১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাপেক্স ও গ্যাজপ্রম যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠন করছে

  • মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে তেল গ্যাস অনুসন্ধান লক্ষ্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের সীমানা পেরিয়ে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রমের সঙ্গে যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাশিয়ার মস্কোতে বুধবার গ্যাজপ্রমের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাপেক্স এবং গ্যাজপ্রম যৌথ বিনয়োগে কোম্পানি গঠন করে মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করবে। এখন পর্যন্ত বাপেক্সের সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের কোন অভিজ্ঞতা নেই। এর মধ্যদিয়ে সেই যোগ্যতাও অর্জন করবে বাপেক্স। গ্যাজপ্রম অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

দীর্ঘদিন থেকেই রাশিয়ান জাতীয় কোম্পানির সঙ্গে বাপেক্সের যৌথ উদ্যোগে কাজ করার বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে বাপেক্স এবং গ্যাজপ্রম আলোচনা করলেও এবার তা নির্দিষ্টকরণ চূড়ান্ত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত সরকারের শেষ দিকে এসে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গ্যাজপ্রম সহায়তার আশ্বাস দেয়। তখন থেকেই বাপেক্স যৌথমূলধনী কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে দেশের বাইরেও কাজ করার প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি এতদিন গ্যাজপ্রমের বিবেচনায় ছিল।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, গ্যাজপ্রমের আগে দেশীয় গ্যাস ক্ষেত্রে ১০টা কূপ খনন করেছে। গত ৩১ আগস্ট নতুন করে আরও ৫টি কূপ খননের কাজ পায় কোম্পানিটি। বাংলাদেশের গ্যাস ক্ষেত্রে কোম্পানি মূলত ঠিকাদার হিসেবে কূপ খনন করছে। রাশিয়া এবং ইউরোপে গ্যাজপ্রমের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। কোম্পানি সম্প্রতি উপমহাদেশে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারত-মিয়ানমার এবং বাংলাদেশে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে কোম্পানি। মিয়ানমার তাদের সমুদ্র এবং স্থলভাগে বিদেশী কোম্পানিকে দিয়ে ব্যাপকভাবে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু বাপেক্স দেশের বাইরে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকায় মিয়ানমার বিষয়টিতে তেমন সাড়া দেয়নি। তবে গ্যাজপ্রমের সঙ্গে যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠন করে অগ্রসর হলে মিয়ানমারে তেল গ্যাস অনুসন্ধান সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে গত বছর জুলাইতে গ্যাজপ্রমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি দেশে গ্যাজপ্রমের কাজের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন পৃথক কোম্পানি হিসেবে প্রায় দুই যুগের পথ চলায় বাপেক্সের সামনে এমন সুযোগ প্রথম এসেছে। রাশিয়ার জাতীয় তেল গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রম বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সিদ্ধান্তে সেই সুযোগ তৈরি হলো। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় কোম্পানি অয়েল এ্যান্ড নেচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ওএনজিসি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। ওএনজিসি সম্প্রতি বাংলাদেশের অগভীর সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) সই করেছে। অথচ বাপেক্স ওই অর্থে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাশিয়ার মস্কোতে গ্যাজপ্রমের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠন, স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভেলরি গুলেভ বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আতিকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, দেশে-বিদেশে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সকে আমরা আরও শক্তিশালী করতে চাই। তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাসময়ে সরবরাহ করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে বলে তিনি গ্যাজপ্রমকে নিশ্চিত করেন।

নির্বাচিত সংবাদ