২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিশরে আল জাজিরা টেলিভিশনের তিন সাংবাদিকের কারাদণ্ড

মিশরে আল জাজিরা টেলিভিশনের তিন সাংবাদিকের কারাদণ্ড

অন লাইন ডেস্ক॥ মিশরে নিষিদ্ধ-ঘোষিত ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকে সাহায্য সহযোগিতা করার দায়ে আল জাজিরা টেলিভিশনের তিনজন সাংবাদিককে তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে মিশরের একটি আদালত। (সূত্র বিবিসি অন লাইন)

মিশরের জন্যে ক্ষতিকর মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মামলায় নতুন করে অনুষ্ঠিত এক বিচারে তাদেরকে এই সাজা দেওয়া হলো।

সাজাপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা হলেন কানাডীয় বংশোদ্ভূত মিশরীয় নাগরিক মোহাম্মেদ ফাহমি, অস্ট্রেলিয়ার পিটার গ্রেস্টে এবং মিশরের বাহের মোহাম্মেদ।

মিশরে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো ২০১৩ সালে।

তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।

শুরু থেকেই তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।

গত বছর এই তিনজন সাংবাদিককে সাত থেকে দশ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিলো।

সেসময় ওই রায়ের তীব্র সমালোচনা হয়।

Image copyright AP Image caption বিচার চলাকালে আদালতে দু′জন সাংবাদিক - মোহাম্মেদ ফাহমি ও বাহের মোহাম্মেদ

ওই রায়ের বিরুদ্ধে কায়রোর একটি আদালতে তারা আপিল করেন।

এবছরের জানুয়ারি মাসে আদালত ওই দণ্ড বাতিল করে নতুন করে বিচারের আদেশ দেন।

তারপর তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়।

আজ শনিবার রায় ঘোষণার সময় মোহাম্মেদ ফাহমি ও বাহের মোহাম্মেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

পিটার গ্রেস্টেকে এবছরের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই এই পুনর্বিচার সম্পন্ন হলো।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক হাসান ফরিদ বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত এই তিনজন সাংবাদিকের কোনো নিবন্ধন ছিলো না এবং লাইসেন্স ছাড়াই তারা কায়রোর একটি হোটেল থেকে কাজ করতেন।

Image copyright AFP Getty Image caption বিচারের সময় তোলা ছবি

কায়রো থেকে বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, সাজাপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা এই রায়ের বিরুদ্ধে এখনও উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারবেন।

মি. ফাহমি ও মি. মোহাম্মেদকে এখন কতো বছর সাজা খাটতে হবে সেটা পরিষ্কার নয়। কারণ মুক্তি পাওয়ার আগে তারা দু’জনেই এক বছরের মতো সময় কারাগারে আটক ছিলেন।

আদালতে উপস্থিত বিবিসির সাংবাদিক বলছেন, এই রায়ের ফলে মিশরের দেশি বিদেশি সাংবাদিকরা হতবাক হয়ে পড়েছেন।

সাংবাদিকদের ধারণা ছিলো, তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত হয়তো কম সাজা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

কাতার-ভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল জাজিরা এই রায়ের সমালোচনা করে বলেছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এই রায় আরো একটি আক্রমণ।

আর মি. গ্রেস্টে এক টুইট বার্তায় এই রায়ের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।