১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গোদাগাড়ীতে আউশের ফলন বিপর্যয়

  • মেঘলা আকাশ ও অতিবৃষ্টিতে পাতা ঝলসানো রোগ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ গোদাগাড়ী উপজেলায় এবার আউশের ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। কৃষি বিভাগের দাবি, আউশের মৌসুমে আকাশ মেঘলা থাকায় ধান গাছে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (বিএলবি) বা পাতা ঝলসানো রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। ফলে ধানের ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। এ অবস্থায় ধান মাড়াইয়ের পর দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কৃষক। কৃষকরা জানান, এক বিঘা ধান চাষে এবার খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। আর বিঘাপ্রতি ধানের উৎপাদন ৩ থেকে ৭ মণ। বাজারে মণপ্রতি নতুন ধানের দাম সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। এ অবস্থায় তারা মৌসুমের শুরুতেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

ধান চাষ করে লাভ তো দূরের কথা বিঘাপ্রতি তাদের দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় এবার ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। এখন জমিতে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজও শুরু হয়েছে। তবে ধানের ফলনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। কৃষকরা জানান, এবার তারা পারিজা জাতের ধান রোপণ করেছে বেশি। রোপণের পর থেকেই রোগ দেখা দেয়। ওই সময় বিভিন্ন প্রকারের ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও প্রতিকার মেলেনি। এ কারণে ধানের ফলন বিঘায় ৩ থকে সর্বোচ্চ ৭ মণে নেমে এসেছে। কোন কোন কৃষকের ধান কাটারই অনুপযোগী হয়ে গেছে। উপজেলার দুধাই গ্রামের চাষী আনারুল ইসলাম জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে আউশ চাষ করেছিলেন। তাতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১৬ হাজার টাকা। গত সপ্তাহে ধান কেটেছেন। মোট ফলন হয়েছে ২০ মণ। ধান কাটা-মাড়াইয়ে শ্রমিকদের দিতে হয়েছে ৬ মণ। অবশিষ্ট ১৪ মণ ধান বিক্রি করে পেয়েছেন ৬ হাজার ৪৪০ টাকা। টানা তিন মাসের পারিশ্রমিক বাদ দিলেও এতে তার ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা।

তোফাজ্জল হোসেন নামে অপর এক কৃষক জানান, ধান ক্ষেত বিএলবিতে আক্রান্ত হওয়ায় এবার ধানে চিটার পরিমাণ অতিরিক্ত। এ কারণে তিনি তিন বিঘা জমি থেকে মাত্র ১৮ মণ ধান পেয়েছেন। শিবসাগর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে আউশ চাষ করেছিলেন। ধানক্ষেত বিএলবিতে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি কাটতেই পারেননি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, গোদাগাড়ী অঞ্চলের আবহাওয়া এবার আউশ চাষের অনুকূলে ছিল না। দীর্ঘসময় ধরে আকাশ মেঘলা ও অতিবৃষ্টির কারণে আউশের ক্ষেতে বিএলবি রোগের প্রকোপ দেখা দেয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এ কারণে ধানের ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোজদার হোসেন বলেন, আউশ চাষে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না।

তার মতে, পারিজা জাতের ধান সরকার অনুমোদিত কোন জাত নয়। স্থানীয়ভাবেই কৃষকরা জাতটির চাষ করে থাকেন। পারিজা অল্পতেই নানা রোগে আক্র কারণেই ঘটেছে ফলন বিপর্যয়।