২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কিডনি পাচার চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার

  • উদ্ধার ২ ॥ চার কিডনি বেচাকেনার স্বীকারোক্তি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানী থেকে আন্তর্জাতিক কিডনি পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়া দুইজনকে উদ্ধারও করা হয়েছে। তাদের একজনের বাড়ি জয়পুরহাট ও অন্যজনের মুন্সীগঞ্জ জেলায়।

শুক্রবার রাতে শাহবাগ ও গাবতলী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে দলনেতা আব্দুল জলিল এবং তার সহযোগী শাকিল আহমেদ, রাব্বি, দিহান ও আশিকুর রহমান।

শনিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, এটি একটি বিশাল চক্র। চক্রের সদস্যরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, থানা ও গ্রামগঞ্জে কাজ করে। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসে। এরপর ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করত। তারপর অপারেশন করে কিডনি নিয়ে নিত। রাজধানী ছাড়াও সাভার ও নারায়ণঞ্জের বেশকিছু বেসরকারী ক্লিনিকের কতিপয় অসাধু চিকিৎসক এর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আব্দুল জলিল প্রায় ১০ বছর ধরে এ ধরনের অপরাধে জড়িত। এখন পর্যন্ত আব্দুল জলিল চারটি কিডনি বেচাকেনা করার কথা স্বীকার করেছে। প্রতিটি কিডনি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায় বেচাকেনা হয়।

মনিরুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত আবু হাসানকে গ্রেফতারকৃত জলিল কিডনি বিক্রির উদ্দেশ্যে গ্র্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে। আবু হাসানকে একটি কিডনির বিনিময়ে একটি সিএনজি কিনে দেয়ার লোভ দেখানো হয়েছিল। আর শান্তকে গ্রেফতারকৃত আশিকুর রহমান তার চাচিকে রক্ত দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে গ্রাম থেকে ঢাকায় এনেছিল। রক্ত দেয়ার সময় শান্তকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অচেতন করে তার কিডনি নিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিডনি অপসারণের পর শান্ত যদি বেঁচে থাকে তাহলে কোন ঝামেলা নেই, যদি মারা যেত তাহলে শান্তকে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তা সম্ভব না হলে একটি লঞ্চের কেবিন বেনামে ভাড়া নিয়ে মাল হিসেবে শান্তর লাশ লাগেজে ভরে কেবিনে রেখে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। চক্রটির টার্গেট অভাবী মানুষ।

মনিরুল ইসলাম আরও জানান, গ্রেফতারকৃত জলিল জয়পুরহাটের বাসিন্দা। ২০১১ সালে তিনি নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেন। ভারতের কলকাতার ফরটিজ হাসপাতালে তার কিডনি আরেকজনের কাছে ভুয়া নাম-ঠিকানায় বিক্রি করেন। এক পর্যায়ে নিজেই কিডনি পাচারকারী চক্রে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকেই তিনি একটি কিডনি বিক্রি করে দিব্যি সুস্থ স্বাভাবিক আছেন বলে এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন। প্রতিটি কিডনি জোগাড় করে দিলে ৫০ হাজার টাকা পেত জলিল। ২০১২ সালে জলিলের কাছ থেকে একটি কিডনি কিনে নিজের দেহে প্রতিস্থাপন করার পর থেকেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন বলে একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, পরিবারের সদস্য এবং নিকটাত্মীয় ব্যতীত কিডনি প্রতিস্থাপন আইনত দ-নীয় অপরাধ।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উত্তর, দক্ষিণ ও ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, মাশরুকুর রহমান খালেদ, মুনতাসিরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মাহমুদা আফরোজা লাকি উপস্থিত ছিলেন।