২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর

গৌতম পান্ডে ॥ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্র কক্ষে শ্রোতার উপস্থিতি তেমন নয়। কিন্তু যে কয়জন ছিলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একাগ্রচিত্তে শুনেছেন শিল্পী ড. শেখর ম-ল ও সুস্মিতা দেবনাথ সুচির গাওয়া শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। দুজনই বয়সে নবীন হলেও তাদের পরিবেশনায় মুন্সিয়ানা ছিল। যেমন তাদের কণ্ঠ, তেমনি গায়কীও ছিল অসাধারণ। সবাই হৃদয়ের গভীর থেকে উপভোগ করেছেন তাদের নান্দনিক পরিবেশনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এ আসরের আয়োজন করে শুদ্ধ সঙ্গীত প্রসার গোষ্ঠী। এটা ছিল সংগঠনটির ধারাবাহিক আয়োজনের ৪১৬তম আসর। অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক ঊষা রহমান। আসরের প্রথম শিল্পী ছিলেন সুস্মিতা দেবনাথ সুচি। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ওস্তাদ তপন ভট্টাচার্যের কাছে তার সঙ্গীতে হাতেখড়ি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তালিম নিয়েছেন শিল্পী অনুপ বড়–য়াসহ প্রখ্যাত ওস্তাদদের কাছে। বর্তমানে তালিম নিচ্ছেন ওস্তাদ অসিত দে’র কাছে। এছাড়া বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ে প-িত উলহাস কসলবকারের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিচ্ছেন। তিনি বর্তমানে ছায়ানটে শিক্ষকতা করছেন। তিনি ‘শুদ্ধ কল্যাণ’ রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন। তার পরিবেশিত বিলম্বিত বন্দিশ ‘হে করম কারো কৃপাল দয়ার’(একতাল) এবং মধ্যলয়ে বন্দিশ ‘বাজোরে বাজো মন্দলরা’ (তিনতাল) খুবই চমকপ্রদ ছিল। দ্রুতলয়ের বন্দিশ ‘তাহে তো দয়া করত দের নাহি লাগে’ (একতাল) মধ্য দিয়ে শেষ হয় তার পরিবেশনা। তার দ্রুত ও সুস্পষ্ট আকার তান এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ লয়ের চলন ছিল মনোমুগ্ধকর। এরপর মঞ্চে আসেন শিল্পী ড. শেখর ম-ল। খুলনার সন্তান শেখর নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে সঙ্গীতে হাতে খড়ি নেন শিল্পী শংকর বিশ্বাসের কাছে। পরে ঢাকাতে ওস্তাদ মিন্টু কুমার দাশের কাছে তালিম নেন। তিনি দিল্লীর সঙ্গীত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের ডিপ্লোমা কোর্স ও এমএ করেন। তিনি প-িত ইন্দু প্রকাশ ত্রিবেদী ও প-িত অরুণ ভাঁদুড়ীর কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন। তিনি কলকাতা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাগসঙ্গীতে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে ওস্তাদ অসিত দে’র কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিচ্ছেন, পাশাপাশি ছায়ানট ও ইউওডা তে সঙ্গীতে শিক্ষকতা করছেন। শিল্পী শেখর ম-ল পরিবেশন করেন ‘মিয়াকী মল্লার’ রাগে খেয়াল। তিনি প্রথমে বিলম্বিত বন্দিশ ‘করিম নাম তেরো তুছাহে সত্তার’ (একতাল) ও মধ্যলয়ে বন্দিশ ‘বিজুরী চমকে বরষে নেহা’ (ত্রিতাল) পরিবেশন করেন। তার পরিবেশিত বিস্তার অঙ্গ এতই আলংকারিক ছিল যে পুরো পরিবেশটায় যেন বর্ষার এক আবহ সৃষ্টি হয়। তার সব শেষ পরিবেশনা ছিল কাহারবা তালে ‘শাবন কি ঋতু আইরি সজনীয়া’ বন্দিশে ‘কাজরী’। বর্ষার এ লঘু শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শুদ্ধ সঙ্গীত প্রসার গোষ্ঠী আয়োজিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এ আসর।