১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারত নক্ষত্র সানিয়া-সাইনা!

  • মাহমুদা সুবর্ণা

শুধু কী শিরোপা

প্রথম ভারতীয় নারী ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে ওঠার রেকর্ডটা সাইনার

সানিয়া মির্জার সঙ্গে সাইনার দারুণ মিল

চলতি বছরই প্রথম ভারতীয় নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠলেন সানিয়া

হোক না সেটা ডাবলসে

যুগে যুগে ভারতের ব্যাডমিন্টন অঙ্গনে অসংখ্য তারকার আবির্ভাব ঘটেছে। যাদের সৌজন্যে কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্যও পেয়েছে দেশটি। কিন্তু একটা আক্ষেপ কিছুতেই যাচ্ছিল না তাদের। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে এর আগে কখনোই কোন ভারতীয় খেলোয়াড় প্রতিনিধিত্ব করতে পারেননি। অবশেষে ভারতীয়দের সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিলেন সাইনা নেওয়াল। প্রথম ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েন তিনি।

কিন্তু স্বর্ণপদক জিততে পারেননি তিনি। বিশ্বব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্পেনের ক্যারোলিনা মারিনের কাছে পরাজয় মানেন তিনি। সেই লড়াইয়ে দু’টি গেমে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার ভারতীয় এই তারকা শাটলারের। কিন্তু হারলেও প্রথম ভারতীয় হিসেবে বিশ্বব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য পদক জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাইনা। তবে জাকার্তার সেই লড়াইয়ের স্মৃতি অনেকদিন মনে রাখবেন সাইনা। তা টুর্নামেন্ট শেষ করেই জানিয়েছিলেন। ভারতের এই ব্যাডমিন্টন তারকার আরও অনেক সাফল্যই রয়েছে। ২০১২ সালে লন্ডনের অলিম্পিক নারী এককের শিরোপা জিতেছিলেন। তার দুই বছর আগে জিতেছিলেন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। গত বছর ইনচনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। তাছাড়া নিজের শোকেসে তুলেছেন কমনওয়েলথ গেমস, ওয়ার্ল্ড জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও।

শুধু কী শিরোপাই! প্রথম ভারতীয় নারী ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে ওঠার রেকর্ডটাও তার। এদিকে সাইনার সঙ্গে সানিয়া মির্জারও দারুণ মিল। চলতি বছরই প্রথম ভারতীয় নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে কোন ধরনের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠলেন সানিয়া মির্জা। হোক না সেটা ডাবলসে। এর আগে ভারতীয় টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে মহেশ ভূপতি ও লিয়েন্ডার পেজ দ্বৈতে শীর্ষে উঠেছিলেন। তবে প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে এ অর্জনটা শুধুই সানিয়ার। অসাধারণ অর্জনে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত হায়দরাবাদের ২৮ বছর বয়সী এই টেনিস-কন্যা, ‘আশা করি, এটা ভারতীয় নারীদের বিশ্বাস করতে সাহায্য করবে যে কোন কিছুই সম্ভব। ১ নম্বর হয়ে আমি গর্বিত। আমি সারা জীবন এটার জন্যই পরিশ্রম করেছি।’ শীর্ষে ওঠার পর তাকে অভিনন্দন-বার্তায় ভাসিয়েছেন অনেকেই। যাদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও টুইট করেছেন, ‘অসাধারণ অর্জন। ১ নম্বর হওয়ায় সানিয়াকে অভিনন্দন।’ অভিনন্দন জানিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও, ‘সানিয়ার এই কীর্তিতে পুরো দেশ গর্বিত।’ উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলক, ‘১ নম্বরের মুকুট পাওয়ায় অভিনন্দন সানিয়া। তোমার এ অর্জন আরও অনেককে উৎসাহিত করবে।’

প্রথমে ব্যাডমিন্টন র?্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠেন সাইনা নেওয়াল। এরপর টেনিসে সানিয়া মির্জা। এটাই প্রমাণ করে যে ভারতীয় মেয়েরা ক্রমেই নিজেদেরকে মেলে ধরছে। এ বিষয়ে ভারতীয় ব্যাটিং সেনসেশন বিরাট কোহলি টুইট করেছিলেন এই লিখে যে, ‘প্রথমে সাইনা তারপর সানিয়া! ভারতীয় মেয়েরা খেলাধুলায় এক নম্বর হচ্ছে। আর আমাদের সবাইকে গর্বিত করছে।’ সাইনা-সানিয়া দু’জনই প্রতিবেশী। নামেও তাদের দারুণ মিল। দারুণ সব সাফল্যে তারা নিজেরাও একে অন্যকে প্রশংসায় ভাসান। যেমন সানিয়ার সাফল্য নিয়ে সাইনার মন্তব্য, ‘টেনিস বিশ্বে সানিয়া মির্জা বড় নাম। ও নিজের খেলায় অপ্রতিরোধ্য। ভবিষ্যতে যেন আরও ভাল করতে পারে তার জন্য সবসময়ই শুভ কামনা।’ সানিয়া মির্জাও সাইনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তার মতে, ‘সাইনার খেলা সবসময়ই আমাকে মুগ্ধ করে। ও খুবই কঠোর পরিশ্রমী খেলোয়াড়। সবসময়ই নিজের সেরাটা দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে সে।’

তবে সাইনার একটি বিষয়ে সমালোচনা রয়েছে। সাফল্যের পর পুরনো কোচকে ভুলে যাওয়াটা খেলার দুনিয়ায় নতুন কিছু নয়। কোচ ইভান লেন্ডলের থেকে সরে এসে নতুন কোচ নিয়েছেন এ্যান্ডি মারে। সম্প্রতি ঘটে সাইনা নেওয়ালের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা। দীর্ঘদিনের পুরনো কোচ পুল্লো গোপীচাঁদকে পাল্টে নতুন প্রশিক্ষকের কাছে যান তিনি। সাইনা-গোপীচাঁদ বিচ্ছেদ এটা নতুন নয়। এর আগে ২০১১ সালে ভাস্কর বাবুর কাছে ৩ মাস প্রশিক্ষণ নেন সাইনা। পরে তার জন্য ভুল স্বীকারও করেন তিনি। ফিরে আসেন পুরনো কোচ গোপীচাঁদের কাছে। তারপরই ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জিতেন তিনি। সাবেক অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন জয়ী পুল্লো গোপীচাঁদের কাছে সানিয়া প্রশিক্ষণ নেন সেই ২০০৬ থেকে। তবে ভারতীয়দের মাঝে এখন গুঞ্জন যে গুরু-শিষ্য সম্পর্ক আবারও জোড়া লাগে নাকি আরও চওড়া হয় বিচ্ছেদের ফাটল। এদিকে সম্প্রতি ‘রাজীব গান্ধী খেল রতœ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সানিয়া মির্জা। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির কাছ থেকে খেলাধুলার সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কার রাজীব গান্ধী খেল রতœ পুরস্কার গ্রহণ করেন টেনিস তারকা সানিয়া। দ্বিতীয় টেনিস তারকা হিসেবে ভারতের খেলাধুলায় সর্বোচ্চ সম্মানজনক এই পুরস্কারে ভূষিত হন। তার আগে এই পুরস্কারে ভূষিত হন আরেক টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি শনিবার নয়া দিল্লীর রাষ্ট্রপতি ভবনে ২০১৪-১৫ মৌসুমে জাতীয় খেলাধুলার এই পুরস্কার সানিয়া মির্জার হাতে তুলে দেন। বর্তমানে টেনিস নারী ক্যাটাগরিতে দ্বৈতে এক নাম্বার র‌্যাঙ্কিংধারী মির্জা ‘রাজীব গান্ধী খেল রতœ’ পুরস্কার গ্রহণ করে তার আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘এই পুরস্কার পেয়ে আমি অনেক আনন্দিত ও সম্মানবোধ করছি। এটি আমি আমার পরিবার ও ভারতের মানুষকে উৎসর্গ করলাম।