১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লিবিয়ায় নৌকাডুবি ॥ লাশ উদ্ধার আরও ১৬ বাংলাদেশীর

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় আরও ১৬ বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪ বাংলাদেশীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম এ কথা নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ভূমধ্যসাগর থেকে ১১১ অভিবাসন প্রত্যাশীর লাশ উদ্ধার করেছে। শনিবার রেড ক্রিসেন্ট এ তথ্য প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবারের মর্মান্তিক এই নৌকাডুবির ঘটনায় এখনও বহু লোক নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অনেক বাংলাদেশীও রয়েছে। খবর বাংলা নিউজ/ এএফপির।

লিবিয়ার ত্রাণ সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, শনিবারের এ মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় এখনও বহু লোক নিখোঁজ রয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র মুহাম্মদ আল মিসরাতি বলেন, নৌকাটিতে ৪০০ অভিবাসন প্রত্যাশী ছিল। এদের মধ্যে ১৯৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় জুয়ারা বন্দরের কাছাকাছি ওই নৌকাডুবির পর ৭৬ মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিলেন আল মিসরাতি।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাবার চেষ্টাকালে এ পর্যন্ত আড়াই হাজার প্রাণহানি ঘটেছে।

স্টাফ রিপোর্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জানান, কসবার সোনারগাঁও গ্রামে এখন মাতম চলছে। মনু মিয়া ও ফজল মিয়ার বাড়িতে নাওয়া-খাওয়া নেই। এই দুই পরিবারের দুই তরুণ লিবিয়ায় নৌকাডুবে মারা গেছে। দারিদ্র্য জয় করতে বছর তিনেক আগে তারা লিবিয়ায় যায়। সেখানে তারা নিয়মিত বেতন ভাতা পেত না। এ অবস্থায় সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করে। গত সপ্তাহে তারা নৌকা দিয়ে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেয়। পথেই তারা পানিতে ডুবে মারা যায়। পরিবারের এখন একটাই দাবি লাশগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার। শনিবার লিবিয়া প্রবাসী শেরবুগীর গ্রামের দেলোয়ারের মাধ্যমে নিহত পরিবার জানতে পারে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজের তালিকায় এ দুজনের নাম রয়েছে। এরপর মা বাবা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। নিহত নাজমুল হাসানের পিতা ফজল মিয়া বলেন, সাড়ে ৫ লাখ টাকা খরচ করে তাকে ৩ বছর আগে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। ধার-দেনা করে পাঠানো হলেও এখনও ২ লাখ টাকা বাকি রয়েছে। আমিনুল ইসলামের পিতা মনু মিয়া বলেন, তিন বছর ধরে সে লিবিয়ায় অবস্থান করছে। সেখান থেকে আরও উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করে সাগরে ডুবে মারা গেছে।