২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিল্প খাতে সুদিন ফেরাতে-

রাষ্ট্রের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প খাত। তেমনি আবার শিল্প খাতের অপরিহার্য চালিকাশক্তি বিদ্যুত। শিল্প খাতের প্রসার ও উৎপাদন বাড়িয়ে শিল্প খাতের সুদিন ফেরাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছে। দেশে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের জন্য শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের সংযোগ জরুরী। শুধু বিদ্যুত নয়, গ্যাসের যোগান থাকাও আবশ্যক। অর্থনীতির গতি বাড়াতে শিল্প খাতে নতুন বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলে নিয়েছে সরকার। শিল্পে বিদ্যুত সংযোগের যেসব আবেদন রয়েছে তা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেয়া হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। ব্যবসায়ীদের প্রচেষ্টাতেই দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারও ব্যবসাবান্ধব। বিশ্বে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। সভ্য মানুষের জীবন আজ বিদ্যুতের ওপর সর্বাংশে নির্ভরশীল। ঘরোয়া বা দাফতরিক যে কোন পর্যায়ে বিবিধ প্রয়োজনে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা আজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিদ্যুতহীনতার কথা কল্পনাও করা যায় না। প্রসঙ্গত বলা দরকার, বিদ্যুতের দাম বাড়লে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল সকল উৎপাদন ব্যবস্থা, উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক নিয়ম। তবে এই সঙ্গত ও আনুপাতিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী প্রায় সব পণ্য ও পরিবহন সেবাসহ বহু সেবারই অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে নাগরিকদের সেই ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠে। তবে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বড় ধরনের প্রভাব শিল্পক্ষেত্রে না পড়ারই কথা।

এটা অস্বীকার করার কিছু নেই যে, বিগত ছয় বছরে দেশে বিদ্যুতের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। ঢাকার লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। দেশের বহু জেলার গ্রাম পর্যায়ে নতুন করে বিদ্যুত বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চোখে পড়ার মতোই বিদ্যুত সেক্টরের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ৭৭টি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি সই হয়েছে। এতে আগামীতে ১১ হাজার ৫০৯ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদিত হবে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশ বিদ্যুত সুবিধার আওতায় রয়েছে।

বিশ্ব মন্দার প্রভাব এবং বছরের প্রথমার্ধে দেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের সশস্ত্র সহিংসতার মধ্যেও জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্প খাতের অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ খাতে শ্রমশক্তিও বেড়েছে ২০ শতাংশ। বাংলাদেশ যে ক্রমশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতির স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেছে তার বড় উদাহরণ বিদ্যুত খাতে সক্ষমতা অর্জন। সে সক্ষমতার সুবাদেই আজকে শিল্প খাত সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ৩৬ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানে নতুন বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়। আর আবাসিক খাতে দেয়া হয় ১৮ লাখ নতুন সংযোগ। বিদ্যুতের যথার্থ ও মিতব্যয়ী ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পোদ্যোগে কাক্সিক্ষত গতি আসবে বলে আমরা আশা করতে পারি। ভবিষ্যতে শিল্প খাতের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদ্যুতের উন্মুক্তকরণ নীতি নিঃসন্দেহে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।