২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আশ্রয় ও লঙ্গরখানা খোলার নির্দেশ

  • পদ্মা সেতু প্রকল্পের পাশে ভাঙ্গন পরিদর্শনে ও. কাদের

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ পদ্মা সেতু প্রকল্পের পাশে কুমারভোগের খড়িয়া গ্রামের ভয়াবহ ভাঙ্গন পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি শনিবার সন্ধ্যায় পদ্মার ভাঙ্গনকবলিত গ্রামটি পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক নৌ পরিবহনমন্ত্রী ও পানি সম্পদ মন্ত্রীকে দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী। এর আগে সকালে এই ভাঙ্গন পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এ্যামিলি এমপি। মন্ত্রী ভাঙ্গনকবলিত এলাকার পাশের দুটি স্কুলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আশ্রয় এবং সেখানে লঙ্গরখানা খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার নিশ্চিত করেছেন শনিবার রাত থেকেই সেখানে লঙ্গরখানা খোলা হয়েছে।

গত কয়েক দিনে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গ্রামটির অন্তত ১শ’ ৫৫ পরিবার গৃহহারা হয়েছে। বিলীন হয়েগেছে শিমুলিয়া বাজারের একাংশ, সরকারী রাস্তা, পুকুর, বৈদ্যুতিক পুলসহ নানা স্থাপনা। শনিবার এই ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পদ্মায় হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক জনপদ। গ্রামবাসী বাড়িঘর সরিয়ে নেয়ার সময়টুকুও পাচ্ছে না। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ হলদিয়া ও শিমুলিয়া এলাকায়ও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সেতুমন্ত্রী বলেন, নদী ভাঙ্গনের কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণের মূল কাজের কোন ক্ষতি হবে না। যথাসময়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্ষায় নদীতে পানি প্রবাহ বেড়েছে। বেড়েছে স্রোত। তাই বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

মন্ত্রী নদী ভাঙ্গনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় মানুষদের থাকা, খাওয়াসহ পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রশিদ শিকদার এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভাঙ্গনের ভয়াবহতার খবরে নৌ পরিবহনমন্ত্রী ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আজ রবিবার ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসতে পারেন।

এদিকে গ্রামবাসী জানিয়েছে, ফেরিঘাট মাওয়া থেকে শিমুলিয়ায় স্থানান্তর করে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিংয়ের গ্রামগুলোতে এই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর প্রকল্পের লাগঘেঁষা এই গ্রামগুলোতে ভাঙ্গনরোধে দ্রুত নদী শাসন এবং ২০১১ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রক্ষাবাঁধ নির্মাণ জরুরী। ভাঙ্গন থামাতে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের নাব্য সঙ্কটের ড্রেজিংয়ের বালু এই প্রান্তে ফেলারও দাবি জানায় গ্রামবাসী।

এদিকে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ভাঙ্গন বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবারের মতো শনিবারও আর কোন ভাঙ্গন দেখা দেয়নি। সেখানে ভাঙ্গনরোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তাসহ সব রকমের ব্যবস্থা নিয়েছে চায়না মেজর ব্রিজ।