২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়তে আমৃত্যু লড়েছেন ড. রহীম: স্মরণসভায় বক্তারা

স্টাফ রির্পোটার॥ পরিবহন দুর্ঘটনায় অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন ড. আব্দুর রহীম। সাধারণ মানুষের ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতের নিশ্চয়তার দাবিতে অবিচল ছিলেন তিনি। এজন্য সারা দেশে পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও সমন্বিত একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর পুরান পল্টনের কমরেড মণি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনে এক নাগরিক স্মরণসভায় বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. আব্দুর রহীমের মৃত্যুতে এই সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মনজুরুল আহসান খান। প্রয়াতের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করেন জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের করাচী বাংলা হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্র প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক। শুরুতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রয়াতের জ্যেষ্ঠপুত্র আমিনুর রহীম উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই’২০১৫ বুধবার দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ড. আব্দুর রহীমের মৃত্যু হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মনজুরুল আহসান খান বলেন, বুয়েটের একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক ও নৌবিশেষজ্ঞ হিসেবে ড. আব্দুর রহীম এ দেশের পরিবহন ব্যবস্থার দৈন্যদশা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন। যে কারণে অধ্যাপনা জীবনের ইতি টানার পরও তিনি শুধু নৌখাতের জন্য নয়, সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। সারা দেশে পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও সমন্বিত একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন তিনি। দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঝুঁকিমুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই প্রয়াত রহীমের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের আহ্বান জানান বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদ।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে’র সঞ্চালনায় স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বুয়েটের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাবেক সাংসদ এডভোকেট তাসনীম রানা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (বন্দর) মাহাবুবুল আলম, বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি তুসার রেহমান, পরিবেশসম্মত বাসযোগ্য ঢাকা বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্যসচিব হাজী মোহাম্মদ শহীদ, নৌস্থপতি এম এ সামাদ, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সেকেন্দার হায়াৎ, নিরাপদ সড়ক ও নৌপথ বাস্তবায়ন জোটের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সবুজ, অধ্যাপিকা আফরোজা আক্তার শিখা, নদী রক্ষা শপথের (নরশ) আহ্বায়ক জসি সিকদার।