১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওবামার নোবেল জয় কি বিতর্কের উর্ধে

  • মুসান্না সাজ্জিল

প্রতি বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গবেষণামূলক কাজের নতুনত্বে স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে নোবেল পুরুস্কার প্রদান করা হয়। ডিনামাইট আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের নামানুসারে এ পুরস্কার। আলফ্রেড নোবেলের স্বদেশ সুইডেন পুরুস্কারটির প্রবর্তক। কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কারের দায়িত্ব বর্তায় অসলোর হাতে। স্ক্যানডিনেভিয়ান রাষ্ট্র নরওয়ের এ পুরস্কারটি বরাবরই রাজনৈতিক এবং নানা করণে প্রশ্নবিদ্ধ। হেনরি কিসিঞ্জার কিংবা চীনকে কোণঠাসা করতে তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাইলামার কথা ধরা যাক। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নোবলে পুরস্কার প্রদান সম্ভবত সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। বুশের রেখে যাওয়া ভাবমূর্তিকে কিছুটা প্রাণ দিতেই এমন কারসাজি। বুশ-ব্লেয়ারের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে বিশ্বের সকল নাগারিক সমাজ যতটা সোচ্চার ওবামার বেলায় তারা যেন কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। কারণ নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি কি কখনও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিভুক্ত হতে পারে? তাদের মনে প্রশ্ন। বিষয়টি কেমন দ্ব্যর্থবোধক শোনায়। তাছাড়া ওবামার শাসনামলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে আরব বসন্তের মরুঝড় উঠেছে স্বৈরশাসকের মসনদ কেঁপেছে, তা নিয়ে তো তাঁকে দোষ দেয়া যায় না, অভিযোগ করা যায় না। বলতে পারেন বরং এটা তাঁর কৃতিত্ব। সৈন্য প্রেরণ ছাড়াই তিনি নিজ দেশের মিশন পূরণ করেছেন। হ্যাঁ, ঠিক তাই। সিরিয়া কিংবা লিবিয়ায় ওবামা কোন মার্কিন সৈন্য পাঠাননি কেবল সামরিক রসদ ও ডলারের জোরেই বিদ্রোহীদের হাতে দেশ দুটো ধ্বংস করেছেন। ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতির জন্যও ওবামা দায়ী। গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত দেশটি হতে সৈন্য ফিরিয়ে নিয়ে কেবল অপরিণামদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তাঁর শাসনামলে পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে হাজারো বেসামরিক নাগরিক। ইয়েমেন কিংবা আফগানিস্তানের পরিস্থিতিও ঘোলাটে। মধ্যপ্রাচ্য এখন অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সংঘাতপ্রবণ ও অগ্নিগর্ভ। শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব, আইএস, কুর্দি সংঘর্ষ, সৌদি-ইরান দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ আজ অসহায়। অধিকাংশ রাষ্ট্র এখন গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত। নিজ ভূমি ছেড়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতেও দ্বিধা করছে না মানুষ।

সাগরতীরে ভেসে উঠছে আয়লান কুর্দির মতো শিশুর নিথর দেহ। কেবল সিরিয়ায় শরণার্থীর সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। অসংখ্য মানুষ এখন ইউরোপের আশ্রয় প্রার্থী। ওরা কি উন্নত জীবন চায়, না নিরাপত্তা? এটা নিয়েও অনেক ইউরোপীয় প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তারা? ধনী গালফ স্টেটগুলো কেবল নিজেদের ভৌত অবকাঠামোর দাম্ভিকতা ও পেট্রোডলারের অহমিকায় নিমগ্ন। ইউরোপের মতো মানবিক আচরণ তো এসব বেদুইন জাতি হতে আশা করা যায় না।

কিন্তু সিরিয়ার শরণার্থী পরিস্থিতি নিয়ে ওবামা ও তাঁর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী? কেবল বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করাই কি যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য? দেশটির এমন অমানবিক পরিস্থিতিতেও কি তাদের মিশন পূরণ জরুরী। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান যথার্থ বলেছেন।

পশ্চিমারা কেবল তেল-গ্যাস নিয়েই আগ্রহী, মানবিক বিপর্যয় নিয়ে তারা চিন্তিত নন। দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বর্ষ পার করছেন ওবামা। রেখে গেছেন বুশের চেয়েও বেশি ধ্বংসযজ্ঞ। নোবেল জয় যেন তাঁর যুদ্ধাপরাধের দায়মুক্তির অনুমোদন।