১৮ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৮ম পে-স্কেল

একটা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে সরকারী কর্মক্ষেত্রে মেধাবীদের আগ্রহ কম কিংবা তারা আসছে না। এর অন্যতম কারণ কাক্সিক্ষত বেতন-ভাতা পাওয়া যায় না। দেখা যায়, বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যাংক-বীমা এবং বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মেধাবীরা বেশি আকর্ষিত হচ্ছে। এ কথা সত্য যে, সৎ জীবনের প্রতি যারা উদ্বুদ্ধ তাদের প্রচলিত বেতনে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বজায় রেখে চলা কষ্টকরই। তাই তাদের লক্ষ্য থাকে আকর্ষণীয় বেতনের দিকে। এখন ৮ম পে-স্কেল মেধাবীদের সরকারী চাকরিতে কতটা আগ্রহ জাগাবে তা দেখার বিষয়। আরেকটা বিষয় বলা হচ্ছে, দুর্নীতি রোধে এই বেতন বৃদ্ধি অনন্য ভূমিকা রাখবে। এ কথা সত্য, দুর্নীতি সরকারের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে। অবশ্য ঢালাওভাবে সব সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা ঠিক নয়। বহু সরকারী কর্মকর্তা আছেন যারা মানুষের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ। তারপরও এই বেতন বৃদ্ধি যদি সরকারী কর্মীদের দুর্নীতি থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলে এই মুহূর্তে এর চেয়ে ভাল উদ্যোগ আর কিছু হতে পারে না। এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দেশের সাধারণ মানুষ এবং সরকার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বেতন বৃদ্ধি একজন দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিকে রাতারাতি সাধু বানিয়ে ফেলা সম্ভব, এমনটি আশা করা কতটা যুক্তিযুক্ত তাও দেখার বিষয়। এর জন্য সরকারের আলাদা মনিটরিং ব্যবস্থা থাকা জরুরী।

মূল বেতন দ্বিগুণ করে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়ায় সবাই খুশি। ছয় বছর পর নতুন স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা, সর্বশেষ পে-স্কেলে ছিল ৪০ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন বেতন ৮২৫০ টাকা, গত পে-স্কেলে ছিল ৪১০০ টাকা। নবেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন চাকরিজীবীরা। চলতি বছর বেতন পরিশোধ করতে সরকারের ব্যয় হবে ৪৪ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। এই প্রথম সরকারী কর্মীরা তাদের বেতনের শতকরা ২০ ভাগ পাচ্ছে বাংলা নববর্ষের ভাতা হিসেবে। ইনক্রিমেন্ট বন্ধ, বছরে বেতনের শতকরা হারে বেতন বাড়বে। বাড়ছে পেনশন সুবিধা। বেতন বৃদ্ধির এই বিষয়টি ইতিবাচক। কারণ ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গতি রাখা, মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা, কর্মক্ষেত্রের ধারাবাহিক সমৃদ্ধি, কর্মীদের কর্মদক্ষতা, ক্ষমতা ও উন্নতি অব্যাহত রাখার স্বার্থে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত সঙ্গতিপূর্ণ। এটি সরকারের সময়োচিত ও যৌক্তিক পদক্ষেপ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পৃথক পে-স্কেলের দাবির বিষয়টি তেমন একটা গুরুত্ব পায়নি। উপরন্তু নতুন পে-স্কেলের কারণে সরকারী আমলাদের চেয়ে শিক্ষকদের মর্যাদা কয়েক ধাপ নেমে যাবে। জাতি গঠনে শুধু নয়, আমলা গঠনেও যাদের অবদান অনস্বীকার্য তাদের প্রতি সুবিচারই কাম্য।

সর্বশেষ পে-স্কেল দেয়া হয়েছিল ২০০৯ সালে। এবার ২০১৫ সালে। এর মধ্যে সরকারের আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি কর্মচারীদেরও ব্যয় বেড়েছে। গত অর্থবছরে সরকারের বাজেট ছিল ২ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার, চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বেতন বৃদ্ধির ফলে চলতি অর্থবছরে সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এই বেতন বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষকে বেশি বইতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, সরকারী খাতের বেতন বৃদ্ধি পেলে সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ে। এই বেতন স্কেল ঘোষণার পর বাড়িভাড়া, নিত্যদিনের বাজারদর থেকে শুরু করে উৎপাদিত বা বিক্রয়যোগ্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, নতুন পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতি ঘটবে। তারপরও সবার প্রত্যাশা সরকারের উদ্যোগটি সফল হোক, সরকারী চাকরিজীবীরা দুর্নীতিমুক্ত থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে দেশসেবার দৃষ্টান্ত রাখবে।