২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইউরোপে আসার পথ খুলে দিন

  • জলে-স্থলে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যু রোধে জাতিসংঘ মহাসচিব ও মানবাধিকার কর্মীদের আহ্বান

জাতিসংঘ ইউরোপ অভিমুখে পলায়নপর অভিবাসীদের মৃত্যু রোধ করতে আরও পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, ‘একাত্মতার সঙ্কট’ এড়ানোর জন্য সমষ্টিগতভাবে এক রাজনৈতিক সাড়া দেয়া প্রয়োজন। তিনি অভিবাসনের নিরাপদ ও বৈধ পথ সম্প্রসারিত করতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। অস্ট্রিয়াতে এক লরির মধ্যে বৃহস্পতিবার ৭১ ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। তারা সিরীয় বলে মনে করা হয়। লিবিয়ার অদূরে দুটি নৌকাডুবিতে অন্য প্রায় ২০০ জন মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্টের।

ইউরোপ অভিমুখে যাওয়ার পথে স্থলে ও জলে বহু অভিবাসীর একযোগে মৃত্যু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মহাদেশের অভিবাসন নীতি সংস্কারের জন্য নতুন করে আহ্বান জানানো হয়েছে। নারী-পুরুষ শিশু যেভাবে জীবনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি উপেক্ষা করে ইউরোপে যেতে চাইছে, সেটি আর আগে কখনও দেখা যায়নি। জনস্রোত হ্রাস পাওয়ায় কোন লক্ষণ চোখে পড়ছে না।

বান কি মুন বলেন, তিনি জীবনহানির সর্বশেষ ঘটনায় ভীতসন্ত্রস্ত ও মর্মাহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এ কষ্টসাধ্য ও বিপজ্জনক যাত্রায় শামিল হচ্ছে এমন ব্যক্তিদের বেশিরভাগই সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো জায়গাগুলো থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই সেই সংঘাত ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে আরও দৃঢ় সঙ্কল্পের পরিচয় দিতে হবে, যা মানুষের সামনে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় খোলা রাখেনি। বান আশ্রয় প্রার্থনা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আইন পালন করতে এবং মানুষকে নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে এমন স্থানে ফিরে যেতে বাধ্য না করতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি কেবল আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়ই নয়, এটি মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্যও। বান মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানান। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট এ আহ্বানের প্রতিধ্বনি করেন। আর্নেস্ট বলেন, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সহিংসতা ও অস্থিরতা কেবল সেই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাই বিনষ্ট করছে না, ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটাতে শুরু করছে।

ঐসব মৃত্যুর ঘটনার পূর্বেই চলতি বছর ইউরোপে আশ্রয় চাইতে গিয়ে অন্তত ২৫০০ জন মারা যায়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেলে কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার কর্মীরা নিরাপদ পথ সৃষ্টি করতে মহাদেশের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের মতে, এর ফলে শরণার্থীরা অসাধু চোরাচালানিদের চালানো বিপজ্জনক যাত্রাপথ এড়াতে পারবে।

অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইওহানা মিকল-লিটনার বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে সমাধান নিহিত নয়, বরং ইউরোপে আসার আরও বৈধ উপায় খুলে দেয়াতেই সমাধান নিহিত। তিনি আইসেন স্ট্যাট শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দিচ্ছিলেন।

জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল বলেন, আমরা এখন যতখানি সমর্থ, তার চেয়ে আরও ভালভাবে যাতে শরণার্থী ইস্যু নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারি, সেজন্য ইউরোপে জোর প্রচেষ্টা চলছে। তার সরকার সম্প্রতি ইউরোপে অভিন্ন আশ্রয়দান নীতি গ্রহণের আহ্বান জানায়।

কিন্তু ইউরোপীয় নেতারা মতৈক্যে পৌঁছতে পারবেন বলে গভীর সন্দেহও রয়েছে। কারণ এর আগে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও নির্যাতনের কারণে পালিয়ে আসা বিরাট সংখ্যক মানুষের দায়িত্বকে গ্রহণ করবে, এ নিয়ে নেতারা মাসের পর মাস সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন এবং তিক্ত অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে লিপ্ত হন।

চলতি বছর ইউরোপে সৃষ্ট শরণার্থী সঙ্কটের বহু কারণ রয়েছে এবং এদের কোন সহজ সমাধান নেই বলে মানবাধিকার কর্মীরা স্বীকার করেন। কিন্তু অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘর্ষ কবলিত দেশগুলোর লোকজনের জন্য ভিসা পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের তাদের নিজ অঞ্চল থেকে আবেদন করতে দিয়ে ঐ সঙ্কট প্রশমিত করা যেতে পারে। এতে তাদের স্থল ও জল পথে হাজার হাজার মাইল পার হতে গিয়ে তাদের জীবনের ঝুঁকি নিতে হবে না।