২৫ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনভিপ্রেত আমলাদের প্রতিনিধি তিনি

  • শিক্ষক নেতারা ক্ষুব্ধ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী জ্ঞানের অভাবে আন্দোলন করছে অর্থমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষক নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে অনভিপ্রেত ও অসংলগ্ন বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞানের অভাবে অর্থমন্ত্রী দায়িত্বহীন মন্তব্য করেছেন বলে মনে করেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার রাতে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, মাননীয় অর্থমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমে শিক্ষকদের বিষয়ে কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছেন, যা শুধু অনভিপ্রেতই নয় অসংলগ্নও বটে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী অতীতে অন্যদের ক্ষেত্রেও বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এসবের মাধ্যমে তিনি জাতির কাছে নিজেকে ইতোমধ্যে হাস্যকর করে তুলেছেন।

অর্থমন্ত্রীকে আমলাদের প্রতিনিধি আখ্যা দিয়ে শিক্ষক নেতারা বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর কাছে সুবিচার পাওয়া যাবে না বলেও মনে করেন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ সাধন ও প্রকৃত মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষকরা যে কোন গঠনমূলক প্রস্তাব মেনে নেবেন। কিন্তু গণমাধ্যমে মাননীয় মন্ত্রীর কথায় মনে হয়েছে, তিনি জনগণের প্রতিনিধি নন, আমলাদের প্রতিনিধি। সুতরাং তার কাছ থেকে শিক্ষকরা সুবিচার পাবেন বলে অমরা মনে করি না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষকদের পদোন্নতি ঘিরে তিনি যখন দুর্নীতির কথা বলেন, অন্যদিকে হলমার্ক কেলেঙ্কারিকে তিনি কিছুই মনে করেন না এবং বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি অত্যন্ত হালকাভাবে দেখেন, তখন তাঁর মুখে অন্তত জাতি গঠনের কারিগর শিক্ষকদের বিষয়ে এরূপ অবাঞ্ছিত বক্তব্য নিতান্তই অশোভন।

অন্যদিকে একই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সমিতির সদস্যদের জরুরী বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষক নেতারা। বৈঠক শেষে শিক্ষক নেতারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম দুদিন যথারীতি বন্ধ থাকবে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে কটূক্তি আখ্যায়িত করে মন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলেন সংগঠনের নেতারা।