে উন্মত্ত ঘোষণা করে গুলি করে মারার পক্ষপাতী। আবার কেউ হাতির জন্মনিয়ন্ত্রণের উপরে জোর দিতে চান। দক্ষিণে দলমা পাহাড় পেরিয়ে হাতির ঢোকা রুখতে, কিংবা উত্তরে অসম ও নেপাল থেকে হাতির আনাগোনার ক্ষতি এড়াতে কী করা জরুরি, তা নিয়েও অনেক মত রয়েছে। সে জন্যই মুখ্যমন্ত্রী সব ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনদের মতামত নিয়ে এগোতে চাইছেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, ফি বছর হাতির হানায় বাংলায় গড়ে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়। বাঘের হানায় ৩-৪ জন। চিতাবাঘের হানায় গড়ে বছরে ২ জন। কুমিরের হানাতেও বছরে ১-২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘরদোর, শস্য, গবাদি পশু সহ মোট সম্পদহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাজ্যকে বছরে অন্তত ৫ কোটি টাকা দিতে হয়। হামলা ঠেকাতে গিয়ে আরও ৪-৫ কোটি টাকা খরচ হয়। চলতি বছরে পুরুলিয়ায় চিতাবাঘকে পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। মেদিনীপুর, বাঁকুড়ায় হাতির হামলা চলছেই। উত্তরবঙ্গে হাতির পাল ইদানীং স্কুলের মিড ডে মিলের ভান্ডারে হানা দিচ্ছে। চিতাবাঘের হামলা চা বাগান ছাড়িয়ে শহুরে এলাকাতেও ঘটে চলেছে।

রাজ্যের বন্যপ্রাণ বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য তথা হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের (ন্যাফ) মুখপাত্র অনিমেষ বসু বলেন, ‘‘সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আশা করব, কমিটি বনবস্তিবাসীদের মতামতও নেবে।’’