১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রিপোর্টিং এ্যাক্ট পাস হওয়ায় ভুয়া প্রতিবেদন দেয়ার প্রবণতা কমবে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট (এফআরএ) পাস হওয়ায় অর্থনীতিবিদসহ বিনিয়োগকারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই আইনটির কারণে ভবিষ্যতে অডিটরসদের মিথ্যা বা ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদানের প্রবণতা কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। তবে আইনটি যথাযথভাবে পাস না হওয়ার অভিযোগ এনে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছে দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড এ্যাকাউনটেন্ট অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)।

ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট পাস হওয়ায় অডিটরসদের মিথ্যা সার্টিফিকেট প্রদান কমে আসবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ। এছাড়া ভুলের জন্য বা মিথ্যা সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য অডিটরদের দায়ী করা যাবে।

আবু আহমেদ আরও বলেন, আইনটি খুবই প্রয়োজন ছিল। এটির জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। যা হোক, দেরি করে হলেও আইনটি পাস হওয়ায় সরকারকে স্বাগত জানাই। ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট পাস হওয়ায় সরকারকে স্বাগত জানান দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট এ্যান্ড ম্যানেজম্যান্ট এ্যাকাউনটেন্ট অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট এএসএম শায়খুল ইসলাম। এই আইনের ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। যাতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আইনটি কার্যকর করার জন্য যত দ্রুত সম্ভব ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) গঠন করার দাবি জানান তিনি।

তবে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট পাস হওয়ায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি আইসিএবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট কামরুল আবেদিন। তিনি বলেন, আইনটি যেভাবে হওয়ার কথা ছিল সেভাবে হয়নি। কেবিনেটে যেভাবে আইনটি উপস্থাপন করা হয়েছিল সংসদে সেভাবে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে আইনটি ভিন্নভাবে পাস হয়েছে। যার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, অডিট একটি জটিল কাজ। সে হিসেবে এফআরসিতে কয়েকজন সিনিয়র চার্টার্ড এ্যাকাউনটেন্ট রাখার সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু তা করা হয়নি।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, এফআরএ পাসের মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কমে আসবে অডিটরস ও কোম্পানির প্রতারণামূলক যোগসাজশ।

উল্লেখ্য, রবিবার ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন-২০১৫ বিল জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। অর্থ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য জনস্বার্থে নিয়োজিত এনজিওসহ বেসরকারী সংস্থা এবং সরকারী স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং বিল পাস করা হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, কর্পোরেট সেক্টর, পাবলিক সেক্টর কর্পোরেশন, সরকারী স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, এনজিও, ব্যাংক, আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়ন, হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।