১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইতিহাসের পাতায় রুনি

  • অতশী রহমান

ইংল্যান্ডের হয়ে গৌরবময় রেকর্ডের মালিক হয়েছেন ওয়েন রুনি। তারকা এই স্ট্রাইকার গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ইউরো বাছাই ফুটবলে সান ম্যারিনোর বিরুদ্ধে এক গোল করে নিজ দেশের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছেন। আপাতত তাঁকে রেকর্ডটি ভাগাভাগি করতে হচ্ছে ইংল্যান্ডের ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা স্যার ববি চার্লটনের সঙ্গে। দু’জনেরই এখন ইংল্যান্ডের হয়ে গোলসংখ্যা ৪৯টি করে। অবশ্য ৮ সেপ্টেম্বর রাতে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোল করলে রেকর্ডটির মালিক এককভাবে হবেন রুনি।

কিংবদন্তি চার্লটনের পাশে নাম লেখাতে পেরেই গর্বের কথা জানিয়েছেন রুনি। রেকর্ড গড়া ম্যাচে মাঠে নামার আগে সমালোচনায় রীতিমতো জর্জরিত ছিলেন রুনি। গোল যেন সোনার হরিণ হয়ে যায় তাঁর কাছে! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে লীগে চলতি মৌসুমে গোল পাননি, মাঠেও নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। চাপ নিয়েই তাই সান ম্যারিনোর মাঠে খেলতে যান ইংলিশ অধিনায়ক।

ম্যাচের শুরুতেই গোল করে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হয়ে যান রুনি। নাম লেখান চার্লটনের পাশে। যে কারণে প্রায় সবাই ধরেই নিয়েছিলেন ওই ম্যাচেই এককভাবে রেকর্ডটি নিজের করে নিবেন ম্যানইউ তারকা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নেয়ায় সেটা আর হয়নি। এরপরও কিংবদন্তি তারকার পাশে নাম লেখাতে পেরেই খুশি রুনি। সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, এটা গর্বের মুহূর্ত যে আমি স্যার ববি চার্লটনের পাশে নাম লিখিয়েছি। আমি চেয়েছিলেন দলকে জয়ে সহযোগিতা করা ও রেকর্ড গড়া। ১০৬ ম্যাচে ৪৯ গোল করা রুনিকে অবশ্য রেকর্ডটির জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না! যদি তিনি পারেন।

কেননা মঙ্গলবারই ঘরের মাঠে খেলেছে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ম্যাচটি। রুনি বরং সান ম্যারিনোর রেকর্ডটি না হওয়ায় খুশি। ওয়েম্বলিতে দারুণ মাইলফলক ছুঁয়ে রেকর্ড গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন রুনি। বর্তমানে ৪৯ গোল করা এই তারকা এক গোল করলে চার্লটনকে তো ছাড়িয়ে যাবেনই। স্পর্শ করবেন ৫০ গোলের মাইলফলক। ম্যানইউর হয়ে যেমনই হোক, ইংল্যান্ডের হয়ে রুনি গোলের দেখা পাচ্ছেন নিয়মিতই। ইউরো বাছাইয়ে সর্বশেষ ছয় ম্যাচেই গোল পেয়েছেন, ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে তাঁর গোল ১০টি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, চার্লটন তাঁর ৪৯ গোল করেছিলেন ১০৬ ম্যাচে। ইংল্যান্ডের হয়ে রুনিও ৪৯ গোল করেছেন ১০৬ ম্যাচে। পাশে নাম লিখিয়েছেন, হয়ত ছাড়িয়ে যাবেন অচিরেই। এরপরও রুনির চেয়ে চার্লটনকেই এগিয়ে

রেখেছেন ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার জিওফ হার্স্ট। তিনি বলেন, রুনি একজন কিংবদন্তি। তবে দু’জনের তুলনা করতে গেলে বলতে হয়, ববি চার্লটন মিডফিল্ডার হিসেবেই এত গোল করেছেন। আর রুনি তো খেলে স্ট্রাইকার হিসেবে। চার্লটন বিশ্বকাপও জিতেছে, সেটাও মনে রাখতে হবে। ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে নিজের অধীনে রেখেছেন কিংবদন্তি ববি চার্লটন। আগের ম্যাচেই রেকর্ডটি নিজের করে নেয়ার সুযোগ ছিল রুনির। কিন্তু কোচ রয় হডসন ম্যাচের ৫৭ মিনিটে তাকে তুলে নিলে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবে এজন্য ইংলিশ অধিনায়কের কোন ক্ষোভ নেই বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে সাক্ষাতকারে রুনি বলেন, ওয়েম্বলিতে রেকর্ড ভাঙ্গা হবে বিশেষ সম্মানের। ১৯৬৮ সালের মে মাসে ওয়েম্বলিতেই জিমি গ্রেভেসের ৪৪ গোলের রেকর্ড অতিক্রম করেছিলেন চার্লটন। ১৯৭০ সালের মে মাসে বোগোটায় কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে ক্যারিয়ারের ৪৯ নম্বর গোল করেছিলেন তিনি। সর্বশেষ গ্যারি লিনেকার ৪৮ গোল করে চার্লটনের রেকর্ডের কাছে পৌছে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাঁকে টপকাতে পারেননি তিনি। রেকর্ড প্রসঙ্গে রুনি বলেন, শনিবার রাতে যদি রেকর্ডটি গড়তে পারতাম তাহলে সেটি হতো অনন্য। তবে ঐতিহ্যবাহী ওয়েম্বলিতে এই রেকর্ডটি ভাঙতে পারাটা হবে আরও অসাধারণ। ইংল্যান্ড ও ম্যানইউ অধিনায়ক আরও বলেন, ১৮ বছর বয়সে আমি যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিই, তখন স্যার ববি ড্রেসিং রুমে এসে সবার সঙ্গে কথা বলতেন। বিশেষ করে আমার সঙ্গে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতেন। ইংল্যান্ড ও ম্যানইউর হয়ে ম্যাচ খেলার পর তিনি এসে আমাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করতেন। আমি নিশ্চিত এই রেকর্ড যদি ভাঙতে পারি তাহলে তিনিই সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন। এই রেকর্ড গড়ার জন্য আমি উদগ্রীব হয়ে আছি ঠিকই। তবে এটি আমাদের জন্য এক ও অভিন্ন। আশা করছি আমার ১০৭তম ম্যাচেই ৫০ গোল পূর্ণ হবে।

বিশ্বফুটবলের সেরা দলের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয় ইংল্যান্ডকে। কিন্তু বিশ্বকাপের ট্রফিটা জিতেছিল অর্ধশতাব্দী আগে। আর সেই স্বপ্নের শিরোপা জিততে চান রুনি। হতে চান ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি স্যার ববি চার্লটনের মতো। তবে এজন্য যে বিশ্বকাপ জেতা ছাড়া অসম্ভব তা ভাল করেই জানা তার। ২০০৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে চার গোল করেছিলেন রুনি। পরবর্তীতে নিজেকে আর সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্ট্রাইকার ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজ দলকে নিয়ে আশাবাদী। আর বর্তমান সময়ে তিনি লিওনেল মেসি ও দিয়াগো ম্যারাডোনার সম্পর্ক নিয়ে নিজেকে তুলনা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে সমর্থকরা বলেছিল, মেসি ম্যারাডোনার মতো হতে পারছে না কারণ সে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তবে আমি মনে করি ম্যারাডোনা থেকে মেসি আরও ভালো ফুটবলার। কিন্তু এটাই ফুটবল।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ ট্রফিটাই আসলে অনেক কিছু। একটা দল হিসেবে এটি বিচার করতে হবে। স্যার ববি করে দেখিয়েছিল এটি। আশাকরি আমার সময় এখনও আছে।’ সদ্য সমাপ্ত দল বদলে ফ্রান্সের অ্যান্তনি মার্শালকে কিনে আলোচনায় উঠে আসে রুনির ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আর তরুণ প্রতিভাবান এই ফুটবলার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে জায়গা করে নেয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচিত সংবাদ