২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইস্যুমূল্যের নিচে ১২ কোম্পানির শেয়ার দর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থার কারণে প্রতিনিয়তই বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আর এটি সম্ভব হয়েছে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিয়ে কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির কারণে। সম্প্রতি কোম্পানিগুলো বাজারে এসেছে তার চেয়ে কম দরে শেয়ার লেনদেন হচ্ছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ১২টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ লেনদেন শুরুর পর বছর না ঘুরতেই বরাদ্দ মূল্যের (ইস্যুমূল্য) নিচে নেমে আসছে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর।

ইস্যুমূল্যের নিচে দর চলে আসা কোম্পানিগুলো হলো : আরডি ফুড, জাহিন টেক্সটাইল, বারাকা পাওয়ার, ইউনিক হোটেল, জিবিবি পাওয়ার, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ওরিয়ন ফার্মা, আরগন ডেনিমস, হামিদ ফেব্রিক্স, ফারইস্ট নিটিং এবং দ্য পেনিনসুলা চিটাগাং লিমিটেড।

ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে নির্ধারিত মূল্যে বা ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত ৫৬টি কোম্পানির মধ্যে ১২টি কোম্পানির শেয়ার দর বরাদ্দ মূল্যের নিচে নেমে এসেছে, যা তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৮ টাকা ইস্যুমূল্যের আরডি ফুড তালিকাভুক্ত হলেও বর্তমানে এর শেয়ার দর ১৪.৩০ টাকা। জাহিন টেক্সটাইলের বর্তমান শেয়ার দর ২২.৯০ টাকা। অথচ কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ২৫ টাকায় বাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৬০ টাকা ইস্যুমূল্যের বারাকা পাওয়ারের বর্তমান শেয়ার দর ৩৩.৭০ টাকা। এছাড়া ৬৫ টাকার ইউনিক হোটেলসের শেয়ার দর ৫২.২০ টাকা, ৪০ টাকার জিবিবি পাওয়ারের শেয়ার দর ১৮.৮০ টাকা, ২৫ টাকার জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ার দর ১৩.২০ টাকা, ২৫ টাকার প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার দর ১৯.৪০ টাকা, ৬০ টাকার ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার দর ৩৮.৮০ টাকা, ৩৫ টাকার আরগন ডেনিমসের শেয়ার দর ২৭.২০ টাকা, ৩৫ টাকার হামিদ ফেব্রিক্সের শেয়ার দর ২৬.৪০ টাকা, ২৭ টাকার ফারইস্ট নিটিংয়ের শেয়ার দর ২৫.৭০ টাকা এবং ৩০ টাকার দ্য পেনিনসুলা চিটাগাং লিমিটেডের শেয়ার দর ২০.৬০ টাকায় অবস্থান করছে।

এর মধ্যে কয়েকটি কোম্পানির দর বরাদ্দ মূল্যের প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এমনকি অভিহিত মূল্যের নিচেও নেমে আসার ঘটনাও ঘটেছে। বরাদ্দ মূল্যের নিচে নেমে আসা সব কোম্পানিই প্রিমিয়াম মূল্যে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে।

এদিকে ইস্যু দরের নিচে নেমে আসায় এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের লক্ষ্যে যারা এ সব কোম্পানির শেয়ার ধরে রেখেছেন তাদের লোকসানের পাল্লা ভারি হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মৌলভিত্তির দিক থেকে দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও অনেক কোম্পানিকে প্রিমিয়ামের মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।