২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বন্ধে পদক্ষেপের আহ্বান :ইউএনএইচসিআর

স্টাফ রিপোর্টার॥ বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই বঙ্গোপসাগরে নৌকায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বন্ধের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক মানবাধিকার এই সংস্থাটির সম্প্রতি করা এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩১ হাজার রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী পাচারকারীদের নৌকায় বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত আনুমানিক ৯৪ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১শ’ জনের বেশি মানুষ সাগরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। তার মধ্যে ৩৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে ২০১৫ সালে।

থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্তে মানবপাচারকারীদের পরিত্যক্ত আস্তানায় বেশ কয়েকটি গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর ২০১৫ সালের মে মাসে সমুদ্রে অভিযান চালানোসহ বিভিন্ন সরকারি তৎপরতা শুরু হয় বলে ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত সপ্তাহেই মালয়েশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মানবপাচারকারীদের নিষ্ঠুরতার চিহ্নস্বরূপ আরও ২৪টি লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে সংযুক্ত একটি ফিচার স্টোরিতে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তারা দীর্ঘ ও বিপদসঙ্কুল যাত্রার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। এমনকি তারা তাড়া খেয়ে কিংবা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এক দেশের জলসীমা থেকে অন্য দেশের জলসীমায় পালিয়ে যাওয়ারও দাবি করেছেন। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষকে সমুদ্রে ছেড়ে অন্য নৌকায় চলে গেছেন পাচারকারীরা। শেষ পর্যন্ত তাদের অনেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের ভূখণ্ডে পৌঁছে জীবন বাঁচিয়েছেন। এক হাজার জনের খবর কর্তৃপক্ষ জানেন না। তারা হয়তো কর্তৃপক্ষের অগোচরে বিভিন্ন দেশের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। চলতি বছরের মে মাসে পাচারকারীদের ছেড়ে যাওয়া এসব নৌকায় কমপক্ষে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমের কারণে নৌকায় পাচার সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়ার উন্নতি হলেই এই বিপজ্জনক যাত্রা শুরু হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের মে মাসে থ্যাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশেষ বৈঠকে ইএনএইচসিআর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে এ সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিল। এ সময় এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। সেসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে ইএনএইচসিআর।

মে মাসে যেসব বাংলাদেশী অন্য দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তবে রোহিঙ্গারা এই মুহূর্তে মিয়ানমারে ফিরতে না পারায় রয়ে গেছে ওইসব দেশগুলোতেই। ইএনএইচসিআর অবশ্য তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

অভিবাসন প্রত্যাশীদের এসব সংকট সমাধানে ১৩০ লাখ ডলার সাহায্যের আবেদন করেছে। এর মাত্র ২০ শতাংশ পাওয়া গেছে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, জাপান, কোরিয়া ও নরওয়ের দেওয়া অর্থ থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসরকারি খাত থেকেও কিছু অর্থ পাওয়া গেছে। সূত্র : বিবিসি