২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুবকদের জেহাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার টার্গেট শহীদ হামজা ব্রিগেডের

  • অর্থায়নে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মাদ্রাসায় আরবী ভাষা ও আরবী সাহিত্য শিক্ষা দেয়ার আড়ালে দেয়া হচ্ছে জঙ্গী প্রশিক্ষণ। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া মুসলিম নির্যাতনের ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে যুবকদের জেহাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার টার্গেট নিয়ে নেমেছে জঙ্গী সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেড। দেশী-বিদেশী অর্থায়নে এ হামজা ব্রিগেডের তাত্ত্বিক ও সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চালানো হচ্ছে জঙ্গীগোষ্ঠীর ট্রেনিং ভিডিও। এসব ভিডিও’র মধ্যে রয়েছেÑ হিজবুল্লাহ, হামাস, ওসামা বিন লাদেনসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের নেতাদের জেহাদীকরণের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্য। অপরদিকে দেশে গড়ে তোলা জঙ্গীদের নির্দেশনামূলক ও আক্রমণাত্মক ভিডিও যেমন- বিমান হাইজ্যাক, অপহরণ ও জেহাদী সামরিক ট্রেনিং ভিডিও। র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রশ্ন উঠেছে, এসব জঙ্গী সংগঠনের সংগ্রহ করা ভিডিও’র মাধ্যমে দেশীয় যুবকদের জেহাদী বানিয়ে তুলতে যারা অপতৎপরতা চালাচ্ছে এবং যেসব ভবন ভাড়া নিয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বোমা তৈরির কারখানা বানানো হচ্ছে এসব শেল্টারদাতাদের এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি। জঙ্গী অর্থায়নের অভিযোগে দুটি অভিযানে গ্রেফতারকৃত চার অর্থদাতাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জঙ্গী নেতা মনিরুজ্জামান ডনের এ্যাকাউন্টে থাকা ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মধ্যে র‌্যাব সেভেন ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা অর্থায়নের হিসেব মিলিয়েছে। এ পর্যন্ত অর্থ যোগানদাতা হিসেবে গ্রেফতার হওয়া চারজনের ব্যাংকস্লিপ অনুযায়ী। খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এ চার অর্থ যোগানদাতার প্রত্যেকটি ব্যাংক বিবরণী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জঙ্গী অর্থায়নের অভিযোগে তালিকাভুক্ত এসব ব্যাংক শাখা ও কর্মকর্তাদের কারণ দর্শাও নোটিসের মাধ্যমে জবাবদিহি করা না হলে লেনদেনের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে সচেতন নাগরিকদের অভিমত।

ঢাকার তুরাগ এলাকার গোল্ডেন টাচ্ এ্যাপারেলসের পরিচালক এনামুল হককে গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন র‌্যাব সেভেনের সিও লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, জঙ্গী নেতা মনিরুজ্জামান ডনের এ্যাকাউন্টে এনামুল ১৬ লাখ টাকা জমা দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে। উত্তরার ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখায় অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এ নগদ অর্থ জমা দিয়েছিলেন তিনি। জমা দেয়ার সময় ব্যাংক সিøপে গুলশানের ইসলামী ব্যাংক শাখার এ্যাকাউন্ট রেফারেন্স দেয়ার পর তা উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

এসব ব্যাংক লেনদেনের পেছনে গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের একটি অংশও জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্লিপে ৫ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হলেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তা খতিয়ে দেখতে হবে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজেদের বিনিয়োগে খাটাতে গ্রাহকের অর্থ কালেকশন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধিমালা অমান্য করার পাশাপাশি মানি লন্ডারিংয়ে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব ব্যাংক কর্মকর্তাদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না তা প্রশ্নবিদ্ধ।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ অর্থের যোগানদাতা হিসেবে গ্রেফতার হওয়া গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এনামুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে র‌্যাব সেভেনের পতেঙ্গা দফতরে। ৬ সেপ্টেম্বর বাঁশখালী আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক সাজ্জাদ হোসেন ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজ বৃহস্পতিবার ৫ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, বাঁশখালী থানার সাধনপুরের লটমনি পাহাড়ে জঙ্গী আস্তানা গড়ে তোলা ও অবৈধ অস্ত্রের যোগান সংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট রাতে ঢাকার ধানম-ি থেকে সুপ্রীমকোর্টের ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল হামজা ব্রিগেড নেতা মনিরুজ্জামান ডনের চট্টগ্রামের তিনটি ব্যাংকের এ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা জমা দেয়ার।

অপরদিকে ওই তিন আইনজীবীর অর্থ জমাদানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতার হয় ব্যবসায়ী এনামুল। এ ব্যবসায়ীও জঙ্গী নেতা ডনের এ্যাকাউন্টে ১৬ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ডনের এ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে চারটি ব্যাংকের এ্যাকাউন্টে। এর মধ্যে জঙ্গী অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া চারজনের পক্ষ থেকে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকার হিসাব মিলেছে। বাকি রয়েছে আর মাত্র ১৪ লাখ টাকার হিসাব। এই ১৪ লাখ টাকার পেছনে কার অর্থায়ন রয়েছে তা নিয়ে তথ্য কালেকশনে নেমেছে র‌্যাবের গোয়েন্দা টিম।

র‌্যাব সেভেনের এএসপি ও বাঁশখালী ও হাটহাজারী থানার দুটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নুরুল আমিন জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত তিন আইনজীবীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই ব্যবসায়ী এনামুলের বিষয়টি উঠে এসেছে। এনামুলের অর্থায়ন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করায় এ জঙ্গী সংগঠনের আরও বেশকিছু তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।