২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জারিতে মৃত্যু ৫ শতাংশে নেমেছে

  • বেড়েছে চিকিৎসা সেবার মান

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ কার্ডিয়াক সার্জারি রোগী মৃত্যুর হার আগের তুলনায় কমেছে বলে দাবি করেছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ হাসপাতালে কার্ডিয়াক সার্জারিতে ভর্তি হওয়া রোগীর শতকরা ৫ জন মারা যায়। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে বেড়েছে চিকিৎসাসেবার মানও। হাসপাতালে দালালদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। রাজস্ব অপচয় রোধের জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। রোগীদের সেবার পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি করা হচ্ছে। অবকাঠামোর সম্প্রসারণ ও যথাযথ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হলে স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বমানের পর্যায়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে রক্তনালী ছেঁড়া, হাত, পা ঠা-া, অকেজো হয়ে যাওয়া রোগীর রক্তনালীর ব্লক জরুরী ভিত্তিতে ইমার্জেন্সি ভাসকুলারে অপারেশন করা হচ্ছে। এ সেবা নিচ্ছে বছরে প্রায় ১৫ শ’ রোগী । হাত-পায়ের পচন ঠেকাতে বাইপাস অপারেশন করা হচ্ছে এ হাসপাতালে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এস টি এম আবু আজম দৈনিক জনকণ্ঠকে বলেন, ৪১৪ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতাল। কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে শয্যা সংখ্যা মোট ১০৭। এ বছর জুলাই পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর মধ্যে বাইপাস সার্জারি, ভাল্ব সার্জারি, হার্টের জন্মগত ত্রুটির অপারেশন ও ইমার্জেন্সি ভাসকুলার সার্জারি অন্যতম। বহির্বিভাগে গত বছর প্রায় পঁচিশ হাজার রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কার্ডিয়াক সার্জনগণ নতুন উদ্যমে রোগীদের অত্যাধুনিক সেবা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং এ লক্ষ্যে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রতিদিনের অপারেশন সংখ্যা বৃদ্ধি, পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য আলাদা আইসিইউ, অদূর ভবিষ্যতে কার্ডিয়াক ট্রান্সপ্লান্ট ও রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে অবহিত করেন।

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ কামরুল হাসান মিলন বলেন, ২০১৪ সালে এ হাসপাতালে কার্ডিয়াক সার্জারি রোগীর শতকরা ৭ জন মারা যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে ২০১৫ সালে শতকরা ৫ জন মারা যায়, যা উন্নত দেশেও একই চিত্র। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে এ হাসপাতালে ২৫০৪টি কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। এক্ষেত্রে এই ইউনিটের বিশেষজ্ঞ কার্ডিয়াক সার্জন, প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থী, এ্যানেসথেসিস্ট, ওয়ার্ডে সেবিকাদের অবদান রয়েছে। কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিটের সফলতার কারণে অনেক প্রাণ রক্ষা পাচ্ছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ কামরুল হাসান মিলন আরও বলেন, দেশে কার্ডিয়াক সার্জারি প্রয়োজন এমন রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়লেও সে তুলনায় কার্ডিয়াক সার্জনের সংখ্যা বাড়েনি। দেশে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন হাজার হাজার হৃদরোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে আরও ১০ গুণ বিশেষজ্ঞ কার্ডিয়াক সার্জন প্রয়োজন। তাছাড়া একটা অপারেশন করতে অনেক সময় লাগে, সে জন্য বিকেলে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রনোদণামূলক সুযোগ-সুবিধার কথা জানান ড. মিলন।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এস টি এম আবু আজম বলেন, রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য দক্ষ জনবল, গবেষণার কাজ আরও ত্বরান্বিত করার জন্য হাসপাতালে জরুরী ভিত্তিতে আরও ২০০ বেড সংযুক্ত প্রয়োজন । তিনি বলেন, এই জন্য একটি প্রস্তাব স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। গরিব রোগীদের জন্য রিং, অক্রিজেনেটর, পেসমেকার, হার্টের বাল্বের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের দেশে সাধারণত রিং তৈরি হয় না, যা উন্নত দেশ থেকে নিয়ে আসতে হয়। এর দাম পড়ে ৬০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। যা গরিব রোগীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করে সহজে পেতে পারে। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে এ প্রজেক্টটি বন্ধ আছে। তিনি আশা করেন শীঘ্রই ৪০০টি রিং এ হাসপাতালে আসবে।

হাসপাতালের পরিচালক আরও বলেন, হাসপাতালে জায়গা বৃদ্ধির জন্য সরকারের সহযোগিতা চান তিনি। তাছাড়া হাসপাতালে ইনডোরের পাশাপাশি আউটডোরে রোগীদের ফ্রি ওষুধ ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য প্যাথলজি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।