২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরণার্থীকে ল্যাং মেরে চাকরি গেল সংবাদকর্মীর

অনলাইন ডেস্ক ॥ কয়েকশ শরণার্থী যখন পুলিশ এড়াতে ছুটছিলেন, তখনই শিশু কোলে এক বৃদ্ধকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন হাঙ্গেরির একটি টেলিভিশনের এক ক্যামেরাপারসন, যার খেসারত তাকে দিতে হয়েছে চাকরি খুইয়ে।

মঙ্গলবার হাঙ্গেরির রোসকি সীমান্তের ওই ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করে ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে তোলেন জার্মানির আরটিএল টেলিভিশনের সাংবাদিক স্টেফান রিচার। এরপর ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়, ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে।

এনওয়ানটিভির যে ক্যামেরাপারসন এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন, সেই পেত্রা লাসলোর প্রতি নিন্দা জানাতে রাতারাতি একটি ফেইসবুক গ্রুপও খোলা হয়েছে।

রোসকি সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল ঠেকাতে পুলিশি তৎপরতার মধ্যে আরও অনেকের সঙ্গে খবর ও ছবি সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন পেত্রা লাসলো।

এক পর্যায়ে আশ্রয়প্রার্থীরা পুলিশের বেষ্টনি ভেঙে বুদাপেস্টের দিকে ছুট লাগায়। এর মধ্যে শিশু কোলে ছুটতে থাকা এক বৃদ্ধ হুড়োহুড়ির মধ্যে পেত্রা পাসলোর সামনে পড়ে যান।

স্টেফান রিচার প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ছুটতে থাকা শরণার্থীদের ছবি ধারণ করতে করতেই হঠাৎ দুই শিশুকে লাথি মারেন পেত্রা। পরে পা বাড়িয়ে ছুটন্ত ওই বৃদ্ধকে তিনি ফেলে দেন। পরে আবার সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করেন।

এ সময় পড়ে যাওয়া বৃদ্ধকে পেত্রার সঙ্গে তর্ক করতে এবং শিশুটিকে কাঁদতে দেখা যায় বলে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

তুরস্ক উপকূলে বালুর মধ্যে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা শিশু আয়লান কুর্দির ছবি তুলে যেখানে বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছেন তুর্কি নারী ফটোগ্রাফার নিলুফার দেমির, সেখানে আরেকজন নারী ক্যামেরাপারসনের এমন আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।

‘দ্য পেত্রা লাসলো ওয়াল অফ শেইম’ (লজ্জার দেয়াল পেত্রা লাসলো) নামে একটি ফেইসবুক পৃষ্ঠায় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা।

হাঙ্গেরির শীর্ষস্থানীয় ইন্টারনেট সংবাদপত্র ‘ইনডেক্স’ শরণার্থী দুই শিশুকে পেত্রার লাথি মারার ছবিও প্রকাশ করেছে।

এই আচরণের জন্য পেত্রাকে বরখাস্ত করেছে এনওয়ানটিভি। এর প্রধান সম্পাদক সাবোলস কিসবের্ক টেলিভিশনের ওয়েসবাইটে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

ইউরোপমুখী শরণার্থীদের ঢল শুরু হওয়ার পর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ মানুষ সার্বিয়া হয়ে হাঙ্গেরিতে ঢুকেছেন, যাদের অধিকাংশ সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানের নাগরিক।

নির্বাচিত সংবাদ