২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রবাস জীবনে চোরাচালানি হন রফিক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যারা বুদ্ধিমান যে কোন পেশাতেই সফল হয়। হোক সেটা চোরাচালান বা অন্য কোন পেশা। এ তত্ত্ব নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু রফিকুল ইসলাম মনে করেন এটাই সত্য। তিনি দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন সৌদি আরবে। সেখানে যখন ন্যায়নিষ্ঠার স্েঙ্গ কাজ করতেন, তখনও মনে করতেন বুদ্ধি আর চোখ কান খোলা থাকলে জীবনে সফলতা আসবেই। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জনকারী এই রফিকের কাছে এক পর্যায়ে মনে হয়েছে- বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হওয়ার জন্য চোরাচালান হতে পারে কার্যকরী উপায়। এ জন্য কোন সিন্ডিকেটে না জড়িয়ে একাই স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়েছিলেন কুমিল্লা সদরের (দক্ষিণ) রফিকুল ইসলাম।

সৌদি থেকে ফেরার পর শুক্রবার হযরত শাহ জালাল বিমানবন্দরের ক্যানপি এলাকায় ধরা পড়েন তিনি। শনিবার ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে বিমানবন্দর পুলিশ।

তিনি জানিয়েছেন ২২ বছরের চাকরি জীবনের শেষ হলে গত রমজানের আগে সৌদি আরব থেকে দেশে স্থায়ীভাবে ফিরে আসেন। তবে দেশটিতে যাতায়াত বন্ধ করেননি তিনি। শেষ দফায় কিছুদিন আগে সৌদি আরব যান তিনি। গত পরশু শুক্রবার সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণ নিয়ে দেশে ফেরেন রফিকুল ইসলাম। তবে তার এ মিশন সফল হয়নি। শুক্রবার বিকেল ৩টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৬ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি। বক্ষ বন্ধনির মতো কোমর বন্ধনিতে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণ জড়িয়ে ইমিগ্রেশন পেরিয়ে চলেও আসেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকায় অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় সন্দেহ হয় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন)। আর তাতেই আটকে যান রফিকুল। দেহ তল্লাশি করে দেখা যায়, ১০ তোলা করে ৩০টি স্বর্ণের বার একটি কাপড়ের তৈরি বন্ধনির মাধ্যমে কোমরে জড়ানো। রফিকুল ইসলামের কাছে নগদ রিয়াল ও ডলারও পায় এপিবিএন কর্মকর্তারা।

শুক্রবার রাত এগারোটায় ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালনের এ অভিনব পদ্ধতির বর্ণনা দেন এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সিনিয়র এএসপি আলমগীর হোসেন। এ সময় এপিবিএনের অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, এক ধরনের ব্রেসিয়ার টাইপ কোমরবন্ধনি দিয়ে সারিবদ্ধভাবে শরীরে স্বর্ণের বার সাজিয়ে নেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিকে স্কেল পদ্ধতি বলা হয়। নতুন এ পদ্ধতিতে সুবিধা হলো- শরীর সাধারণত স্ক্যানিং করা হয় না। আর সে কারণেই নিয়ে যাওয়া সহজ হয়। সাড়ে তিন কেজি ওজনের প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা বাজার মূল্যের স্বর্ণ তার শরীরে পাওয়া গেছে।

এ স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে কোন সিন্ডিকেট জড়িত কিনা জানতে চাওয়া হলে আলমগীর হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছি, একাই এ কাজ করেছে সে। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের চোরাচালানবিরোধী ধারায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আটক রফিকুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবেই ২২ বছর থেকেছি। চাকরি শেষে গত রমজানের আগে বাংলাদেশে ফিরেছি। এর আগে কতবার এ কাজ করেছেন জানতে চাইলে রফিকুল বলেন, চাকরির পেনশনের টাকা একবারে দেয় না, তাই কয়েকবার সৌদিতে গিয়েছি। এই প্রথম বেশি টাকা উপার্জনের জন্য স্বর্ণ চোরাচালানে আনা।

এদিকে এত কঠোর নজরদারির মাঝে কিভাবে রফিক গ্রীন চ্যানেল পেরিয়ে বাইরে যেতে সক্ষম হলেন সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ কাস্টমস কর্মকর্তাদের মাঝে। তিনি এর আগে কতবার এ পদ্ধতিতে সোনা চোরাচালান করেছেন সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আজ শনিবার থেকে তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর থানার ওসি কামাল উদ্দিন।