১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএসের ইতিহাসকে গুঁড়িয়ে দেয়ার নেপথ্যে-

  • ঐতিহাসিক স্থান ধ্বংস সভ্যতার বিরুদ্ধে অসহনীয় অপরাধ ॥ ইউনেস্কো

গত মে মাসে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গীরা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল সিরিয়ার পালমিরার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা প্রাক রোমান যুগের ধারক শহরের প্রতীকী ধ্বংসাবশেষ রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছিল। প্রতœতাত্ত্বিকরা যারা কযেক বছর ধরে অসহায়ভাবে দেখছিলেন যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদ বিভাগে মধ্যপ্রাচ্যের পুরাকীর্তিগুলোকে গ্রাস করে ফেলছে তারা ওই আশ্বাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তবে ওই অঙ্গীকার ছিল ক্ষণস্থায়ী। গত কযেক সপ্তাহে আইএস তাদের অন্যতম বিনাশী ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। তারা আলমিরার দু’হাজার বছরের প্রাচীন মন্দির ও সমাধানগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। খবর ইয়াহু নিউজের।

শুধু প্রাচীন নিদর্শন নয় মানুষও ছিল তাদের সহিংসতার লক্ষ্য। গত ১৮ আগস্ট তারা আলমিরার প্রতœতাত্ত্বিক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান খালিদ আল-আসাদকে মূল্যবান পুরাকীর্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পর ভয়ঙ্করভাবে হত্যা করে। তারা একটি নিকটবর্তী রোমান এ্যামফিথিয়েটারকে যদিও সেটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে অন্যান্য প্রাণদ- কার্যকর করার নাটকীয় পশ্চাৎপদ হিসেবে ব্যবহার করে। আইএস সেসব মানুষের বিরুদ্ধে নৃশংস আচরণ করার জন্য পরিচিত যারা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে কিংবা জিহাদীগোষ্ঠীর কট্টর বিশ্বাসের সঙ্গে একমত হয়নি। তবে কেন তারা ইরাক ও সিরিয়াজুড়ে নির্বাক, প্রাচীন ও অত্যন্ত মূল্যবান ধ্বংসাবশেষগুলোকে গুঁড়িয়ে দেয়ার জন্য সুবিদিত, যেসব পুরাকীর্তি বহুকাল আগের পরিত্যক্ত বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত? এর সহজতম ব্যাখ্যা হতে পারে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। ইউনেস্কো পালমিরার মতো ঐতিহাসিক স্থানের ধ্বংস সাধনকে সভ্যতার বিরুদ্ধে অসহনীয় অপরাধ বলে বর্ণনা করেছে।

তাদের ভিডিও’র দৃশ্যগুলো অনুরাগীদের আইএস গোষ্ঠীতে টেনে আনতে এবং শত্রুদের মনে ভীতি জাগাতে সাহায্য করে। নিউইয়র্ক টাইমস আগস্টের শেষদিকে উল্লেখ করে আইএস কখনও কখনও এসব ভিডিওকে তাদের সামরিক পরাজয় থেকে দৃষ্টি ফেরাতেও ব্যবহার করে থাকে। অর্থ সংগ্রহও একটি উদ্দেশ্য বলে জোরালোভাবে সন্দেহ করা হয়। কয়েকজন প্রশ্ন করেছেন আইএস গোষ্ঠী কোন অবিকল প্রতিরূপ ধ্বংস করছে কিনা কিংবা পুরাকীর্তি উদ্ধারের খনন কাজকে আড়াল করতে নাটকীয়ভাবে ধ্বংসাবশেষ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে কিনা।