১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শীঘ্রই আপীল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ, ট্রাইব্যুনাল একটি হচ্ছে

বিকাশ দত্ত ॥ মামলা জট নিরসনে শীঘ্রই আপীল বিভাগে ৪ থেকে ৫ জন বিচারপতি নিয়োগ করা হবে। বর্তমানে আপীল বিভাগে ৪ বিচারপতির পদ শূন্য রয়েছে। যারা সৎ, অভিজ্ঞ ও স্বাধীনতার সপক্ষে বিশ্বাসী, সংবিধানের চার মূল নীতিতে বিশ্বাসী তাদেরই আপীল বিভাগে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তবে কৌশলগত কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে মামলা কমে আসায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুটির স্থলে একটি করা হচ্ছে। সেখান থেকে তিন বিচারপতিকে পুনরায় হাইকোর্টে ফিরিয়ে নেয়া হবে। এতে হাইকোর্টের মামলা জট অনেকাংশে কমে যাবে। আপীল বিভাগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারপতি না থাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার বিচার কাজ ঝুলে ছিল বছরের পর বছর। এ অবস্থায় মামলাটির বিচার নিষ্পত্তি করাকে সামনে রেখে আপীল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ৭ থেকে বাড়িয়ে ১১ করা হয়। সংবিধানের ৯৪ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নতুন বিচারপতি নিয়োগ অনুমোদনের পর আপীল বিভাগে পৃথক দুটি বেঞ্চ গঠন করা হয়। এতে মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততর হওয়ার পাশাপাশি বিচারাধীন মামলার সংখ্যাও কমে আসে। কিন্তু বিচারক সঙ্কটে আপীল বিভাগে মামলার জট ফের বাড়ছে। বর্তমানে আপীল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ ৭ জন বিচারপতি রয়েছেন। এখনও দুটি বেঞ্চ রয়েছে। তাদের মধ্যে ২ অক্টোবরে আরও একজন বিচারপতি অবসরে যাবেন। সে দিক থেকে আপীল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়াবে ৬ জনে।

সুপ্রীমকোর্টের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপীল বিভাগে বিচারাধীন মামলা ছিল ১৫ হাজার ৩৪৬টি। এর মধ্যে দেওয়ানি ১২ হাজার ৪১৭টি, ফৌজদারি দুই হাজার ৮৭২টি ও অন্যান্য ৫৭টি মামলা। একই সময়ে হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলা ছিল ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৮টি। যার মধ্যে দেওয়ানি ৮৪ হাজার ৪১৬ ও ফৌজদারি ২ লাখ ৯ হাজার ৫৫১টি মামলা। এ ছাড়া রিট ৬১ হাজার ২৬৭ ও আদিম মামলা ৫ হাজার ৮০৪টি। অথচ একই সময়ে আপীল বিভাগে দায়ের হয় ৬ হাজার ৯১৯টি এবং হাইকোর্টে ৬০ হাজার ৬৯টি মামলা। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় আপীল বিভাগে ৫ হাজার ৯১১টি এবং হাইকোর্টে ২২ হাজার ৪৭৭টি মামলা। এসব মামলার জট কমাতে আরও বিচারপতি নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে একটি সূত্র জানিয়েছেন।

বর্তমানে প্রধান বিচারপতিসহ যে ৭ জন বিচারপতি আপীল বিভাগে রয়েছেন তাদের মধ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিয়া ২০১৮ সালের ১১ নবেম্বর, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ২০১৭ সালের ৮ জুলাই, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে। আর বিচারপতি এ এই্চ এম সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক চলতি বছরের ২ অক্টোবর অবসরে যাবেন।