২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুসলিম বিশ্ব নীরব

ভূমধ্যসাগরের এপারে-ওপারে অভিবাসী মানুষের লাশের মিছিল। সাগরে ভাসছে অসংখ্য মানুষ। এদের শরণার্থী, অভিবাসী, উদ্বাস্তু, আশ্রয়প্রার্থী বা ভাগ্যান্বেষী যে নামেই ডাকা হোক না কেন, অসহায় মানুষগুলোর ভাগ্যলিপি এখন ইউরোপের দ্বারপ্রান্তে। এরা এসেছেন গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া ও আফগানিস্তান থেকে। রয়েছে সংঘাত-সন্ত্রাস আক্রান্ত পাকিস্তান, মিসর, সুদানের মানুষও। সবাই বিতাড়িত। তাদের আশ্রয় নেই, খাবার নেই, জীবন ধারণের উপকরণ নেই। তাই তাদের আহাজারি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ ইউরোপের দ্বারপ্রান্তে। হতভাগ্য এই অভিবাসীদের জন্য সীমান্ত খুলল অস্ট্রিয়া ও জার্মানিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ভাগ্যের দরজা মূলত খুলে দেয় ভূমধ্যসাগরে ডুবে মৃত আয়লান নামের তিন বছরের শিশু। তার সেই ছবি সারাবিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। সন্তানহারা পিতার আহাজারি আঘাত করেছে ইউরোপের অভিবাসন নীতির ওপর। মিডিয়ার কল্যাণে এই নিথর দেহই তাদের বিবেককে জাগ্রত করে। কিন্তু জাগাতে পারেনি মুসলিম বিশ্বকে। বিচলিত করেনি ইসলামী সংগঠন ওআইসিকেও। যা কোনভাবে প্রত্যাশিত নয়। অভিবাসন প্রত্যাশী, আশ্রয়প্রার্থী জনসংখ্যার ৯০ ভাগ মুসলমান। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সচ্ছল ধনী মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এদের সহায়তায় এগিয়ে আসা উচিত ছিল। অভিবাসী এই মানুষগুলোকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়ার কোন অধিকার কোন রাষ্ট্রের নেই। শুধু এরাই বাস্তুহারা হয়নি। বিপদে পড়েছে, উদ্বিগ্ন হয়েছে গোটা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ। সবচেয়ে বেশি সঙ্কটে পড়েছে ইউরোপ। লাখ লাখ শরণার্থীর চাপ সামাল দিতে হচ্ছে গোটা ইউরোপকে। গত কয়েক দশকের ইতিহাস বলছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কখনই এরকম সঙ্কটে পড়েনি।

একথা ভুললে চলবে না, তালেবান আর আইএসের জঙ্গীপনার নামে উন্মাদনায় সৃষ্ট সঙ্কটে মধ্যপ্রাচ্যের লাখ লাখ মানুষ আজ অভিবাসী। মুসলিম জনপদের রাষ্ট্র এবং সরকারবহির্ভূত একটি সংক্ষুব্ধ অংশ ইতোমধ্যে ‘নন স্ট্রেট এ্যাক্টর’ নামে অভিহিত হয়ে গোটা জনপদকে তছনছ করে চলেছে। সিরিয়া ও ইরাকের বিরাট অংশ দখল করে মার্কিন যুদ্ধজোটের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত আইএস। তালেবানরা যুদ্ধ করছে আফগানিস্তানে। পাকিস্তানে সম্প্রসারিত হয়েছে ‘তাহারিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ টিটিপি। সোমালিয়া তথা আরব সাগর উত্তাল করে তুলেছে ‘আল-শাহাব’। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী ক্যামেরুন, শাদ, নাইজারের মানুষের ঘুম হারাম করে তুলেছে ‘বোকো হারাম’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করার পর সংগঠনটি বিপর্যস্ত হলেও বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন তৎপরতার খবর অতি পুরোনো।

ইউরোপ অভিমুখী অভিবাসী এই স্রোত রীতিমতো মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। মুসলিম জনগোষ্ঠী আজ ইউরোপের দ্বারে দ্বারে আশ্রয়ের আশায় আহাজারি করছে। এই দৃশ্য কোনমতেই সম্মানজনক নয়। এর অবসানে কেবল ইউরোপই নয়, গোটা মানবজাতি তথা মুসলিম বিশ্ব তাদের দায় ও দায়িত্ব অনুভব করবে- এটাই প্রত্যাশা।