২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শীতলক্ষ্যা তীরে ছড়িয়ে পড়ছে সবুজের সমারোহ

  • সাড়ে চার কিমি ওয়াকওয়ে নির্মাণ ॥ পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট

মোঃ খলিলুর রহমান ॥ শীতলক্ষ্যা নদীর শোভাবর্ধন ও দৃষ্টিনন্দন করতে চলছে নানা উদ্যোগ। চলছে বৃক্ষরোপণ, নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে (হাঁটাচলার রাস্তা)। নদীর তীরে সবুজের সমারোহ ছড়িয়ে পড়ছে। বনজ ও ফলদ গাছের চারায় পূর্ণ হচ্ছে কাঁচপুর ব্রিজ এলাকার তীর ভূমি। এতদিন বৃক্ষরোপণের জায়গায় সারাক্ষণ শোনা যাচ্ছিল বালু ও পাথরের ঝনঝনানি শব্দ। স্বাধীনতার পর থেকেই চলছিল পাথর ও বালুর ব্যবসা। কাঁচপুর ব্রিজের নিচে পাথর ভাঙ্গার মেশিনের কান ঝাঁঝালো শব্দে ও ধুলাবালিতে আশপাশের পরিবেশ হয়ে উঠেছিল বিপন্ন। ফলে হাইকোর্টের নিদের্শনায় পাল্টেছে এখানকার দৃশ্যপট। বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। কাঁচপুর ব্রিজের আশপাশে নদীর তীরের অবৈধভাবে গড়েওঠা পাথর ও বালু ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। সেখানে শোভাবর্ধন ও আকর্ষণীয় করে তুলতে চলছে নানা ধরনের উদ্যোগ। ইতোমধ্যে নদীর তীরে নির্মিত হয়েছে ওয়াকওয়ে (হাঁটাচলার রাস্তা)। নির্মল বাতাস উপভোগ করতে নদীর তীরে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটে আসছে অসংখ্য মানুষ। প্রাত ও বৈকালিক ভ্রমণে মুখরিত থাকছে নদীর তীর এলাকা। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে আট হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। চলছে চারার দেখাশোনা ও নানা ধরনের পরিচর্যার কাজ।

প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা নদী। এ নদীর কাঁচপুর ব্রিজ ও তার আশপাশ এলাকায় তীর দখল করে অবৈধ ব্যবসায়ীরা গড়েছিল পাথর ও বালুর সাম্রাজ্য। ব্যবসায়ীদের থাবায় দিন দিন নদী ভরাট ও পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছিল। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে হাইকোর্ট নদী তীরের অবৈধ ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দেয়। সরকারী উদ্যোগে বন্ধ হয়েছে এখানকার পাথর ও বালু ব্যবসা। স্থায়ীভাবে এ অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এর পশ্চিম পাশে চলছে বৃক্ষরোপণ। কয়েক দফায় লাগানো হয়েছে বনজ ও ফলদ গাছের চারা।

বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম-পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, শিমরাইল ও আটি মৌজার

কাঁচপুর ব্রিজ ও ওয়াপদা কলোনির কাঁচপুর ল্যান্ডিং স্টেশনের আশপাশে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন গাছের ৮ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সর্বক্ষণিক লোক নিয়োজিত রয়েছে।

ঢাকার ডেমরা ঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাজারঘাট এলাকা পর্যন্ত চার দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে, তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ওয়াকওয়েটি এখন শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজনের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে। পরিণত হয়েছে বিনোদন স্পটে। পরিবার-পরিজন নিয়েও ওয়াকওয়ে হাঁটাহাঁটি ও ঘোরাফেরার একটি স্পট পেয়েছেন তীরবর্তী এলাকার লোকজন। প্রতিদিন বিকেল হলেই পরিণত হয় লোকে-লোকারণ্যে। শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, ছাত্রছাত্রী, তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষের পদভারে মুখরিত থাকে ওয়াকওয়েটি। আবার বিশেষ উৎসবের দিনে ওয়াকওয়েতে তিলধারণের ঠাঁই থাকে না। মিজমিজির বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি প্রতিদিন ভোরে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের নির্মিত ওয়াকওয়েতে হাঁটতে ছুটে আসেন। শুধু তিনিই নন, তার মতো অসংখ্য মানুষ ভোর হলেই ছুটে আসেন নদীর তীরে। আজিবপুর এলাকার বাসিন্দা শামীম রহমান জানান, ওয়াকওয়েটি এখন তীরবর্তী এলাকার প্রধান বিনোদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিকেল হলেই নানাবয়সী লোকজনের ঢল নামে। তিনি আরও জানান, ওয়াকওয়েটি নির্মিত হওয়ায় নদীর নির্মল বাতাস ও সৌর্ন্দয্য উপভোগ করা যায়। ওয়াকওয়ে ও নদীর তীরে গাছ লাগানোর ফলে নদীর পাড়ের সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে গেছে। নদী বাঁচাতে ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও গাছ লাগানোসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের সুফল উদ্যোগ অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে কতদিন ধরে রাখা যাবেÑ সেটাই এখন দেখার বিষয়।