২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাঙ্ককে বোমা হামলাÑবাংলাদেশের সাহায্য চেয়েছে থাই পুলিশ

  • মূল হোতার সন্ধানে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড এ্যালার্ট

শংকর কুমার দে ॥ থাইল্যান্ডের পুলিশ ব্যাঙ্ককের মন্দিরে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারীকে খুঁজে বের করার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাহায্য চেয়েছে। থাই পুলিশের তদন্তে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ইঙ্গিত দিচ্ছেÑ ব্যাঙ্ককের মন্দিরে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী পালিয়ে গিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কোন এক দেশে আত্মগোপন করে আছে। ব্যাঙ্কক বোমা হামলার সন্দেহভাজন চীনা নাগরিক আবু দোস্তার আবদুল রহমান ওরফে ইজান বলে তথ্য-প্রমাণে অনেকটাই নিশ্চিত থাই পুলিশ। এই পরিকল্পনাকারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কেও ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। এ বোমা হামলার ঘটনায় বিদেশী অর্থায়নসহ সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে থাই পুলিশ। থাই পুলিশের সাহায্য চাওয়ার প্রেক্ষিতে ব্যাঙ্কক বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সব ধরনের সাহায্যের জন্য অনুসন্ধান শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইরওয়ান মন্দিরের কাছে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে গত ১৭ আগস্ট। এতে বিদেশীসহ ২২ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এখন পর্যন্ত ওই হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দ্বিতীয় এক বিদেশী নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কম্বোডিয়া সীমান্তে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে বোমা হামলার ঘটনার পর নদীর পাড়ের ট্রানজিট স্টেশনে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ বলছে, সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ছোট্ট আকৃতির একটি বিস্ফোরক ব্রিজের ওপর থেকে ফেলা হয় এবং পানিতে পড়ার আগেই সেটি বিস্ফোরিত হয়। নদীর পানিতে এতে ব্যাপক ঢেউ সৃষ্টি হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

হলুদ টি-শার্ট পরা সন্দেহভাজন হামলাকারীর স্কেচ প্রকাশ করেছে থাই পুলিশ। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, বিস্ফোরণের আগে ওই যুবক মন্দিরে তার ব্যাক-প্যাক রেখে চলে যায়। ক্যামেরার ছবিতে দেখা হলুদ টি-শার্ট এবং থ্রি-কোয়ার্টার পরা ওই সন্দেহভাজনকে এখন খোঁজা হচ্ছে। ছবিতে ওই ব্যক্তিকে কাঁধ থেকে ব্যাগ নামিয়ে মন্দিরের কাছের একটি বেঞ্চে বসতে দেখা যায়। এরপর ব্যাগটি বেঞ্চের নিচে রেখে চলে যায়। এরপর সে কাছের সোই মাহাতলেক লুয়াংয়ে একটি ট্যাক্সির কাছে যায়। কর্তৃপক্ষ বলছে, ঠিক তার পরপরই ওই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই নাগরিক দেশী না বিদেশী সে সম্পর্কে পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি। দেশটির পুলিশপ্রধান সময়োত পিপানুউই এ ঘটনাকে নিরস্ত্র মানুষের ওপর বিদ্বেষমূলক হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এটা জঙ্গী হামলা কিনা, সে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, আদালতে ক্যামেরা ফুটেজ উপস্থাপন করে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে। পুলিশ ওই স্থানের গত দুই সপ্তাহের সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণের মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সন্দেহ করা হলেও এখন সেটা মনে হচ্ছে না। তবে পুলিশ প্রধান বলেছেন, আমি কোনকিছুই উড়িয়ে দিতে পারছি না। তিনি জানান, গত মাসে চীনের কাছে ১০৯ উইঘুর মুসলমানকে হস্তান্তর করা হয়।

থাই সরকারের প্রধান প্রায়ুথ চান ওচা বলেছেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি এ হামলাকে থাইল্যান্ডে ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে অভিহিত করে বলেছেন, আমরা হামলা চালানোর জন্য একজনকে সন্দেহ করছি। তাকে খোঁজা হচ্ছে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। হামলার সময় তাকে ঘটনাস্থলের কাছে দেখা গেছে। চান ওচা আরও বলেন, হামলাকারী সম্ভবত থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সরকারবিরোধী গ্রুপের সদস্য। থাইল্যান্ডের পর্যটন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্যই এ হামলা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

থাই পুলিশপ্রধান সোমইয়ত পুনপানমুয়াং বলেছেন, ভয়াবহ বোমা হামলার পেছনে একাধিক ব্যক্তির হাত ছিল। তবে এর বেশি কিছু বলতে চাননি পুলিশপ্রধান। ব্যাংককের বোমা হামলা এককভাবে চালানো হয়নি। ওই হামলার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দায়ী। বোমা হামলার সঙ্গে থাই নাগরিক জড়িত ছিল বলে মনে করছে থাই পুলিশ। তবে হলুদ টি-শার্ট পরা যে যুবকটিকে হামলাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে থাই নাগরিক নাকি বিদেশী তা নিশ্চিত নয় পুলিশ।

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের এক উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশের কাছে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যাঙ্কক বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারীর সাহায্য চেয়েছে থাই পুলিশ। থাই পুলিশ ব্যাঙ্কক বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী চীনা নাগরিক আবু দোস্তার আবদুল রহমান ওরফে ইজানের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে যে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশে আত্মগোপন করে আছে সে। বাংলাদেশ পুলিশ আবু দোস্তার আবদুল রহমান ওরফে ইজানসহ ব্যাঙ্ককে বোমা হামলার বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি ও অনুসন্ধান করে যাচ্ছে।